অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসের ক্ষতি

নাঈমুল ইসলাম

ইসলাম

খাবার মানুষের শক্তির জোগান দেয়। তবে অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ উপকারের পরিবর্তে ক্ষতি ডেকে আনে। ইসলামে খাদ্য গ্রহণে যেমন উৎসাহ দেওয়া

2026-06-08T14:36:58+00:00
2026-06-08T14:36:58+00:00
 
  সোমবার, ৮ জুন ২০২৬,
২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
ইসলাম
অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসের ক্ষতি
নাঈমুল ইসলাম
প্রকাশ: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ২:৩৬ পিএম   (ভিজিট : ৮)
সংগৃহীত ছবি
খাবার মানুষের শক্তির জোগান দেয়। তবে অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ উপকারের পরিবর্তে ক্ষতি ডেকে আনে। ইসলামে খাদ্য গ্রহণে যেমন উৎসাহ দেওয়া হয়েছে, তেমনি অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ ও অপচয় করা থেকে নিরুৎসাহ করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা পানাহার করো, কিন্তু অপচয় করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না’ (সুরা আরাফ : ৩১)।

হজরত মিকদাম ইবনে মাদিকারাব (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, পেটের চেয়ে মন্দ কোনো পাত্র মানুষ ভরাট করে না। পিঠের দাঁড়া সোজা রাখতে কয়েক লোকমা খাবারই আদম সন্তানের জন্য যথেষ্ট। আর বেশি খাবার ছাড়া যদি তা সম্ভব না হয়, তা হলে পেটের এক-তৃতীয়াংশ খাবারের জন্য, এক-তৃতীয়াংশ পানির জন্য আর বাকি অংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য রাখবে।’ (তিরমিজি : ২৩৮৩)

উপরোক্ত হাদিসে পরিমিত খাবারের প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে। কারণ অপরিমিত খাবার মানুষকে দুর্বল ও অসুস্থ করে ফেলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের ৮০ শতাংশ রোগব্যাধি খাবারের কারণেই হয়ে থাকে। অপরিমিত খাবারই মানুষকে দিন দিন মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। সাহাবায়ে কেরামও অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ পছন্দ করতেন না। হজরত আতিইয়াহ বিন আমির আল-জুহানি (মাকবুল) থেকে বর্ণিত, আমি সালমান (রা.)-এর কাছে শুনেছি, তাকে আহার করতে পীড়াপীড়ি করা হলে তিনি বলতেন, আমার জন্য যথেষ্ট যে আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, দুনিয়াতে যেসব লোক ভূরিভোজন করে, তারাই হবে কেয়ামতের দিন অধিক ক্ষুধার্ত (ইবনে মাজাহ : ৩৩৫১)। অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘কাফের ও অবিশ্বাসী সাত আঁতে আহার করে অর্থাৎ বেশি পরিমাণ খায়, আর মুমিন এক আঁতে আহার করে অর্থাৎ কম খায়।’ (বুখারি : ৫৩৯৩)
আরও পড়ুন

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা গবেষকদের মতে, অতিরিক্ত ভোজনের প্রাথমিক ফল হচ্ছে ডায়াবেটিস। কেননা বেশি খাওয়ার কারণে লালগ্রন্থিকে বেশি কাজ করতে হয়। এ কারণে অভ্যন্তরীণ আর্দ্রতা রস কমে যায় এবং রক্তে চিনির পরিমাণ বেড়ে যায়। অধিক ভোজন রক্তের চাপ বৃদ্ধির আরেকটি অত্যাবশ্যকীয় কারণ। কেননা ডায়াবেটিস এবং ব্লাড প্রেশার পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। অধিক ভোজনের কারণে প্যারালাইসিস হয়ে থাকে। এতে রক্তবাহী শিরাগুলো সংকীর্ণ হয়ে যায়। ফলে রক্ত চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হয়। এভাবে যখন শিরাগুলো সংকীর্ণ হয়ে পড়ে, তখন সংশ্লিষ্ট অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অনুভূতিহীন হয়ে যায়। আর এ অবস্থা মস্তিষ্কের কোনো অংশে হঠাৎ প্রকাশ পেলে মানুষ প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়। আর অধিক ভোজনের ফলে অসময়ে বার্ধক্যে পতিত হয়ে থাকে। কেননা বেশি খেলে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো যথাযথভাবে কাজ করতে পারে না। ফলে মানুষ নির্দিষ্ট সময়ের আগেই দুর্বল বা শক্তিহীন হয়ে যায় এবং তাকে অতি অল্প বয়সেই বৃদ্ধ বলে মনে হয়। অধিক ভোজনের কারণে শরীর মোটা বা স্থূল হয়ে থাকে। এই অবস্থায় বহুবিধ রোগব্যাধি হয়ে থাকে। মানুষের কোমর সোজা রাখার জন্য কয়েক লোকমা খাদ্যই যথেষ্ট। আর একান্তই যদি বেশি খাওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে তা হলে পেটের এক-তৃতীয়াংশ খাদ্য, এক-তৃতীয়াংশ পানি দ্বারা পূর্ণ করে বাকি এক ভাগ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য খালি রাখতে হবে, যা রাসুল (সা.)-এরই নির্দেশ ছিল। আমাদের কর্তব্য, খাবারসহ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রাসুল (সা.)-এর সুন্নতকে আঁকড়ে ধরা। তবেই আমরা অর্জন করতে পারব পার্থিব ও পরকালীন সুন্দর জীবন।

এএডি/


Loading...
Loading...
ইসলাম- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: