ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সোমবার (৮ জুন) সকালে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আনুষ্ঠানিক দায় স্বীকার করেছে। হুতিদের সামরিক উইং থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তারা ইসরায়েলি শত্রুর একাধিক সংবেদনশীল লক্ষ্যবস্তুকে নিশানা করে একঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র (মিসাইল ব্যারেজ) নিক্ষেপ করেছে। হুতিদের দাবি, তাদের এই বিশেষ অভিযান অত্যন্ত নিখুঁতভাবে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তু অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) সোমবার ভোরেই নিশ্চিত করেছিল, ইয়েমেন থেকে ধেয়ে আসা একটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রকে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মাঝআকাশে সফলভাবে প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে।
হামলার পরপরই লোহিত সাগরে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান নৌ-রুটে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এক সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা করেছে হুতি গোষ্ঠীটি। তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে, আমরা লোহিত সাগরে ইসরায়েলি পতাকাবাহী ও তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল প্রকার বাণিজ্যিক ও সামুদ্রিক নৌ-চলাচলের ওপর একটি পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করছি। এই বিবৃতি প্রকাশের মুহূর্ত থেকে শত্রুপক্ষের যেকোনো ধরনের নৌ-আনাগোনাকে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য সম্পূর্ণ বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এর আগেও গাজা সংকটের জের ধরে লোহিত সাগরের এই গুরুত্বপূর্ণ শিপিং লেনে আন্তর্জাতিক পণ্যবাহী জাহাজে ক্রমাগত ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়ে বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থাকে চরম স্থবিরতার মুখে ফেলেছিল এই হুতি আন্দোলন। গত এপ্রিলের সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর সোমবারের এই নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং লোহিত সাগরে পুনরায় ইসরায়েলি জাহাজ চলাচলের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনা ঘটে।
/কহু