চাকরির পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে অশান্ত হয়ে উঠেছে ভারতের ঝাড়খণ্ড। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশ লাঠিচার্জের পাশাপাশি জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করায় রাঁচিসহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। কয়েক দফা আলোচনা হলেও এখনো সংকটের সমাধান হয়নি।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সরকারের কাছে দুটি প্রধান দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রথম দাবি, ২০২৪ সালের জেএসএসসি-সিজিএল পরীক্ষা বাতিল করা। দ্বিতীয়ত, জেপিএসসি ও জেএসএসসি আয়োজিত বিতর্কিত পরীক্ষাগুলোতে কথিত অনিয়মের বিষয়ে সিবিআই তদন্ত করা।
শিক্ষার্থীরা শুরু থেকেই জানিয়ে আসছেন, তাদের আন্দোলনের সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক নেই। আন্দোলনকারী ছাত্রনেতা পীযূষ বলেন, তাদের দাবির প্রতি সমর্থন জানানো যে কাউকে তারা স্বাগত জানাবেন, তবে কোনো রাজনৈতিক সংগঠনকে দলগতভাবে সমর্থন করছেন না। পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক করতে মঙ্গলবার দুপুরে আন্দোলনকারীদের কোর গ্রুপ বৈঠক করে। তাদের অবস্থান, দাবিগুলো নিয়ে তারা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সঙ্গে আলোচনা করতে চান।
এর আগে সোমবার গভীর রাতে কোনো প্রটোকল বা নিরাপত্তা ছাড়াই রাঁচির সদর হাসপাতালে যান ঝাড়খণ্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. ইরফান আনসারি। সেখানে তিনি আহত শিক্ষার্থী দেবেন্দ্রনাথ মাহাতসহ অন্যদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। অন্যদিকে, ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপক ভিডিও কলে দেবেন্দ্রনাথের সঙ্গে কথা বলে সহমর্মিতা জানান এবং পুলিশের বলপ্রয়োগের নিন্দা করেন।
ঝাড়খণ্ডের এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে ভারতের সংসদেও। সংসদের মকর দ্বারের সামনে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে দেখা যায় দুই পক্ষকে। এক পক্ষ ‘রাহুল গান্ধী ক্ষমা চান’ স্লোগান দিলে অন্য পক্ষ থেকে ওঠে ‘অমিত শাহ ক্ষমা চান’ স্লোগান।
বিরোধীদের অভিযোগ, দিল্লির যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের ওপর পেলেট গান বা ছররা গুলি এবং পুলিশের কঠোর পদক্ষেপের বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সংসদে জবাব দিতে হবে। এর পাল্টা এনডিএ নেতৃত্বের প্রশ্ন, ঝাড়খণ্ডে জেএমএম-কংগ্রেস জোট সরকারের পুলিশ যখন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে, তখন রাহুল গান্ধী কেন নীরব?
এদিকে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগের প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছে ঝাড়খণ্ড বিজেপি। দলটির ডাকা সকাল ৮টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ১২ ঘণ্টার ধর্মঘটে রাঁচির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অবরোধ ও টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন সমর্থকেরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এগিয়ে এলে কয়েকটি স্থানে তাদের সঙ্গে বিজেপি কর্মীদের ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।
এর ফলে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে এবং যান চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। বন্ধ রয়েছে অধিকাংশ স্কুল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।
ঝাড়খণ্ড বিজেপির রাজ্য সভাপতি আদিত্য সাহু শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের পদক্ষেপকে ‘বর্বর অত্যাচার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। জেএমএম নেতৃত্বাধীন হেমন্ত সোরেন সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য ক্ষোভের সমাধান না করে প্রশাসন অন্যায্যভাবে বলপ্রয়োগের পথ বেছে নিয়েছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ