মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তুরস্ক ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন।
তিনি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তইয়ব এরদোয়ান সম্পর্কে বলেন, তিনি আমার খুব ভালো বন্ধু, আমরা একসঙ্গে ভালোভাবে কাজ করেছি, আমি তাকে খুব পছন্দ করি।
ট্রাম্প আরও জানান, আঙ্কারা ও তেলআবিবের মধ্যে সংঘাতের কোনো সম্ভাবনার কথা তিনি শোনেননি। তবে যদি এমন কিছু ঘটে, তাহলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি মিটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন বলে জানান।
তিনি বলেন, আমি যদি এমন কিছু শুনি, আমি তাকে ফোন করব এবং আমার মনে হয় বিষয়টা ঠিক করে ফেলব।
সবশেষে তিনি বলেন, তুরস্কের সঙ্গে এমন কিছু ঘটবে না, আমি প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন এটি ঘটবে না।
এর আগে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিরজব তইয়ব এরদোয়ান বলেছেন, সিরিয়া ও লেবাননে ইসরায়েলের হামলা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তা এখন তুরস্কের নিরাপত্তার জন্যও হুমকি তৈরি করছে। তিনি আরও দাবি করেন, ইসরায়েলের “আগ্রাসন” পুরো বিশ্বের জন্যই বিপজ্জনক এবং এটি থামানো জরুরি।
তুরস্কের ক্ষমতাসীন এ কে পার্টির সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে এরদোয়ান বলেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও তার নেটওয়ার্ক লেবানন ও সিরিয়ায় যে হামলা চালাচ্ছে, তা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যা সরাসরি তুরস্ককেও হুমকির মুখে ফেলছে। তিনি বলেন, আঙ্কারার নিরাপত্তা ওই দুই দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।
এরদোয়ান আরও অভিযোগ করেন, ইসরায়েল আফ্রিকার দেশগুলো এবং ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার জন্য একটি “গোপন পরিকল্পনা” চালাচ্ছে এবং সাইপ্রাস দ্বীপে জাতিগত বিভাজনের সুযোগ নিয়ে “দ্বন্দ্বের আগুন” ছড়িয়ে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, কিছু ছোট রাষ্ট্র, যাদের আকাঙ্ক্ষা তাদের আকারের তুলনায় অনেক বড়, তারা ইসরায়েলের “ষড়যন্ত্রের নৌকায়” উঠেছে এবং পূর্ব ভূমধ্যসাগরে জিওনিস্টদের সহযোগীর ভূমিকা পালন করছে, যদিও তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
সবশেষে তিনি সতর্ক করে বলেন, কেউ যেন কোনো ধরনের “অ্যাডভেঞ্চার” না খোঁজে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তুরস্ক ও তুর্কি সাইপ্রিয়টদের অধিকার লঙ্ঘন করা হলে আঙ্কারার জবাব হবে খুবই স্পষ্ট এবং অত্যন্ত কঠোর।
/ইউএমএইচ