সরকারের প্রথম ১০০ দিনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনের বিষয়ে মন্তব্য করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেছেন, টিআইবির প্রতিবেদন মূলত পত্রিকার কাটিংয়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয় এবং সংস্থাটি নিজস্ব তদন্ত পরিচালনা করে না। প্রতিদিন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদগুলো আমরা পর্যবেক্ষণ করি। কোনো ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ তদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
তবে টিআইবির প্রতিবেদন যেহেতু পত্রিকার কাটিংনির্ভর, সে বিষয়ে আমি মন্তব্য করতে চাই না। সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক সময়ে দেশব্যাপী সাড়া জাগানো তিনটি ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের প্রশংসনীয় অবদান ও কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান শেষে প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী তিনটি বিশেষ কৃতিত্বপূর্ণ ঘটনায় সর্বমোট ১৫ জন পুলিশ সদস্যের হাতে সনদ ও আর্থিক পুরস্কার তুলে দেন। পুরস্কারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রত্যেককে মন্ত্রণালয়ের বিশেষ তহবিল থেকে ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া করা হয় এবং ৩ জন নৌপুলিশ সদস্যকে আইজি ব্যাজ প্রদান করা হয়।
ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী বলেন, অতীতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন সচরাচর দেখা যায়নি। সাধারণত রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স বা পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের বার্ষিক অনুষ্ঠানে এ ধরনের পদক বা ব্যাজ প্রদান করা হয়ে থাকে। তবে মাঠপর্যায়ে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের তাৎক্ষণিক মনোবল বৃদ্ধি এবং নৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের আইনিব্যবস্থা বজায় রাখা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।
রোববার টিআইবি প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বর্তমান সরকারের প্রথম ১০০ দিনে দেশে ৬০৫টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। একই সময়ে ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২০৯ জন নারী ও শিশু।
এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমার সামনে টিআইবির সেই রিপোর্টটি নেই। তবে আমরা নিয়মিত মাসভিত্তিক অপরাধ পরিসংখ্যান সংরক্ষণ করি। ডাকাতি, হত্যা, খুন ও ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধের তথ্য জেলা পর্যায় থেকে সংগ্রহ করা হয়। কয়েক দিন আগে পাওয়া এক প্রতিবেদনে দেখেছি, ২০২৫ সালের তুলনায় বর্তমান সময়ে বিভিন্ন অপরাধের হার কমেছে এবং পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
টিআইবির মূল্যায়ন সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে কি না এ প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, টিআইবি সরকারি সংস্থা নয়। তারা পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করে। আমাদের কাছে পুলিশের মাঠপর্যায়ের তথ্য রয়েছে, যা জেলা থেকে সংগ্রহ করা হয়। আমরা সেটাকেই প্রকৃত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করি। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সব তথ্য যে শতভাগ সঠিক হবে, এমন নয়।
তবে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনাগুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করে এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়।
পুলিশি তদন্তে বরাদ্দের সীমাবদ্ধতা নিয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা অপ্রতুল অর্থ বরাদ্দ পান উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুলিশের আর্থিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
ভবিষ্যতে তদন্ত কার্যক্রম, পোস্টমর্টেম রিপোর্ট এবং পুলিশি টহলের জন্য বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়ে আমরা চেষ্টা করব।
পলাতক পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি জানান, আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশকে জনগণের বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। ভালো কাজের স্বীকৃতি এবং অনিয়মের জন্য শাস্তি- এই নীতির ভিত্তিতে বাহিনী পরিচালিত করা হচ্ছে। পুলিশ যাতে জনগণের প্রত্যাশা ও আইনের শাসনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দায়িত্ব পালন করতে পারে, সে বিষয়ে সরকার কাজ করছে।
সময়ের আলো/জেডি