প্রায় দুই দশকের বিরতির পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ জাতীয় বাজেট আজ জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের এই বাজেটকে দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত দলিল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এটি হবে তার প্রথম বাজেট এবং বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম জাতীয় বাজেট।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব আদায়ে চাপ, বেসরকারি বিনিয়োগে ধীরগতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে নতুন সরকারের জন্য এই বাজেট একটি বড় পরীক্ষা। সরকারের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার এবং আগামী বছরের নীতিগত দিকনির্দেশনা এই বাজেটের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।
আরও পড়ুন
প্রস্তাবিত বাজেটের আকার প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা হতে পারে, যা বাস্তবায়িত হলে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জাতীয় বাজেট হিসেবে বিবেচিত হবে। এতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে সম্ভাব্য বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।
সরকারি সূত্রগুলো বলছে, আগামী অর্থবছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হতে পারে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে রাখার পরিকল্পনাও বাজেটে প্রতিফলিত হতে পারে।
উন্নয়ন ব্যয়েও বড় ধরনের বরাদ্দের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে প্রায় ১ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ও সহায়তা থেকে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।
এবারের বাজেটের অন্যতম আকর্ষণ হতে পারে কর ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আয়কর কাঠামোতে পরিবর্তনের মাধ্যমে মধ্যবিত্ত করদাতাদের জন্য স্বস্তি, নতুন উদ্যোক্তা ও তরুণদের জন্য প্রণোদনা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থাপনায় করনীতির মাধ্যমে ইতিবাচক প্রভাব আনার চেষ্টাও থাকবে।
উল্লেখ্য, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সর্বশেষ জাতীয় বাজেট উপস্থাপিত হয়েছিল ২০০৬-০৭ অর্থবছরে। তখন অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন এম সাইফুর রহমান। প্রায় ১৯ বছর পর দলটির নেতৃত্বে আবারও পূর্ণাঙ্গ জাতীয় বাজেট সংসদে উত্থাপিত হচ্ছে, যা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সংসদ সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন। নতুন নির্বাচিত অনেক সংসদ সদস্যের জন্য এটিই হবে বাজেট অধিবেশনে অংশগ্রহণের প্রথম অভিজ্ঞতা। ফলে জাতীয় সংসদের এ অধিবেশন ঘিরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
এএডি/