রেলওয়ে ও আঞ্চলিক সংযোগ সম্প্রসারণে সহযোগিতা বাড়াতে তুরস্ক ও সৌদি আরব দুটি পৃথক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে।
চুক্তির ফলে রিয়াদ কার্যত ঐতিহাসিক হেজাজ রেলপথ পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগে পরোক্ষভাবে যুক্ত হলো। এই রেলপথটি তুরস্ক, সিরিয়া, জর্ডান ও সৌদি আরবকে সংযুক্ত করার পরিকল্পনার অংশ। চুক্তি সইয়ের আনুষ্ঠানিক আলোচনায় অংশ নিতে তুরস্কের পরিবহন মন্ত্রী আবদুলকাদির উরালোলু রিয়াদ সফর করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে আমাদের অঞ্চলে যে পরিস্থিতি চলছে, সেখানে বাণিজ্য ও লজিস্টিক চেইনের নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই সময়ে পরিবহন খাতে বাধা দূর করা একটি কৌশলগত প্রয়োজন।
তিনি আরও জানান, আঙ্কারা সিরিয়া, জর্ডান ও ইরাক হয়ে পরিবহন রুট সক্রিয় করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
উরালওগলু বলেন, তুরস্ক থেকে শুরু হয়ে ইরাক হয়ে সৌদি আরব পর্যন্ত দুটি পরীক্ষামূলক যাত্রা এই রুটের বাস্তব সম্ভাবনা প্রমাণ করেছে।
গত বছর থেকে তুরস্ক একাধিকবার বলছে যে তারা ঐতিহাসিক হেজাজ রেলপথ পুনরুদ্ধার করতে চায়, যা একসময় ইস্তাম্বুল থেকে সৌদি আরবের পবিত্র স্থান পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
দীর্ঘমেয়াদে এই রেলপথটিকে ওমান এবং ভারত মহাসাগর পর্যন্ত সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো এমন একটি বিকল্প বাণিজ্য করিডোর স্থাপন করা যা পারস্য উপসাগরের ঝুঁকিপূর্ণ 'হরমুজ প্রণালি'কে এড়াতে পারবে।
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তুরস্ক হয়ে উঠবে উপসাগরীয় অঞ্চল ও ইউরোপের মধ্যবর্তী প্রধান ট্রানজিট হাব, রেল লজিস্টিক বেস এবং জ্বালানি ও বাণিজ্য করিডোরের মিলনস্থল।
এই ধারাবাহিকতায় গত এপ্রিলে তুরস্ক, সিরিয়া এবং জর্ডান একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি সই করেছিল, যার লক্ষ্য ছিল আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং সড়ক, রেল, সমুদ্র ও আকাশপথসহ সব ধরণের পরিবহন ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় সাধন করা। এই চুক্তিটির পরিধিতে অবকাঠামো উন্নয়ন, কারিগরি মান নির্ধারণ, ডিজিটালাইজেশন এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ সহজ করার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল।
কিংবদন্তি এই হেজাজ রেলপথটি ছিল মূলত অটোমান সাম্রাজ্যের সুলতান আবদুল হামিদ দ্বিতীয়-এর এক দূরদর্শী স্বপ্ন। ১৯০০ সালে তিনি তুরস্কের ইস্তাম্বুলের সাথে সৌদি আরবের মক্কাকে সরাসরি সংযুক্ত করার জন্য এই রেলপথ নির্মাণের কাজ শুরু করেছিলেন।
ইসলামের দুটি পবিত্রতম শহর মক্কা ও মদিনার অবস্থান আরবের পশ্চিমাঞ্চলীয় যে 'হেজাজ' প্রদেশে, সেই অঞ্চলের নামানুসারেই এই প্রকল্পের নামকরণ করা হয়েছিল।
অত্যন্ত দ্রুত গতিতে নির্মিত এই রেলপথের পুরো অর্থায়ন করা হয়েছিল বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের দেওয়া অনুদানের মাধ্যমে। এর মধ্যে কিছু অনুদান ছিল স্বেচ্ছায় এবং কিছু ছিল বাধ্যতামূলক। ইস্তাম্বুলের সাথে যুক্ত এই মূল রেলপথটি সিরিয়ার দামেস্ক থেকে মদিনা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল এবং এর একটি শাখা লাইন ফিলিস্তিনের হাইফা বন্দর পর্যন্ত পৌঁছেছিল।
/ইউএমএইচ