প্রথমবার ১২টি পারমাণবিক ওয়ারহেড মোতায়েন করল ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বিশ্বের শীর্ষ অস্ত্র পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (সিপ্রি)

2026-06-09T17:36:35+00:00
2026-06-09T17:36:35+00:00
 
  মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬,
২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক
প্রথমবার ১২টি পারমাণবিক ওয়ারহেড মোতায়েন করল ভারত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৫:৩৬ পিএম   (ভিজিট : ২৯)
ভারত পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারে ‘প্রথমে হামলা না করার’ নীতি মেনে চলে। ছবি : এনডিটিভি
ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বিশ্বের শীর্ষ অস্ত্র পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (সিপ্রি) সর্বশেষ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারত প্রথমবারের মতো ১২টি পারমাণবিক ওয়ারহেড মোতায়েন করেছে। 

সোমবার প্রকাশিত সিপ্রি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি ভারতের দীর্ঘদিনের নীতির একটি বড় পরিবর্তন। এতদিন দেশটি শান্তিকালে পারমাণবিক ওয়ারহেড এবং সেগুলোর উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা আলাদাভাবে সংরক্ষণ করত। কিন্তু এবার প্রথমবারের মতো ভারতের কিছু পারমাণবিক অস্ত্রকে ‘অপারেশনালি মোতায়েনকৃত’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে, যা আগে কেবল মজুত অস্ত্রভাণ্ডারের অংশ হিসেবে বিবেচিত হতো।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র সাইলো এবং নতুন পারমাণবিক সাবমেরিনে তাৎক্ষণিক ব্যবহারের উপযোগী পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের মাধ্যমে ভারত তার প্রস্তুতির মাত্রা বাড়িয়েছে।

সিপ্রি বলছে, এই ১২টি ওয়ারহেড মোতায়েনের অর্থ হলো প্রথমবারের মতো ভারত পারমাণবিক ওয়ারহেডকে তাদের উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করেছে অথবা সেগুলোকে সক্রিয় সামরিক ঘাঁটিতে স্থাপন করেছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত এক বছরে ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে দেশটি একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী পারমাণবিক সাবমেরিনে (এসএসবিএন) সীমিত সংখ্যক ওয়ারহেড মোতায়েন করেছে এবং প্রতিরোধমূলক সমুদ্র টহল পরিচালনা করেছে।

সিপ্রির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ভারতের কাছে প্রায় ১৯০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড ছিল, যা আগের বছরের তুলনায় সামান্য বেশি। এসব অস্ত্র বিমান, স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং পারমাণবিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন নিয়ে গঠিত ভারতের ক্রমবিকাশমান ‘নিউক্লিয়ার ট্রায়াড’-এর অংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ধারণা করা হতো ভারত শান্তিকালে তার পারমাণবিক ওয়ারহেডগুলো উৎক্ষেপণ যন্ত্র থেকে আলাদা করে সংরক্ষণ করে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষেপণাস্ত্রকে ক্যানিস্টারে সংরক্ষণ এবং সমুদ্রভিত্তিক প্রতিরোধমূলক টহল পরিচালনার ফলে ধারণা করা হচ্ছে, ভারত শান্তিকালেও কিছু ওয়ারহেডকে উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত রাখার নীতির দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

উল্লেখ্য, পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভারত ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ বা ‘প্রথমে ব্যবহার নয়’ নীতি অনুসরণ করে। এই নীতির আওতায় ভারত কখনোই প্রথমে পারমাণবিক হামলা চালাবে না। তবে ভারতের ভূখণ্ড বা বিশ্বের যেকোনো স্থানে অবস্থানরত ভারতীয় বাহিনীর ওপর পারমাণবিক হামলা হলে দেশটি পাল্টা জবাব হিসেবে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে।

ভারত বরাবরই সীমিত কিন্তু কার্যকর পারমাণবিক সক্ষমতা বজায় রাখার কথা বলে এসেছে। দেশটির দাবি, এই সক্ষমতার উদ্দেশ্য অস্ত্র প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া নয়; বরং সম্ভাব্য প্রতিপক্ষকে নিরুৎসাহিত করার জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।


সূত্র : এনডিটিভি 

/ইউএমএইচ





  বিষয়:   ভারত  ওয়ারহেড 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: