ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় সড়ক ও বন্দর যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। এতে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি তাদের কাছে খাদ্য, চিকিৎসা ও জরুরি ত্রাণ পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। জাতিসংঘের হিসাবে, সাম্প্রতিক সংঘাতে নতুন করে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ২ লাখ ৩০ হাজার ছাড়াতে পারে। এর আগে থেকেই দেশটিতে ৫২ লাখের বেশি মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত।
তাইজের জাবাল হাবাশি এলাকায় চার বছর পর আবারও তীব্র লড়াই শুরু হলে ৩৯ বছর বয়সী মোহাম্মদ স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে তাইজ শহরে আশ্রয় নেন। আত্মীয়ের বাড়িতে ঠাঁই পেলেও একই এলাকা থেকে পালিয়ে আসা হাজারো মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন অস্থায়ী শিবিরে। সেখানে খাদ্য, চিকিৎসা ও স্যানিটেশনের সংকট রয়েছে।
জাবাল হাবাশি জেলার বাস্তুচ্যুতি শিবির ব্যবস্থাপনা ইউনিটের কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাদমান বলেন, সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাইজসহ সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলোতে মানবিক দুর্ভোগ বেড়েছে। বিকল্প পাহাড়ি সড়ক ব্যবহার করতে গিয়ে যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল হয়ে পড়ায় ত্রাণ সরবরাহও কমেছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্র, চলাচলে বিধিনিষেধ, যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও অবকাঠামোর কারণে ইয়েমেনে জীবনরক্ষাকারী মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সংঘাতের প্রভাব পড়েছে বাণিজ্য ও খাদ্য সরবরাহেও। তাইজ সেন্টার ফর ইয়েমেনি-গালফ স্টাডিজের গবেষক ওয়াফিক সালেহ বলেন, ইয়েমেন খাদ্যপণ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল। ফলে আমদানি ও ত্রাণ সরবরাহ কমে গেলে খাদ্যের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি আরও তীব্র হতে পারে।
জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাতের আগেই আগস্টে গম ও ময়দার আমদানি আগের মাসের তুলনায় ৪৮ শতাংশ কমেছিল। একই সময়ে জ্বালানি আমদানি কমেছে ৬৭ শতাংশ। দেশটির গুরুত্বপূর্ণ মোখা বন্দরও কার্যক্রমের বাইরে থাকায় খাদ্য ও ত্রাণ সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) হিসাবে, ইয়েমেনে ২ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষের জরুরি মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। ২৩ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক মানবিক ও উন্নয়ন সংস্থাগুলো সংকট মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ, ত্রাণ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ইয়েমেনের নেতৃত্বে একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
তবে মাঠপর্যায়ে সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ নেই। হুতিরা তাইজে আরও এলাকা দখলের চেষ্টা চালালে কিংবা সরকারি বাহিনী পাল্টা অভিযান শুরু করলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। এতে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা এবং মানবিক সহায়তার প্রয়োজন—দুটিই আরও বাড়তে পারে।
তাইজ শহরে নিবন্ধিত বাস্তুচ্যুত মোহাম্মদ এখনো কোনো সহায়তা পাননি। তার ভাষায়, ‘এখানে বাস্তুচ্যুত মানুষের যেন শেষ নেই।’
সময়ের আলো/জেডি