সরকারের প্রথম পরীক্ষা

শাহনেওয়াজ

জাতীয়

বর্তমানে সাধারণ মানুষ নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে চরম ভোগান্তিতে রয়েছে। মূল্যস্ফীতি এখনও উচ্চ পর্যায়ে অবস্থান করছে। রাজস্ব আয়ে সন্তোষজনক প্রবৃদ্ধি নেই,

2026-06-11T00:53:10+00:00
2026-06-11T01:06:45+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬,
২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
জাতীয়
বাজেট ২০২৬-২৭
সরকারের প্রথম পরীক্ষা
শাহনেওয়াজ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ১২:৫৩ এএম  আপডেট: ১১.০৬.২০২৬ ১:০৬ এএম  (ভিজিট : ১৭)
গ্রাফিক : সময়ের আলো
বর্তমানে সাধারণ মানুষ নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে চরম ভোগান্তিতে রয়েছে। মূল্যস্ফীতি এখনও উচ্চ পর্যায়ে অবস্থান করছে। রাজস্ব আয়ে সন্তোষজনক প্রবৃদ্ধি নেই, অন্যদিকে বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতেও বিরাজ করছে অস্থিরতা, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। এমন ভঙ্গুর অর্থনৈতিক বাস্তবতায় মাত্র চার মাস আগে শুরু হয়েছে বিএনপি সরকারের যাত্রা। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের বিভিন্ন শর্ত পূরণের চাপ রয়েছে। ব্যাংক খাতে এখনও পুরোপুরি শৃঙ্খলা ফিরে আসেনি।

এমন বহুমাত্রিক চাপ ও টানাপোড়েনের মধ্যেই ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রথম অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন এ সরকারের প্রথম বাজেট।
 
দেশের অর্থমন্ত্রীকে অর্থনীতির নানা চাপ সামাল দিতে হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। এ নিয়ে ইতিমধ্যে নানা সমালোচনা রয়েছে। তবে সেই সমালোচনাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেই তিনি আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন করেছেন, যা আজ জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। নতুন অর্থবছরকে সামনে রেখে অর্থমন্ত্রী যেমন আশার কথা শুনিয়েছেন, তেমনি স্বীকার করেছেন সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জও রয়েছে। তার ভাষায়, ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধারই এখন সবচেয়ে বড় কাজ। সেই লক্ষ্যেই বিনিয়োগ ও সরকারি ব্যয় বাড়িয়ে বড় বাজেট প্রস্তাব করা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী চলতি অর্থবছরের বাজেট সম্পর্কে গত বছর বলেছিলেন, ‘এই বাজেট আগের সরকারের ধারাবাহিকতা। বাজেটের আকার আরও ছোট হওয়া উচিত ছিল। আগামী দিনের সরকারের জন্য পথ মোটেও সহজ হবে না।’

অর্থনীতিবিদদের মতে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট কেবল একটি আর্থিক দলিল নয়; এটি সরকারের সক্ষমতার প্রথম রাজনৈতিক পরীক্ষাও।

সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চাপ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ সর্বশেষ মে মাসের তথ্য অনুযায়ী মূল্যস্ফীতির হার ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ।

মূল্যস্ফীতির পর অর্থমন্ত্রীর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি। সে কারণেই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের আকার বাড়ানো হচ্ছে। প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। ব্যয়ের সঙ্গে আয়ের পূর্ণ সামঞ্জস্য কোনো অর্থবছরেই থাকে না। ফলে বাজেট ঘাটতি থেকেই যায়। তবে সেই ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা থাকে সবসময়।

আগামী অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে আদায়ের লক্ষ্য ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। এনবিআর-বহির্ভূত কর রাজস্ব ধরা হয়েছে ২৫ হাজার কোটি টাকা এবং কর-বহির্ভূত আয় ৬৬ হাজার কোটি টাকা। ভ্যাটের আওতা সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগের মাধ্যমে রাজস্ব আয়ের পথ আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আগামী অর্থবছরে পরিচালন ব্যয় ধরা হচ্ছে ৬ লাখ ৫ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা। এর অন্যতম বড় খাত ঋণের সুদ পরিশোধ, যার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। পাশাপাশি ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ ঋণ খাতে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ১ লাখ ১৭ হাজার ১২৫ কোটি টাকা।

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের জন্য বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ৩ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা আসবে সরকারি তহবিল থেকে এবং বাকি ১ লাখ ৯ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা আসবে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে। আগামী এডিপিতে মোট প্রকল্পের সংখ্যা ধরা হয়েছে ১ হাজার ১২১টি।

প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি কমানোর ইচ্ছা থাকলেও প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি থেকে যাবে। এই ঘাটতি মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে ব্যাংক ঋণ হতে পারে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা, সঞ্চয়পত্র থেকে ১৯ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ১ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া অনুদান হিসেবে পাওয়া যেতে পারে ৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় ব্যাংক ও বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরতা আরও বাড়ছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে ঋণের বিকল্প অর্থায়নের উৎস হিসেবেও নজর দেওয়া হয়েছে। নির্মিত ও নির্মাণাধীন সেতু এবং বড় অবকাঠামো প্রকল্পের বিপরীতে বন্ড ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পদ্মা ও যমুনাসহ বড় অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে শরিয়াহভিত্তিক ইসলামি বন্ড বা সুকুক ইস্যুর বিষয়ে ইতিমধ্যে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, সংস্কারমূলক বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে আগামী দিনে রাজস্ব আয় বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাজস্ব সংগ্রহ বাড়াতে ভ্যাটের আওতা আরও বিস্তৃত করা হবে। মুদি দোকান থেকে ক্ষুদ্র শিল্প ও ব্যবসাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভ্যাট ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারে। বর্তমানে অনেক নতুন উদ্যোক্তা ট্রেড লাইসেন্স বা ব্যাংকে চলতি হিসাব ছাড়াই ব্যবসা পরিচালনা করেন। আগামী অর্থবছর থেকে বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (বিন) বাধ্যতামূলক করা হতে পারে। একই সঙ্গে ব্যাংক হিসাব খুলতেও টিআইএন নম্বর প্রয়োজন হতে পারে। রাজস্ব বাড়ানোর উদ্যোগের মধ্যে উৎসে কর ব্যবস্থায় পরিবর্তন এবং বিদ্যমান সারচার্জের পরিবর্তে সম্পদ কর চালুর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

আগামী বাজেটে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমানোরও চেষ্টা রয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে নতুন কর আরোপ না করার চিন্তা রয়েছে, যাতে ভোক্তারা তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে এসব পণ্য কিনতে পারেন। সাধারণ রোগীদের কথা বিবেচনায় রেখে কিডনি ডায়ালাইসিস যন্ত্রপাতি আমদানির ওপর অগ্রিম কর প্রত্যাহারের প্রস্তাবও আসতে পারে।

বর্তমান বিএনপি সরকার গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু করে। আগামী অর্থবছরেও এসব কর্মসূচি অব্যাহত রাখা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন ভাতা কর্মসূচির পরিধি বাড়াবে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য চালু করা ভাতা কর্মসূচির আওতাও সম্প্রসারিত হবে। আগামী অর্থবছরে আরও ১ হাজার ৮৫৭ জনকে এই ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

দরিদ্র, প্রান্তিক ও ঝুঁকিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি বাড়াতে আগামী অর্থবছরে আটটি নতুন কর্মসূচি চালুর সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় কর্মসূচি ফ্যামিলি কার্ড। আগামী অর্থবছরে ৪১ লাখ নারীপ্রধান পরিবারকে এই কার্ড দেওয়া হবে। প্রতিটি পরিবার মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা পাবে। এ খাতে ব্যয় হবে ১২ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা।

এ ছাড়া কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় ৪২ লাখ ৫০ হাজার কৃষককে বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়া হবে। এ জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয়ে কর্মরত ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, সেবাইত, বিহার অধ্যক্ষ ও খাদেমদের সম্মানী ভাতা নতুন কর্মসূচির তালিকাভুক্ত। পাশাপাশি কর্মহীন শ্রমিক সুরক্ষা কর্মসূচি, ভিজিএফ কার্যক্রমের পুনর্বিন্যাস, খাল খনন এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

প্রস্তাবিত বাজেটে জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধীদের ভাতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বয়স্ক ও বিধবা ভাতা মাসিক ৬৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হতে পারে। একই সঙ্গে উপকারভোগীর সংখ্যা ৬১ লাখ থেকে ৬২ লাখে উন্নীত করার প্রস্তাব রয়েছে। প্রতিবন্ধী ভাতাও ৯০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করা হতে পারে। অর্থাৎ সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রায় সব ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে উপকারভোগীর সংখ্যা ও সহায়তার পরিমাণ বাড়ানো হচ্ছে।

জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এককালীন আর্থিক সহায়তা ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।

এদিকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল আগামী জুলাই থেকে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রায় ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন পে-স্কেলের আওতায় আসতে যাচ্ছেন। তবে এটি একবারে নয়, তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। এ লক্ষ্যে বাজেটে অতিরিক্ত ৩৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। প্রথম ধাপে সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী, বিচার বিভাগ এবং বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ সুবিধা পাবেন। অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ এবং সংশ্লিষ্ট ভাতাগুলো পরবর্তী দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে।

প্রস্তাবিত বাজেটে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে কিছু না কিছু স্বস্তির বার্তা দেওয়ার চেষ্টা রয়েছে। এর মধ্যে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের স্বস্তি দিতে বার্ষিক করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে পৌনে ৪ লাখ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। পরবর্তী দুই বছর এ সীমা ৪ লাখ টাকা নির্ধারণের পরিকল্পনাও রয়েছে। একই সঙ্গে ২০৩০-৩১ অর্থবছর পর্যন্ত করমুক্ত আয়সীমার একটি রূপরেখা দেওয়ার চিন্তা করছে সরকার।

ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ আকর্ষণে বিভিন্ন খাতে কর ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নারী উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ কর সুবিধা রাখা হতে পারে। কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয় করমুক্ত রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। একই সঙ্গে ফ্রিল্যান্সারদের আয়কে প্রবাসী আয়ের স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব থাকতে পারে। সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনাও রয়েছে।

কৃষিপণ্য ও ভোগ্যপণ্য সরবরাহে বর্তমানে করদাতাদের ৫ শতাংশ, কোনো ক্ষেত্রে ২ শতাংশ বা ১ শতাংশ উৎসে কর দিতে হয়। আগামী বাজেটে এ হার কমিয়ে দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। এ সুবিধার আওতায় ধান, চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি ও ভোজ্য তেলসহ বিভিন্ন পণ্য অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে উৎপাদন ও সরবরাহ খাতে ব্যাপক কর সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ২০৩৫ সালের জুন পর্যন্ত এ খাতে আয়ের ওপর আয়কর অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে। নারী উদ্যোক্তাদের টার্নওভার করের ক্ষেত্রে করমুক্ত সীমা ৫০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৭০ লাখ টাকা করার প্রস্তাবও রয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় কোম্পানির ভোজ্য তেল উৎপাদনে আগামী ১০ বছর কর অব্যাহতি সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারের পরিকল্পনায় আরও রয়েছে, ২০৩০ সাল পর্যন্ত আমদানিতে শুল্ক ও কর সুবিধা দেওয়া। এর আওতায় দেশে উৎপাদিত মুঠোফোন, ফ্রিজ, এসি, ওয়াশিং মেশিন, এটিএম ও সিসি ক্যামেরা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সুবিধা পেতে পারে। অন্যদিকে কিছু বিদেশি পণ্য, যেমন- কাজুবাদাম, হিমায়িত মাছ, দেশি-বিদেশি মদ, এমএস রড এবং অন্যান্য বিলাসপণ্যের দাম বাড়তে পারে। এ ছাড়া তামাকজাত পণ্য ও সিগারেটের দামও বাড়তে পারে।

অপরদিকে জীবনরক্ষাকারী ওষুধ, চিকিৎসাসামগ্রী, সৌর প্যানেল, বৈদ্যুতিক গাড়ি, ই-বাইক, হাইব্রিড গাড়ি, নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু পণ্য, দেশে উৎপাদিত টেলিভিশন, এসি, ফ্রিজ, গৃহস্থালি পণ্য, কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টার, ল্যাপটপ, কম্পিউটার ও মনিটরের দাম কমতে পারে। বাজেটে শর্তসাপেক্ষে কালো টাকা সাদা করার সীমিত সুযোগ থাকবে। এ ক্ষেত্রে ক্রেতা ও বিক্রেতা- উভয় পক্ষকে আয়কর রিটার্নে সম্পদের প্রকৃত মূল্য ঘোষণা করতে হবে।

এডিপি বরাদ্দ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করতে হলে বিনিয়োগ ও সরকারি ব্যয় বাড়াতে হবে। বর্তমান অবস্থা থেকে অর্থনীতিকে ঊর্ধ্বমুখী করতে না পারলে স্থবিরতা আরও বাড়বে। প্রস্তাবিত বাজেটে গ্রামের মানুষ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, নারী ও কৃষকদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ রাখা হচ্ছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশে ‘এক গ্রাম, এক পণ্য’ কর্মসূচি চালু করা হতে পারে। আগামী অর্থবছরে সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত ১০টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের তালিকায় কৃষি মন্ত্রণালয় রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান জানিয়েছেন, এবারের বাজেট হবে জনবান্ধব, ব্যবসাবান্ধব এবং অর্থনীতিবান্ধব।

সময়ের আলো/আআ



  বিষয়:   সরকার  বাজেট  অর্থনীতি  পরীক্ষা  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: