ভারতের বার্ষিক কানওয়ার যাত্রা শেষ হলেও এর রেশ কাটেনি উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারে। গঙ্গা থেকে পবিত্র পানি সংগ্রহ করতে আসা বিপুলসংখ্যক তীর্থযাত্রী ফিরে যাওয়ার পর শহরের বিভিন্ন ঘাট ও আশপাশের এলাকায় পড়ে আছে বিপুল পরিমাণ আবর্জনা। কর্তৃপক্ষের হিসাবে, এখন পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার টন বর্জ্য সরিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে নেওয়া হয়েছে।
এবার শ্রাবণ মাসে প্রায় পাঁচ কোটি তীর্থযাত্রী গঙ্গার পানি সংগ্রহের জন্য হরিদ্বারে এসেছিলেন। শিবরাত্রির পর তারা নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে গেলেও রেখে গেছেন কাপড়, প্লাস্টিকের সামগ্রী, পানির বোতলসহ নানা ধরনের বর্জ্য। বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতে হরিদ্বারের ঘাটগুলোতে এসব আবর্জনা ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
শহরের শতাধিক ঘাটের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত হর কি পৌড়ি ঘাটও আবর্জনার কবল থেকে রেহাই পায়নি। এমনকি সেখানে পোশাক পরিবর্তনের কক্ষেও প্রস্রাবে ভরা পানির বোতল পড়ে থাকতে দেখা গেছে। প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, কোনো গ্লাভস বা মাস্ক ছাড়াই পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বেলচা দিয়ে এসব বোতল সরিয়ে নিচ্ছেন।
ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছে। এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ভক্তরা গঙ্গায় পৌঁছাতে দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে আসেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা পবিত্র নদী ও এর আশপাশের এলাকা নোংরা অবস্থায় রেখে যাচ্ছেন— বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।
হরিদ্বারের বিপুল বর্জ্য সরাতে শিবরাত্রির পর রাতভর পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়। হরিদ্বার পৌর কমিশনার নন্দন কুমার জানান, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সব দল একসঙ্গে কাজ করেছে। শুধু ঘাট নয়, পার্কিং এলাকা ও সড়কও পরিষ্কার করা হয়েছে।
তবে বর্জ্যের সমস্যা শুধু হরিদ্বারেই সীমাবদ্ধ নয়। গঙ্গার উৎসস্থল গঙ্গোত্রীতেও কানওয়ার যাত্রা শেষে বিপুল পরিমাণ আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা গেছে। শ্রাবণ মাসে উত্তরকাশীর গঙ্গোত্রী এলাকায় আনুমানিক ৫৭ হাজার তীর্থযাত্রী গিয়েছিলেন। ফেরার সময় তারা কাপড়, প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য ফেলে যাওয়ায় হিমালয়ের সংবেদনশীল পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গঙ্গোত্রীকে প্লাস্টিকমুক্ত এলাকা ঘোষণা করা হলেও সেখানে প্লাস্টিকসহ নানা ধরনের বর্জ্য জমে থাকার বিষয়টি পরিবেশবিধি লঙ্ঘনের চিত্র সামনে এনেছে। বিশেষ করে হিমালয়ের নাজুক প্রতিবেশব্যবস্থা, বনসম্পদ, স্থানীয় উদ্ভিদ ও প্রাণিকুলের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যাত্রা শেষে পরিস্থিতি সামাল দিতে গঙ্গোত্রীতেও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়েছে বন বিভাগ। অভিযানে ৫৭ বস্তা বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তীর্থযাত্রা শেষ হলেও বিপুল বর্জ্য অপসারণ এখন হরিদ্বার ও গঙ্গোত্রী প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ