২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনীতি

বাংলাদেশকে ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য ঘোষণা করেছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে এই

2026-06-11T22:01:11+00:00
2026-06-11T22:01:11+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬,
২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
অর্থনীতি
২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ১০:০১ পিএম   (ভিজিট : ৭)
গ্রাফিক : সময়ের আলো
বাংলাদেশকে ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য ঘোষণা করেছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর প্রশাসনের আধুনিকীকরণ, রাজস্ব আহরণ সম্প্রসারণ এবং বেসরকারি খাতের বিকাশকে প্রধান কৌশল হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় বলেন, একটি ন্যায়সংগত, স্বচ্ছ, প্রযুক্তিনির্ভর এবং ব্যবসাবান্ধব কর ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে সরকার আগামী আট বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতির আকার এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে চায়।

বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার প্রায় অর্ধ ট্রিলিয়ন ডলারের ঘরে পৌঁছেছে। সেই অবস্থান থেকে ২০৩৪ সালের মধ্যে অর্থনীতির আকার দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানোর লক্ষ্যকে অর্থনীতির ইতিহাসে অন্যতম বড় অর্থনৈতিক রূপান্তর পরিকল্পনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে সরকার মনে করছে, বিনিয়োগ, উৎপাদনশীলতা, রপ্তানি এবং রাজস্ব সক্ষমতা বাড়ানো গেলে এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।

জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, মধ্যমেয়াদে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ২০৩৫ সালের মধ্যে এ হার ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তার মতে, উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তুলনা করলে বাংলাদেশের কর আহরণের সক্ষমতা এখনও অনেক কম। ফলে উচ্চ প্রবৃদ্ধি ও বড় অর্থনীতির ভিত্তি গড়ে তুলতে রাজস্ব কাঠামোর ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “একটি আধুনিক, পূর্বানুমানযোগ্য, স্বচ্ছ এবং প্রযুক্তিনির্ভর রাজস্ব ব্যবস্থা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।” তিনি জানান, কর প্রশাসনে ব্যাপক ডিজিটালাইজেশন, করদাতাদের জন্য সেবা সহজীকরণ এবং স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনা চালুর মাধ্যমে রাজস্ব ব্যবস্থাকে নতুন রূপ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে করদাতাদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানো হবে।

প্রস্তাবিত বাজেটে করদাতাদের ওপর কমপ্লায়েন্স ব্যয় কমানো, অপ্রয়োজনীয় নিয়মকানুন বাতিল এবং ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারের ধারণা, জটিল কর ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা কমানো গেলে বিনিয়োগ পরিবেশ আরও উন্নত হবে এবং দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে বেসরকারি খাতের নেতৃত্বে প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা। সে কারণে এবারের বাজেটে “ইনভেস্টমেন্ট-ড্রিভেন গ্রোথ” বা বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটের আকার প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) জন্য প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, রেলপথ, বন্দর এবং ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে শিল্প ও বাণিজ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছাতে হলে বাংলাদেশকে আগামী কয়েক বছর ধারাবাহিকভাবে উচ্চ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হবে। একই সঙ্গে তৈরি পোশাক খাতের বাইরে রপ্তানি বহুমুখীকরণ, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার বিকল্প নেই। তথ্যপ্রযুক্তি, ফার্মাসিউটিক্যালস, কৃষিভিত্তিক শিল্প, হালকা প্রকৌশল এবং সেবা খাতকে আগামী দিনের প্রবৃদ্ধির নতুন চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তবে এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। ব্যাংক খাতে উচ্চ খেলাপি ঋণ, রাজস্ব ঘাটতি, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং বিনিয়োগে স্থবিরতা এখনো অর্থনীতির জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। অর্থনীতিবিদদের মতে, কেবল লক্ষ্য নির্ধারণ করলেই হবে না; কার্যকর বাস্তবায়ন, সুশাসন এবং নীতির ধারাবাহিকতাও নিশ্চিত করতে হবে।

অর্থমন্ত্রী অবশ্য আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, কর প্রশাসনের আধুনিকীকরণ, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশ নতুন অর্থনৈতিক উচ্চতায় পৌঁছাতে সক্ষম হবে। তার ভাষায়, প্রস্তাবিত কর সংস্কার কেবল রাজস্ব বাড়ানোর জন্য নয়; বরং বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে বাংলাদেশের ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। কর সংস্কার, ডিজিটাল রাজস্ব প্রশাসন, বিনিয়োগবান্ধব নীতি এবং অবকাঠামো উন্নয়নের সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আগামী এক দশকে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: