বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভর্তি রোগী ও স্বজনদের একমাত্র বিশুদ্ধ পানি খাওয়ার টিউবওয়েলটি ৭ দিন ধরে অকেজো। ফলে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন ভুক্তভোগীরা। বাধ্য হয়ে হাসপাতালের সরবরাহকৃত ট্যাপের পানি ব্যবহার আবার অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক পার হয়ে চায়ের দোকান থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, একসপ্তাহ ধরে টিউবওয়েলটি বিকল থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) এ বিষয়ে কিছুই জানেই না। সাংবাদিকদের কাছ থেকে জানতে পেরে তিনি যেন ‘আকাশ থেকে পড়েন’। তার এমন মন্তব্যকে ঘিরে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, আদমদীঘি উপজেলার হাসপাতালে প্রতিদিন শত শত অসুস্থ মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। মাত্র ৩ টাকার টিকিটের মাধ্যমে জরুরি ও বহির্বিভাগে নারী-পুরুষসহ বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নেয়। এছাড়া প্রতিদিন হাসপাতালে ৩০ থেকে ৪০ জন রোগী ভর্তি থাকেন, যাদের অধিকাংশই অসহায় ও নিম্ন আয়ের পরিবারের সদস্য।
তবে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, হাসপাতালের রোগী ও তাদের স্বজনদের জন্য বিশুদ্ধ পানীয় জলের একমাত্র উৎস ছিল একটি টিউবওয়েল। সেই টিউবওয়েলটিও গত সাত দিন ধরে অকেজো হওয়ায় দেখা দিয়েছে খাবার পানিসংকট। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ভুক্তভোগীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা স্বল্পআয়ের মানুষজন অতিরিক্ত খরচ এড়াতে ওই টিউবওয়েলের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। অথচ টিউবওয়েলটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অনেকেই বাধ্য হয়ে হাসপাতালের সরবরাহকৃত পানি পান করছেন। আবার অনেকে হাসপাতালের সামনে থাকা হোটেল কিংবা ব্যস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ মহাসড়ক পার হয়ে চায়ের দোকান থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করছেন।
রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের সরবরাহকৃত পানি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত ট্যাংক ও পাইপলাইনের মাধ্যমে আসে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে সেখানে ময়লা ও শ্যাওলা জমে থাকে, যা বিভিন্ন রোগজীবাণু ছড়িয়ে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। তাদের আশঙ্কা, চিকিৎসা নিতে এসে বিশুদ্ধ পানির অভাবে রোগীরা সুস্থ হওয়ার পরিবর্তে নতুন রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।
রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির মতো মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। অভিযোগ রয়েছে, টিউবওয়েলটি মেরামতের বিষয়ে হাসপাতালের নার্সদের অবগত করা হলেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয়নি। বরং দায়িত্বশীলদের উদাসীনতার কারণেই রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি দীর্ঘায়িত হচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ। এ নিয়ে হাসপাতালের রেসিডেন্ট মেডিকেল অফিসারকে জানালো হলে তাকে কেউ বিষয়টি অবহিতও করা হয়নি বলে সাফ জানিয়ে দেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর হাসপাতালের তদারকির ঘাটতি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। এই অবস্থায় দ্রুত টিউবওয়েলটি মেরামত সহ বিশুদ্ধ পানির স্থায়ী ব্যবস্থা দাবি জানিয়েছেন সচেতন এলাকাবাসী।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভর্তি রোগী বৃদ্ধা রাবেয়া খাতুন, ছালমা জানান, অসুস্থতার কারণে তারা গত কয়েকদিন ধরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে বোতলের পানি কিনে খাওয়ার মতো তাদের সামর্থ্য নাই। একমাত্র বিশুদ্ধ পানির টিউবওয়েলটি নষ্ট থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। তিনবেলা খাবার শেষে বিশুদ্ধ পানি না পেয়ে বাইরে থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। ট্যাপের পানি উপযোগী নয় তবুও নিরুপায় হয়ে অনেকে মাঝে মধ্যে খায়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রেসিডেন্ট মেডিকেল অফিসার (আরএমও) আব্দুল হালিম বলেন, বিষয়টি তিনি প্রথম শুনেছেন। এর আগে তাকে কেউ অবগত করেনি।
এ বিষয়ে আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুমা বেগম বলেন, খোঁজ নিয়ে দ্রুত টিউবওয়েলটি মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে।
সময়ের আলো/জোই