সীমান্তে মিলল নিখোঁজ ষষ্ঠী চন্দ্রের হদিশ, চোখে জল পরিবারের

গোদাগাড়ী (রাজশাহী) প্রতিনিধি

সারাদেশ

প্রায় তিন মাস ধরে নিখোঁজ ছিলেন রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চন্দলাই গ্রামের বাসিন্দা ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মন (৬৫)। পরিবারের সদস্যরা যখন প্রায়

2026-06-11T18:48:30+00:00
2026-06-11T23:50:19+00:00
 
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
সীমান্তে মিলল নিখোঁজ ষষ্ঠী চন্দ্রের হদিশ, চোখে জল পরিবারের
গোদাগাড়ী (রাজশাহী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৬:৪৮ পিএম  আপডেট: ১১.০৬.২০২৬ ১১:৫০ পিএম
ষষ্টি চন্দ্র বর্মন। ছবি : সময়ের আলো
প্রায় তিন মাস ধরে নিখোঁজ ছিলেন রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চন্দলাই গ্রামের বাসিন্দা ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মন (৬৫)। পরিবারের সদস্যরা যখন প্রায় তার ফিরে আসার আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন, তখন দেশের আলোচিত এক সীমান্ত ঘটনার মধ্য দিয়ে মিলেছে তার সন্ধান। জামালপুরের কামালপুর সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কথিত পুশইনের ঘটনায় উদ্ধার হওয়া বৃদ্ধই যে গোদাগাড়ীর নিখোঁজ ষষ্টি চন্দ্র বর্মন, তা নিশ্চিত করেছে পরিবার ও স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গোদাগাড়ী উপজেলার চন্দলাই (ললিতনগর) গ্রামের হিন্দুপাড়ার বাসিন্দা ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মন পেশায় মৎস্যজীবী ও কৃষক ছিলেন। এক ছেলে ও তিন মেয়ের জনক তিনি। সন্তানদের সবার বিয়ে হয়ে গেছে। মাছ ধরা ও কৃষিকাজ করেই চলছিল তার সংসার।

তবে গত এক বছরের বেশি সময় ধরে তিনি মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, এ কারণে তাকে সবসময় নজরদারিতে রাখার চেষ্টা করা হতো। কিন্তু প্রায় তিন মাস আগে হঠাৎ করেই তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। এরপর আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় তার খোঁজ চালানো হয়। কোথাও কোনো সন্ধান মেলেনি।


পরিবারের ধারণা, মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় তিনি কোনোভাবে ট্রেনে উঠে নিজ এলাকা থেকে অনেক দূরে চলে যান। পরে কীভাবে সীমান্ত এলাকায় পৌঁছান, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ব্যবসায়ী বাসার আলী বলেন, পরিবারটি খুব কষ্টে ছিল। সবাই মিলে অনেক জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি দেখে পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত হন, সীমান্তে উদ্ধার হওয়া ওই বৃদ্ধই ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মন।

জানা গেছে, জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার কামালপুর সীমান্তের শূন্যরেখায় দীর্ঘ সময় অবস্থানের পর তাকে উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ থানা হেফাজতে নেয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পরে বিজিবি নিশ্চিত করে, তিনি বাংলাদেশের নাগরিক।

ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মনের ছোট ভাই ভবানী চন্দ্র বর্মন তাকে ফিরিয়ে আনতে বকশীগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর স্বজনকে ফিরে পাওয়ার আশায় এখন প্রহর গুনছে পরিবার।

পরিবারের সদস্যরা বলেন, ওকে ফিরে পেলেই আমাদের সবচেয়ে বড় স্বস্তি হবে।

ঘটনাটি নতুন করে মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ও পারিবারিক সুরক্ষার বিষয়টি সামনে এনেছে। স্থানীয়দের মতে, গ্রামাঞ্চলে এমন মানুষের জন্য পর্যাপ্ত নজরদারি ও সহায়তা ব্যবস্থা না থাকায় পরিবারগুলো প্রায়ই চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে।

তিন মাসের অনিশ্চয়তা, সীমান্তের শূন্যরেখায় কাটানো সময় আর পরিবারের অশ্রুসিক্ত অপেক্ষার পর ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মনের ফিরে আসার খবর এখন গোদাগাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সময়ের আলো/জোই
  বিষয়:   সীমান্ত  নিখোঁজ ষষ্টি চন্দ্র  চোখে জল  পরিবার 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: