আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে একদিকে যেমন বেশ কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে কর-সুবিধার পরিকল্পনা রয়েছে, অন্যদিকে নির্দিষ্ট কয়েকটি পণ্য ও খাতে কর বৃদ্ধি ভোক্তাদের জন্য অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে নির্মাণসামগ্রী, তামাকজাত পণ্য, মদ এবং কিছু আমদানিনির্ভর খাদ্যপণ্যের বাজারে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করবেন। বাজেটে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, দেশীয় শিল্প সুরক্ষা এবং উৎপাদন খাতকে উৎসাহ দেওয়ার লক্ষ্য থাকলেও কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে ভোক্তাদের বাড়তি ব্যয় গুনতে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাজেট-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আবাসন ও নির্মাণ খাতে ব্যবহৃত এমএস রডসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের উৎপাদন পর্যায়ে কর ও ভ্যাট বৃদ্ধি করা হতে পারে। এর ফলে রডের উৎপাদন খরচ বাড়বে এবং বাজারমূল্যেও এর প্রভাব পড়তে পারে। নতুন বাড়ি নির্মাণ বা বড় ধরনের অবকাঠামোগত কাজে ব্যয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
আরও পড়ুন
তামাক খাতেও আসছে বড় ধরনের কর পরিবর্তন। সিগারেট উৎপাদনে ব্যবহৃত ফিল্টারের কাঁচামাল এবং নিকোটিনের ওপর উচ্চহারে সম্পূরক শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি উচ্চস্তরের সিগারেটের প্যাকেটের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে। ফলে ধূমপায়ীদের মাসিক ব্যয় আরও বাড়তে পারে।
মদ্যপ পানীয়ের ক্ষেত্রেও কর বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশীয়ভাবে উৎপাদিত অ্যালকোহলের ওপর নতুন সুনির্দিষ্ট ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব থাকায় বাজারে এসব পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আমদানিনির্ভর কিছু খাদ্যপণ্যও কর বৃদ্ধির আওতায় আসতে পারে। উচ্চমূল্যের হিমায়িত মাছ এবং নির্দিষ্ট কিছু বিলাসী খাদ্যপণ্যের ওপর নতুন ভ্যাট আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে এসব পণ্যের আমদানি ব্যয় বাড়বে এবং খুচরা বাজারে মূল্য সমন্বয়ের প্রভাব দেখা যেতে পারে।
এদিকে দেশীয় কৃষকদের সুরক্ষা দিতে কাজুবাদাম আমদানিতে শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর চিন্তা করছে সরকার। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে আমদানিকৃত কাজুবাদামের দাম বাড়তে পারে, যদিও দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয় উৎপাদন উৎসাহিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
এএডি/