এবার ৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বসানো হচ্ছে প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনীতি

দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও চরম অব্যবস্থাপনায় অচল হয়ে পড়া দেশের পাঁচটি ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পর্ষদ ভেঙে প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে

2026-06-09T21:43:53+00:00
2026-06-09T21:43:53+00:00
 
  মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬,
২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
অর্থনীতি
এবার ৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বসানো হচ্ছে প্রশাসক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৯:৪৩ পিএম   (ভিজিট : ৯)
সংগৃহীত ছবি
দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও চরম অব্যবস্থাপনায় অচল হয়ে পড়া দেশের পাঁচটি ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পর্ষদ ভেঙে প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে সংকটে থাকা আরও চারটি প্রতিষ্ঠানকে ঘুরে দাঁড়াতে আগামী তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছে। 

মঙ্গলবার (৯ জুন) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রশাসক নিয়োগের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ‘এফএএস ফাইন্যান্স’, ‘ফারইস্ট ফাইন্যান্স’, ‘আভিভা ফাইন্যান্স’, ‘পিপলস লিজিং’ এবং ‘ইন্টারন্যাশনাল লিজিং’। অন্যদিকে লাইসেন্স বাতিল বা অবসায়নের হাত থেকে বাঁচতে তিন মাস সময় পাওয়া বাকি চারটি প্রতিষ্ঠান হলো ‘বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি’, ‘প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স’, ‘জিএসপি ফাইন্যান্স’ এবং ‘প্রাইম ফাইন্যান্স’।

বন্ধের তালিকায় থাকা পাঁচটি সংস্থায় প্রায় ২৭ হাজার ব্যক্তিগত আমানতকারীর ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা আটকে রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথমে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করে প্রশাসক নিযুক্ত করা হবে এবং পরবর্তীতে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হবে। এই প্রক্রিয়ায় প্রাথমিক ধাপে ক্ষুদ্র আমানতকারীরা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাবেন। তিন মাস সময় পাওয়া বাকি চার প্রতিষ্ঠানকে এই মেয়াদের মধ্যে গ্রাহকদের আসল টাকা ফেরত দেওয়ার সক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে, অন্যথায় সেগুলোর বিরুদ্ধেও একই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, সংকটে থাকা মোট নয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক আমানত মিলিয়ে ১৫ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা জমা রয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৫২৫ কোটি টাকা সাধারণ ক্ষুদ্র গ্রাহকদের এবং বাকি ১১ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকের। এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে সরকারের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা। ‘ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন ২০২৩’ এর ৭(১) ও ৭(২) ধারা অনুযায়ী আমানতকারীদের স্বার্থহানি ও মূলধন ঘাটতির দায়ে এই লাইসেন্স বাতিলে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে এফএএস ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ। এছাড়া ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে ৯৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ, ফারইস্ট ফাইন্যান্সে ৯৮ দশমিক ৫০ শতাংশ, পিপলস লিজিংয়ে প্রায় ৯৫ শতাংশ এবং আভিভা ফাইন্যান্সে ৯৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে। বর্তমানে দেশের ৩৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২০টিই গুরুতর সমস্যায় জর্জরিত, যাদের মোট ঋণের ৮৩ দশমিক ১৬ শতাংশই খেলাপি। এর বিপরীতে ভালো অবস্থানে থাকা ১৫টি প্রতিষ্ঠান ২০২৪ সালে ১ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা মুনাফা করেছে।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বিগত ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নজিরবিহীন জালিয়াতি ও লুটপাটের কারণে এই খাতের বর্তমান বিপর্যয় নেমে এসেছে। আলোচিত পি কে হালদারের অপকর্মের কারণে পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং ও এফএএস ফাইন্যান্স বড় সংকটে পড়ে। অপরদিকে আভিভা ফাইন্যান্স ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী এস আলমের নিয়ন্ত্রণাধীন। গত বছরই এই নয়টি প্রতিষ্ঠানকে অপরিচালনযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করে লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হলেও সরকার ও গভর্নর পরিবর্তনের কারণে তা কিছুটা ধীর হয়ে পড়েছিল।

সময়ের আলো/টিএইচ


Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: