বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সুজন চন্দ্র পাল তার উদ্ভাবনী প্রযুক্তি প্রকল্পের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে তিনি কৃত্রিম হাত এবং ‘থান্ডারবোল্ট’ নামের একটি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির মডেল তৈরি করে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় আসেন। তার এই উদ্ভাবনী কাজ শিক্ষার্থী ও গবেষণামুখী মহলে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন ) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে সাক্ষাতের সময় উপাচার্য জানান, খুব শিগগিরই সুজন চন্দ্র পালকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই উদ্ভাবনের স্বীকৃতি প্রদান করা হবে। পাশাপাশি তার গবেষণামূলক কাজকে আরও এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় অ্যাকাডেমিক, প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার বিষয়েও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উদ্যোগ নেবে।
সীমিত ল্যাব সুবিধা ও অবকাঠামোর মধ্যেও নিজস্ব আগ্রহ, গবেষণা চিন্তা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার মাধ্যমে সুজন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করে আসছেন। তার সাম্প্রতিক উদ্ভাবনগুলো গণমাধ্যমে আলোচনায় আসার পর বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে আসে। এরপর তাকে উৎসাহিত করতে এবং গবেষণা ও উদ্ভাবনকে স্বীকৃতি দিতে উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সুজন চন্দ্র পাল বলেন, ছোটোবেলা থেকেই নতুন কিছু উদ্ভাবনের প্রতি আমার আগ্রহ ছিল। সীমিত সুযোগের মধ্যেও আমি কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই স্বীকৃতি আমাকে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়নে অনুপ্রাণিত করবে।
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. আরিফ উল ইসলাম বলেন, সুজন আমাদের বিভাগের একজন মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। তার উদ্ভাবনী চিন্তা শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই উদ্যোগ গবেষণামুখী পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হবে।
তিনি আরও বলেন, এমন সৃজনশীল উদ্যোগ ভবিষ্যতে দেশের প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা গবেষণার ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ বলেন, সুজন চন্দ্র পালের উদ্ভাবনী কাজ সত্যিই প্রশংসনীয়। বিশ্ববিদ্যালয় তার গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়নের কাজে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। প্রয়োজনে দেশি-বিদেশি সংস্থা থেকেও সহযোগিতা নেওয়া হবে, যাতে তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অবদান রাখতে পারেন।
উপাচার্যের সঙ্গে শিক্ষার্থী সুজন চন্দ্র পালের সাক্ষাৎকালে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. রহিমা নাসরিন, সহকারী অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলাম এবং গবেষণা ও সম্প্রসারণ অফিসের পরিচালক ড. সোনিয়া খান সনি উপস্থিত ছিলেন।
সুজন চন্দ্র পালের এমন উদ্ভাবন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতা এবং স্বীকৃতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে গবেষণা ও উদ্ভাবনী কাজে আগ্রহ আরও বাড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সময়ের আলো/জোই