অর্থনীতির সংকটময় মুহুর্তে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা করছে সরকার। যা শেষ হতে যাওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রাক্কলিত জিডিপি প্রবৃদ্ধির চেয়ে তা ২ দশমিক ৩৬ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি। বৃহস্পতিবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সংসদে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী এ কথা জানান।
জানা যায়, প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে জিডিপি ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকা। শেষ হতে যাওয়া অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এর আকার দাঁড়িয়েছে ৬০ লাখ ৮০ হাজার ৩২০ কোটি টাকা। তবে বুধবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) জিডিপির সাময়িক যে হিসাব দিয়েছে, তাতে জিডিপির আকার ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৬১ লাখ ২০ হাজার ২০৯ কোটি টাকার কথা বলা হয়েছে। প্রথমবারের মত অর্ধ ট্রিলিয়ন ছাড়িয়েছে বাংলাদেশের জিডিপির আকার।
বিবিএসের সাময়িক হিসাবে ৩০ জুন শেষ হতে চলা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাবে ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল দেশে। ওই আর্থিক বছরে ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ সরকার। তখনকার অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরেছিলেন। মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ৫ দশমিক ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। কিন্তু সেই লক্ষ্যের চেয়েও ১ দশমিক ৭৬ শতাংশীয় পয়েন্ট কম প্রবৃদ্ধি ওই অর্থবছরে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রেকর্ড ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। এরপর আসে কোভিড মহামারী। তার মধ্যেও ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরেছিল তখনকার আওয়ামী লীগ সরকার। কিন্তু অর্জিত হয় ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ, যা তিন দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন।
বাংলাদেশ ইকোনোমিক রিভিউয়ের তথ্য অনুসারে, ১৯৯০-৯১ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল এর চেয়ে কম, তিন দশমিক ২৪ শতাংশ। মহামারীর ধাক্কা সামলে ২০২০-২০২১ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার বেড়ে দাঁড়ায় ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশে। দুঃসময় কাটিয়ে ২০২১-২২ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেড়ে হয় ৭ দশমিক ১০ শতাংশ। এরপর ২০২২-২৩ অর্থ বছরে অর্থনীতির আকার ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্য ধরেছিলেন তখনকার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল। পরে তা সংশোধন করে ৬ দশমিক ৫০ শতাংশে নামানো হলেও তা আর অর্জন হয়নি।