রাজধানীর পল্লবীতে আলোচিত শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দম্পতি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে কারা বিধি অনুযায়ী ‘কনডেম সেলে’ স্থানান্তর করা হয়েছে। রায় ঘোষণার পর তাদের পৃথক দুটি কারাগারে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (৯ জুন) কারা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পুরুষ আসামি সোহেল রানাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার (কেরানীগঞ্জ) এবং নারী আসামি স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের জন্য নির্ধারিত বিশেষ সেলেই তাদের অবস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে।
কারা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দীদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্থিতি বিবেচনায় সাধারণ বন্দিদের তুলনায় বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। তবে তাদের একা রাখা হয় না। একই ধরনের সাজাপ্রাপ্ত আরও কয়েকজন বন্দির সঙ্গে নির্দিষ্ট সেলে রাখা হয়, যাতে তারা মানসিকভাবে বিচ্ছিন্ন না হয়ে পড়েন এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো যায়।
আরও পড়ুন
এদিকে আলোচিত এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়েছে নজিরবিহীন দ্রুততায়। গত ১৯ মে সংঘটিত নৃশংস ঘটনার পরপরই দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবির মুখে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া অল্প সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করা হয়।
মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে অভিযোগপত্র জমা দেয়। পরে আদালতে অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ, আত্মপক্ষ সমর্থন এবং যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণা করা হয়। পুরো বিচারিক কার্যক্রম শেষ হতে সময় লেগেছে মাত্র ১৭ দিন।
রায়ে আদালত সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, শিশুটিকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং অপরাধ সংঘটনের পর ঘটনাটি গোপন করার চেষ্টারও প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এএডি/