ইসলামী ব্যাংকের ভবিষ্যৎ বিএনপির হাতেই নিরাপদ : অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-র ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং বর্তমান সরকারের হাতেই সবচেয়ে নিরাপদ বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির

2026-06-09T21:47:01+00:00
2026-06-09T21:47:01+00:00
 
  মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬,
২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
জাতীয়
ইসলামী ব্যাংকের ভবিষ্যৎ বিএনপির হাতেই নিরাপদ : অর্থমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৯:৪৭ পিএম   (ভিজিট : ১৭)
সংগৃহীত ছবি
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-র ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং বর্তমান সরকারের হাতেই সবচেয়ে নিরাপদ বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদে ব্যাংকটির বর্তমান পরিস্থিতি ও পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে বিরোধী দলের আনা প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, এই ব্যাংকটির গোড়াপত্তন করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, তাই এর মর্যাদা ও আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের বিভিন্ন নোটিশের জবাব ও ব্যাংকিং খাতের সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় অর্থমন্ত্রী একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, একটি অশুভ মহল ব্যাংকটিকে ব্যর্থ করার যে অপচেষ্টা চালাচ্ছে, তা কঠোরভাবে রুখে দেওয়া হবে এবং ইসলামী ব্যাংককে নিয়ে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বা উচ্ছৃঙ্খলতা সহ্য করা হবে না। 

বিরোধী দলীয় সদস্যদের বক্তব্যের জবাবে তিনি আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংক থেকে অর্থ আত্মসাতের যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তার কোনো ভিত্তি নেই। কোনো কোনো বিরোধী দলীয় নেতা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে গোল্ড মেডেল দাবি করলেও পুরো বিতর্কের মূল সূত্রপাত হয়েছে বিগত নির্বাচন থেকে, যেখানে অনেক প্রার্থী দৃশ্যমান কোনো আয়ের উৎস ছাড়া অবিশ্বাস্য রকমের টাকা খরচ করেছেন।

বিরোধী দলের পক্ষ থেকে ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যানের চরিত্র নিয়ে করা সমালোচনার জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটি সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব বিষয়, তবে বাংলাদেশ ব্যাংক তদন্ত করে অনিয়মের কোনো প্রমাণ পায়নি। তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, বিশ্বের কোনো ব্যাংকের গ্রাহকই চেয়ারম্যানের নাম দেখে টাকা লেনদেন করে না, বরং আমানতের নিরাপত্তা ও সঠিক লভ্যাংশ পাওয়াই গ্রাহকের মূল লক্ষ্য। ফলে চেয়ারম্যান পরিবর্তনের কারণে ইসলামী ব্যাংক থেকে ২–৩ হাজার কোটি টাকা উত্তোলন হয়ে যাওয়ার দাবিটি সম্পূর্ণ অবান্তর। প্রকৃতপক্ষে ব্যাংকের ভেতরে ও বাইরে একটি উগ্র গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে মিছিল ও বিশৃঙ্খল কর্মসূচি পরিচালনা করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

ইসলামী ব্যাংকের প্রকৃত আর্থিক অবস্থার একটি নিখুঁত পরিসংখ্যান তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দল ফ্যাসিবাদ পরবর্তী সময়ে এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকের মুনাফা ১০৮ কোটি টাকা থেকে ১৩৭ কোটি টাকায় উন্নীত হওয়ার যে দাবি করছে, তা মূলত ‘উইন্ডো ড্রেসিং’ বা কৃত্রিমভাবে দেখানো মুনাফা। খেলাপি ঋণের বিপরীতে বিশাল অংকের প্রভিশন পরবর্তী বছরের জন্য স্থগিত সুবিধা নিয়ে এই মুনাফা দেখানো হয়েছিল। 

প্রকৃতপক্ষে ২০২৫ সালের শেষে ইসলামী ব্যাংকের শ্রেণীকৃত বা খেলাপি ঋণ ৯৪ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা ব্যাংকের মোট ঋণ পোর্টফোলিওর ৫১ শতাংশ। ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর যেখানে ব্যাংকটি ৬৯ হাজার কোটি টাকার প্রভিশন স্থগিত সুবিধা নিয়েছিল, সেখানে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮৪ হাজার কোটি টাকায়, যার ফলে ২০২৬ সালের প্রথম দিকে ব্যাংকটি কোনো মুনাফা করতে পারেনি, উল্টো প্রায় ২৬৮ কোটি টাকা নিট লোকসান গুনেছে।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিগত স্বৈরশাসকের সময় যখন ইসলামী ব্যাংক জোরপূর্বক দখল করা হয়েছিল, তখনও সাধারণ গ্রাহকরা তাদের আমানত তুলে নেননি, সুতরাং এখন চেয়ারম্যান পরিবর্তনের কারণে গ্রাহকরা টাকা তুলে চলে যাচ্ছেন—এই যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। 

বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই ব্যাংকটিকে তার প্রকৃত ও বৈধ মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ করছে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সংস্কার কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করার জন্য একটি রাজনৈতিক মহল দেশজুড়ে ‘মবোক্রেসি’ বা উশৃঙ্খলতার সংস্কৃতি তৈরি করতে চাচ্ছে। বর্তমান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন পর একজন যোগ্য গভর্নর দায়িত্ব পেয়েছেন এবং তাকে ঋণগ্রস্ত বলে যারা খাটো করার চেষ্টা করছেন তারা মূলত ভালো কাজকে স্বীকৃতি দিতে চান না। সংসদে উপস্থিত প্রায় সব সদস্যই কোনো না কোনোভাবে ব্যাংকের কাছে ঋণগ্রস্ত, সুতরাং ঋণ থাকা কোনো অপরাধ নয়।

শেষে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সবসময় আর্থিক শৃঙ্খলায় বিশ্বাসী এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন বলেই এই ব্যাংকের ভবিষ্যৎ বিএনপির হাতে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত। দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করে সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যেতে ফিন্যান্সিয়াল সেক্টরের গুরুত্ব সরকার অক্ষরে অক্ষরে বোঝে। দেশের মানুষকে হতাশ করে এমন কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি না করতে বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের স্বার্থে কাজ করার এবং তুচ্ছ ইস্যু নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান।

সময়ের আলো/টিএইচ


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: