মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সামরিক সংঘাত আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। মার্কিন বিমান হামলার পাল্টা জবাবে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
একই সঙ্গে বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত একাধিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে জোরালো ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান।
এ ঘটনার পর হরমুজ প্রণালিতে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, যার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তাৎক্ষণিকভাবে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আইআরজিসি দাবি করেছে— হরমুজ প্রণালি অবৈধভাবে অতিক্রম করার চেষ্টা করায় দুটি তেলের ট্যাঙ্কারে এই হামলা চালানো হয়। এর পাশাপাশি বাহরাইনের শেখ ইসা বিমান ঘাঁটি এবং কুয়েতের আলি আল সালেম ও আহমদ আল জাবের বিমান ঘাঁটিতেও সফল ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরান।
এর আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে তীব্র সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়ার পরপরই দেশটির অন্যতম প্রধান বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসসহ বেশ কয়েকটি শহরে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাজধানী তেহরানের পশ্চিমাঞ্চলে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।
মূলত মঙ্গলবার (৯ জুন) হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর গুলিতে একটি মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার পর থেকেই এই সংঘাতের সূত্রপাত। এর জের ধরে ওই রাতেই মার্কিন বিমানবাহিনী ইরানের মূল ভূখণ্ডের বেশ কিছু সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়। এর প্রতিঘাত হিসেবেই ইরান জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের এই সমন্বিত পাল্টা হামলা শুরু করে।
এদিকে, বুধবার (১০ জুন) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেন, ‘নতুন চুক্তির বিষয়ে আলোচনার টেবিলে ইরান ইচ্ছাকৃতভাবে সময়ক্ষেপণ করছে। এই একগুঁয়েমির জন্য দেশটিকে চড়া মূল্য দিতে হবে।’
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দফায় দফায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে তেহরান। ইরানি প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওয়াশিংটনের এমন আগ্রাসী ভূমিকার কারণে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান ‘কূটনৈতিক যোগাযোগ’ পুনর্মূল্যায়ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
উভয় পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি হামলা ও চরম যুদ্ধংদেহী মনোভাবের মধ্যেও ওয়াশিংটন ও তেহরানকে শান্ত করতে এবং আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মধ্যস্থতা করতে বুধবার (১০ জুন) কাতারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ইরানের রাজধানী তেহরানে পৌঁছেছে।
সময়ের আলো/জেডি