ইসলামে ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত ও নফল প্রভৃতি রোজা রয়েছে। রোজা আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রিয় একটি ইবাদত। কেননা রোজা রাখা হয় আল্লাহ তায়ালার জন্য। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘মানুষের প্রতিটি আমলের প্রতিদান তার নিজের জন্য, কিন্তু রোজা এর ব্যতিক্রম; এটা শুধু আমার জন্য, আমিই তার প্রতিদান দেব’ (মুসলিম : ২৭৬০)।
রোজার এত মর্যাদার কারণ হচ্ছে, এটি এমন এক আমল, যাতে লোকদেখানো ভাবের সুযোগ থাকে না। এটি বান্দা ও আল্লাহর মধ্যকার একটি গোপন বিষয়। নামাজ, হজ, জাকাতসহ অন্য ইবাদত-বন্দেগি কে কীভাবে সম্পাদন করছে তা দেখা যায়। পরিত্যাগ করলেও বোঝা যায়। কিন্তু রোজার ক্ষেত্রে লোকদেখানো বা শোনানোর সুযোগ থাকে না। ফলে রোজার মধ্যে ইখলাস, আন্তরিকতা বা আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠতা নির্ভেজাল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
এতেই প্রতীয়মান হয় যে, রোজার ফজিলত ও গুরুত্ব কতটুকু! আল্লাহ তায়ালা রমজানের রোজাকে প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ করেছেন। রোজার মানত করলে সেটাও পালন করা আবশ্যক। আল্লাহর রাসুল (সা.) রমজানের রোজা ছাড়াও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন উপলক্ষে এবং বিশেষ দিনে রোজা রেখেছেন। তন্মধ্যে সোম ও বৃহস্পতিবার রেখেছেন বিশেষ গুরুত্বসহকারে। সাহাবিদেরও এ দুদিন রোজা রাখার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছেন।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার আল্লাহ তায়ালার কাছে বান্দার আমলগুলো পেশ করা হয়। সুতরাং আমার আমলগুলো যেন রোজা পালনরত অবস্থায় উপস্থাপিত হয়- এটাই আমার পছন্দনীয়’ (তিরমিজি : ৭৪৭)। হজরত আবু কাতাদা আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত অন্য একটি হাদিসে রয়েছে, আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে সোমবার রোজা রাখার কারণ জিগ্যেস করলে তিনি বলেন, ‘এদিনে আমি জন্ম নিয়েছি এবং এদিনেই আমার ওপর প্রথম কুরআন নাজিল হয়েছে’ (মুসলিম : ২৮০৭; আবু দাউদ : ২৪২৮)।
হজরত রাবিয়া বিনতে গাজ (রহ.) হজরত আয়শার (রা.) কাছে আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর নফল রোজা রাখার ব্যাপারে জিগ্যেস করলে তিনি জবাবে বলেছিলেন, ‘আল্লাহর রাসুল (সা.) সোম ও বৃহস্পতিবারে রোজা রাখার ব্যাপারে খুবই তৎপর ও মনোযোগী ছিলেন।’ (ইবনে মাজাহ : ১৭৩৯)
সপ্তাহে দুদিন অর্থাৎ সোম ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখলে মিলবে অনেক ফজিলত ও মর্যাদা। রোজায় আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জিত হয়। হাদিসে এসেছে, এ দুই রোজায় আল্লাহ তায়ালা বান্দার থেকে জাহান্নামকে একশ বছরের দূরত্বে হটিয়ে রাখবেন (সিলসিলাতুস আহাদিসিস সহিহা : ৬/২৫৬৫)। নিয়মিত যে এ রোজাগুলো রাখবে আল্লাহ তায়ালা সে বান্দা এবং জাহান্নামের মাঝে আসমান ও জমিনের দূরত্ব সমান খন্দক তৈরি করে রাখবেন (সিলসিলাতুস আহাদিস সহিহা : ২/৫৬৩)।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) যখন বলেছিলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাকে অতি উত্তম কোনো নেক আমলের নির্দেশ দিন। রাসুলুল্লাহ (সা.) তখন বলেছিলেন, ‘তুমি রোজা রাখো। কারণ এর সমমর্যাদার আর কোনো আমল নেই’ (নাসায়ি : ২৫৩৪)। মোদ্দাকথা হচ্ছে, সপ্তাহে এ দুদিন যেহেতু বান্দার আমলগুলো আল্লাহ তায়ালার কাছে পেশ করা হয়, তাই আমরা চেষ্টা করব আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর অনুসরণে সপ্তাহে এ দুদিন রোজা রেখে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করার।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি