আগামী ২১ জুন মালয়েশিয়া এবং ২৩ জুন চীন সফরে যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফর দুটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে ঢাকা, কুয়ালালামপুর ও বেইজিংয়ের কূটনৈতিক মহল সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দুই দেশের সঙ্গে এক ডজনেরও বেশি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্র জানায়, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর এটিই সরকারের প্রধানের প্রথম দ্বিপক্ষীয় বিদেশ সফর। সফরের শুরুতে ২১ জুন মালয়েশিয়া পৌঁছাবেন তিনি, এরপর ২২ জুন সকালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। মানবসম্পদ, হালাল খাদ্য, প্রতিরক্ষা, সেমিকন্ডাক্টর, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে। একই সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশি ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গেও পৃথক বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে।
ঢাকায় নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মুহাম্মাদ শুহাদা বিন ওসমান সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সফর প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠক করেছেন বলে জানা গেছে। মালয়েশিয়া সফর শেষে একই সফরসূচির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী চীন সফরে যাবেন (সূচিতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে)। পররাষ্ট্র সচিব বর্তমানে বেইজিংয়ে প্রস্তুতিমূলক আলোচনা চালাচ্ছেন।
চীন সফরে উন্নয়ন সহযোগিতা, বাণিজ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সংস্কৃতির পাশাপাশি পূর্বাচলে বিশ্বমানের হাসপাতাল নির্মাণ, মোংলা বন্দর উন্নয়ন, পানি ব্যবস্থাপনা ও রোহিঙ্গা সংকটসহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু আলোচনায় আসবে। এ ছাড়া তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা প্রকল্প ও চীনা বিনিয়োগ সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
চীন বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগ (জিডিআই), বৈশ্বিক নিরাপত্তা উদ্যোগ (জিএসআই) ও বৈশ্বিক সভ্যতা উদ্যোগে (জিসিআই) বাংলাদেশের অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়। তবে ঢাকা এ বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে না গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের অবস্থান নিয়েছে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান বলেন, এ সফরগুলো দুই দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ধারাবাহিকতা রক্ষার পাশাপাশি নতুন সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করবে। তবে এসব সফর কেবল আনুষ্ঠানিক না করে দেশের স্বার্থে ফলপ্রসূভাবে পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সময়ের আলো/আআ