যুক্তরাষ্ট্রকে হটিয়ে পর্যটন অর্থনীতিতে বিশ্বের শীর্ষ স্থান দখল করার পথে রয়েছে চীন। ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিলের (ডব্লিউটিটিসি) নতুন এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটির মতে, চীন বিশ্বের বৃহত্তম আউটবাউন্ড ট্রাভেল (দেশ থেকে বিদেশে ভ্রমণ) মার্কেট হতে যাচ্ছে।
২০২৬ সালের ইকোনমিক ইমপ্যাক্ট রিসার্চের (ইআইআর) তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামোগত বিনিয়োগ কীভাবে পর্যটন খাতে বিশাল প্রবৃদ্ধি আনতে পারে, চীন তা বিশ্বকে দেখিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫০টিরও বেশি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত থাকার মেয়াদ ৩০ দিন পর্যন্ত বাড়ানো, বিমান ও রেল যোগাযোগে বিনিয়োগ এবং প্রবেশপথে বায়োমেট্রিক সিস্টেম চালুর মতো পদক্ষেপের কারণেই আরও বেশি আন্তর্জাতিক পর্যটক এখন চীনে ভ্রমণ করছেন।
২০২৫ সালে ৬৮ মিলিয়নেরও বেশি বিদেশি পর্যটক চীন সফর করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ১৫.৫ শতাংশ বেশি। এ সময় বিদেশি পর্যটকদের ব্যয়ও ১০.৫ শতাংশ বেড়ে ১৩৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা করোনা মহামারির আগের অবস্থাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
ডব্লিউটিটিসি জানিয়েছে, অগ্রগতিশীল নীতি সংস্কার এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের কারণেই এই ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হয়েছে। পর্যটন খাতকে চীন সরকার তাদের জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির একটি প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে।
সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে পূর্ব এশিয়ার এই দেশটির পর্যটন ব্যয় ২২.৫ শতাংশ বেড়ে প্রায় ২৮০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে।
ব্যবসায়িক ভ্রমণের ক্ষেত্রেও চীন বিশ্বব্যাপী দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। এ খাতে তাদের ব্যয়ের পরিমাণ ১৯২ বিলিয়ন ডলার।
২০২৬ সালে পর্যটন-সংক্রান্ত প্রবণতার পূর্বাভাস দিতে অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের সঙ্গে যৌথভাবে এই গবেষণা প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
ডব্লিউটিটিসি জানিয়েছে, নতুন নতুন পর্যটন জোন, সাংস্কৃতিক আকর্ষণ এবং থিম পার্কগুলো 'চীনের পর্যটন খাতকে বৈচিত্র্যময় করে তুলছে এবং বিশ্বমঞ্চে তাদের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০৩৬ সাল নাগাদ বিশ্বব্যাপী পর্যটন খাতে তৈরি হওয়া প্রতি পাঁচটি নতুন চাকরির একটি হবে চীনে। আগামী এক দশকে এই খাতে ৬.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যার ফলে এই খাতের আকার প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৩.৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ডব্লিউটিটিসির প্রেসিডেন্ট ও সিইও গ্লোরিয়া গ্যেভারা বলেন, নির্দিষ্ট কিছু নীতি সংস্কার কীভাবে বিদেশি পর্যটকদের চাহিদা বাড়াতে পারে এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি আনতে পারে, চীনের ঘুরে দাঁড়ানোই তার বড় প্রমাণ। এই গতি ধরে রাখতে হলে ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, চীন যদি এই পথেই এগোতে থাকে, তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা পর্যটন অর্থনীতিতে বিশ্বের শীর্ষ দেশে পরিণত হবে।
সময়ের আলো/আআ