পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে সেনাবাহিনীর একটি ‘এমআই-১৭’ পরিবহন হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ২২ জন সামরিক ক্রু ও সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজন কর্নেল পদমর্যাদার কর্মকর্তা, একজন মেজর এবং ১৯ জন সাধারণ সৈনিক রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) কাশ্মিরে মোতায়েনকৃত সেনাবাহিনীর আর্টিলারি ইউনিটের তত্ত্বাবধানে নিহতদের কফিন পাকিস্তানি পতাকায় মুড়িয়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।
পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর জানিয়েছে, গত বুধবার (১০ জুন) আঞ্চলিক রাজধানী মুজাফফরাবাদের কাছে উড্ডয়নের পরপরই কারিগরি ত্রুটির কারণে রুশ নির্মিত এই সামরিক হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, হেলিকপ্টারটি একটি ভবনের পেছনে আছড়ে পড়ার পরপরই সেখান থেকে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী বাতাসে ওড়ছে।
আইএসপিআর এক বিবৃতিতে জানায়, উড্ডয়নের সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে আরোহী সবারই মৃত্যু হয়েছে, কেউ জীবিত নেই। সামরিক বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতের সংখ্যা প্রকাশ না করলেও রয়টার্স, আনাদোলু এবং অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে ২২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।
কাশ্মিরের এই স্পর্শকাতর সীমান্ত অঞ্চলে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী এবং স্থানীয় অস্থিরতার মাঝেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটল। গত সপ্তাহে স্থানীয়ভাবে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি নাগরিক অধিকার জোটের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর তীব্র সংঘর্ষে অন্তত ১১ জন নিহত হওয়ার পর মুজাফফরাবাদে কঠোর কারফিউ ও চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছিল। তবে স্থানীয় প্রশাসন ও সামরিক কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই রাজনৈতিক অস্থিরতার সঙ্গে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই, এটি সম্পূর্ণ একটি যান্ত্রিক বিপর্যয়।
আইএসপিআর জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি (বোর্ড অব ইনকুয়েরি) গঠন করা হয়েছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং সেনাবাহিনীর সব স্তরের কর্মকর্তারা এই মর্মান্তিক প্রাণহানিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এপিপি জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ পৃথক বার্তায় নিহত সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে যাতায়াত ও সেনা মোতায়েনের জন্য পাকিস্তান সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে সোভিয়েত নকশার এই ‘এমআই-১৭’ হেলিকপ্টারের ওপর নির্ভরশীল। যদিও গত এক দশকে এই মডেলের বেশ কয়েকটি বিমান দুর্ঘটনার নজির রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আর্থিক সহযোগিতায় পাকিস্তান তাদের বহরে থাকা ২২টি এমআই-১৭ হেলিকপ্টার সংস্কার ও আধুনিকায়ন করেছিল।
/কহু