বকেয়া বেতনের দাবিতে রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত মহাখালী-তেজগাঁও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন নাসা গ্রুপের প্রায় ৫০০ পোশাক শ্রমিক।
সোমবার (৮ জুন) বিকেল ৪টার দিকে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা রাজপথে অবস্থান নিলে উক্ত সড়কে সব ধরণের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে দ্রুতই আশপাশের অন্যান্য সংযোগ সড়কগুলোতে তীব্র যানজট ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বকেয়া পাওনার দাবিতে শ্রমিকরা হঠাৎ করে মহাখালী ও তেজগাঁও সংযোগকারী মূল সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকার ট্রাফিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ সড়কটি সচল করার লক্ষ্যে আন্দোলনরত শ্রমিকদের বুঝিয়ে রাজপথ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য ক্রমাগত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার অফিসার ইনচার্জ ‘ওসি’ মাহবুবুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে জানান, নাসা গ্রুপের সংশ্লিষ্ট পোশাক কারখানাটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে এবং শ্রমিকরা এখনো তাদের এক মাসের বকেয়া বেতন পাননি।
কারখানাটির বর্তমান সংকটের কথা উল্লেখ করে ওসি বলেন, ‘এই গ্রুপের মূল মালিকরা বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তাদের সম্পত্তি আদালতে নির্দেশে নানা মামলায় জব্দ করা হয়েছে। এখন মালিকপক্ষের কেউ এমন নেই যে যাদের সঙ্গে আমরা কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করব। আর বকেয়া বেতন পাওয়া শ্রমিকদেরও আমরা কি আশ্বাস দেব সেই বিষয়ে বুঝতে পারছি না। যেহেতু মালিকপক্ষের সঙ্গে আমরা কোনো ধরনের যোগাযোগ করতে পারছি না।’
পুলিশ প্রশাসন আরও স্পষ্ট করেছে যে মালিকপক্ষের সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিনিধির অনুপস্থিতি এবং আইনি জটিলতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে বকেয়া পরিশোধের বিষয়ে শ্রমিকদের কোনো জোরালো আশ্বাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তা সত্ত্বেও রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম এই সড়কটিতে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি রোধে পুলিশ তাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
সময়ের আলো/টিএইচ