বাংলা গানের কিংবদন্তি সুরকার ও সংগীতশিল্পী লাকী আখান্দের জন্মদিনে তাকে নানা আয়োজনে স্মরণ করেছেন ভক্ত, অনুরাগী ও সহশিল্পীরা। এই বিশেষ দিনে কিংবদন্তি এই শিল্পীকে নিয়ে প্রায় ২৬ বছর আগের এক অজানা ও আবেগঘন গল্প শোনালেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী বাপ্পা মজুমদার।
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে বাপ্পা মজুমদার ‘দলছুট’ ব্যান্ডের কালজয়ী অ্যালবাম ‘হৃদয়পুর’-এর একটি গানের পেছনের ইতিহাস তুলে ধরেন।
তিনি জানান, অ্যালবামের জনপ্রিয় ‘গাছ’ গানটিতে অ্যাকর্ডিয়ান বাজিয়েছিলেন স্বয়ং লাকী আখান্দ। এতদিন এই তথ্যটি শ্রোতা ও ভক্তদের অজানা ছিল।
স্মৃতিচারণ করে বাপ্পা মজুমদার লেখেন, ২০০০ সালের দিকে যখন ‘হৃদয়পুর’ অ্যালবামের কাজ চলছিল, তখন শেখ রানার লেখা ‘গাছ’ গানটির সুর ও সংগীতায়োজন শেষ করার পর একটি অ্যাকর্ডিয়ানের সুরের প্রয়োজন অনুভব করেন তিনি। কিন্তু তৎকালীন সময়ে এই বাদ্যযন্ত্রটি সহজে পাওয়া যাচ্ছিল না।
খোঁজ নিয়ে বাপ্পা জানতে পারেন, লাকী আখান্দের সংগ্রহে একটি অ্যাকর্ডিয়ান রয়েছে। এরপর রেকর্ডিং স্টুডিও থেকেই সাহস সঞ্চয় করে সরাসরি ফোন করেন এই কিংবদন্তিকে।
বাপ্পা মজুমদার লিখেছেন, “বহু সাহস সঞ্চয় করে বললাম, ‘লাকী ভাই, একটা অ্যাকর্ডিয়ান লাগবে। কোথাও পাচ্ছি না, কী করবো?’ উনি বললেন, ‘আরে, আমার কাছেই তো আছে বাপ্পা!’”
বাদ্যযন্ত্রের সন্ধান মিললেও সেটি বাজানোর মতো কাউকে পাচ্ছিলেন না বাপ্পা। ফোনে লাকী আখান্দকে সেই সমস্যার কথা বলতেই অপেক্ষা করছিল এক বড় চমক। বাপ্পার ভাষ্য, “আমি বললাম, কাউকে তো পাচ্ছি না! তখন তিনি বললেন, ‘কেন? আমি বাজাব!’ আমি স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। ভাবতেই পারিনি এমন একজন কিংবদন্তি শিল্পী নিজে এসে বাজানোর কথা বলবেন।”
পরবর্তীতে নির্ধারিত দিনে নিজের অ্যাকর্ডিয়ান নিয়ে স্টুডিওতে হাজির হন লাকী আখান্দ এবং গানটির জন্য সুর তোলেন। সেই অবিস্মরণীয় মুহূর্তের কথা স্মরণ করে বাপ্পা লেখেন, “আমি আর সঞ্জীব দা (সঞ্জীব চৌধুরী) মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। আনন্দে যেন কথাই বলতে পারছিলাম না। গানটার আবেগই বদলে গিয়েছিল লাকী ভাইয়ের বাজানোয়। ‘খোলা আকাশ, একটি গাছ’ গানে শ্রোতারা যে অ্যাকর্ডিয়ানের সুর শুনেছেন, সেটা লাকী ভাইয়ের নিজের হাতে, তাঁর নিজের অ্যাকর্ডিয়ানে বাজানো।”
পোস্টের শেষাংশে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে এই সুরস্রষ্টাকে স্মরণ করে বাপ্পা লেখেন, “এক অপার্থিব আনন্দ নিয়ে গভীর রাতে বাসায় ফিরেছিলাম। সারা রাত গানটি শুনেই কেটে গিয়েছিল। আহা লাকী ভাই! ভালো থাকুন, যেখানেই থাকুন। শ্রদ্ধা।”
উল্লেখ্য, বাংলা সংগীতাঙ্গনের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ লাকী আখান্দ। তাঁর অনন্য সুর, সংগীতায়োজন ও কণ্ঠের জাদুতে তৈরি অসংখ্য গান চার দশক ধরে শ্রোতাদের হৃদয়ে দোলা দিয়ে যাচ্ছে।
সময়ের আলো/জেডি