ভাতাভোগীদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, ফোন নম্বর পরিবর্তনের নেপথ্যে কারা?

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

সারাদেশ

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় সরকারি ভাতাভোগীদের মোবাইল নম্বর গোপনে পরিবর্তন করে ভাতার অর্থ অন্যের মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ

2026-06-11T12:04:17+00:00
2026-06-11T12:04:17+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬,
২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
সারাদেশ
ভাতাভোগীদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, ফোন নম্বর পরিবর্তনের নেপথ্যে কারা?
ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ১২:০৪ পিএম   (ভিজিট : ১০)
ছবি : সময়ের আলো
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় সরকারি ভাতাভোগীদের মোবাইল নম্বর গোপনে পরিবর্তন করে ভাতার অর্থ অন্যের মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সমাজসেবা অফিসের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ইউপি সদস্যদের একটি চক্র জড়িত থাকতে পারে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, ভাতা আবেদনকালে যে মোবাইল নম্বর তারা জমা দেন, পরে তা পরিবর্তন করে অন্য ব্যক্তির নম্বর যুক্ত করা হচ্ছে। এর ফলে প্রকৃত উপকারভোগীরা সরকারি ভাতার টাকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, আর অর্থ চলে যাচ্ছে অন্যের মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে।

অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু ব্যক্তি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধির যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে এই অনিয়ম চলছে। ভাতার কার্ড করে দেওয়ার সময় অর্থ নেওয়ার পাশাপাশি পরে মোবাইল নম্বর পরিবর্তনের মাধ্যমে অর্থ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

ত্রিশালের রামপুর ইউনিয়নের কাকচর গ্রামের ফজিলা খাতুন জানান, তার প্রতিবন্ধী ছেলে সুমন মিয়ার নামে বরাদ্দকৃত ভাতার টাকা অন্য এক নারীর মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালে আবেদন করার সময় তিনি নিজের মোবাইল নম্বর দিলেও ২০২৬ সালে জানতে পারেন, টাকা যাচ্ছে মোক্ষপুর ইউনিয়নের রোকসানা খাতুন নামে এক ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে। বিষয়টি একাধিকবার সমাজসেবা অফিসে জানালেও কোনো কার্যকর সমাধান পাননি বলে অভিযোগ তার।

ফজিলা খাতুন আরও জানান, ভাতার কার্ড করে দেওয়ার জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহজাহান মুরাদ তার কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা নিয়েছেন।

প্রতিবন্ধী সুমন মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, দুর্ঘটনায় হাত হারানোর পর তিনি চরম অসহায় হয়ে পড়েন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি না থাকায় বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে লিফট অপারেটর হিসেবে কাজ করছেন।

তিনি বলেন, ‘অনেক কষ্টে কার্ড করলেও এখন পর্যন্ত কোনো ভাতার টাকা পাইনি।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি চক্র বিভিন্ন ইউনিয়নের ভাতাভোগীদের তথ্য পরিবর্তন করে অন্য ইউনিয়নের ইউপি সদস্যদের নিয়ন্ত্রণাধীন মোবাইল নম্বরে অর্থ স্থানান্তর করছে। এমনকি অন্যের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে সিম নিবন্ধনের মাধ্যমে প্রতারণা করা হচ্ছে বলেও দাবি তাদের।

তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য শাহজাহান মুরাদ টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও ভাতার টাকা অন্যের নম্বরে যাওয়ার বিষয়টি তিনি আগে জানতেন না বলে দাবি করেন।

ত্রিশাল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান, অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তির নামে দপ্তরে দুটি ভাতার তথ্য রয়েছে। একটি হিসাবে নিয়মিত ভাতার টাকা যাচ্ছে এবং সেখানে একটি নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আবেদনগুলো বাইরে থেকে হওয়ায় একই ব্যক্তির নামে একাধিক তথ্য বা মোবাইল নম্বর পরিবর্তনের ঘটনা ঘটতে পারে। তবে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত সিদ্দিকী বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভাতাভোগীদের অর্থ গোপনে অন্যের হিসাবে স্থানান্তরের এ অভিযোগ স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজসেবা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিষয়টি এখন তদন্তাধীন রয়েছে।

/এসএকে


  বিষয়:   ভাতাভোগীদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ  ফোন নম্বর পরিবর্তনের নেপথ্যে কারা? 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: