টানা পাঁচ কার্যদিবস ধরে দরপতনের বৃত্তে আটকে রয়েছে দেশের শেয়ারবাজার। লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার মধ্য দিয়ে সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবারও প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচকের পতন ঘটেছে। দিনের শুরুতে বাজার ইতিবাচক ধারায় শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। সকালের দিকে সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের দর বাড়ায় সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখে বিনিয়োগকারীরা আশা দেখলেও দুপুর ১২টার পর বীমা খাত থেকে শুরু হওয়া দরপতন দ্রুত পুরো বাজারে ছড়িয়ে পড়ে।
লেনদেনের শেষ পর্যন্ত এই পতনের ধারা অব্যাহত থাকায় বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমে যায়। ডিএসইতে সার্বিক লেনদেনে ভালো-মন্দ সব খাতেই দরপতন দেখা গেছে। দিন শেষে মাত্র ৭৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, যার বিপরীতে কমেছে ২৬৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৭টির দাম। লভ্যাংশ প্রদানকারী ভালো মানের ‘এ’ ক্যাটাগরির ৪৬টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়লেও কমেছে ১২৯টির।
একইভাবে মাঝারি মানের ‘বি’ ক্যাটাগরির ৭টি কোম্পানির দর বৃদ্ধির বিপরীতে ৬৫টির দাম কমেছে। এ ছাড়া লভ্যাংশ না দেওয়া ‘জেড’ গ্রুপিংয়ের ২৪টি কোম্পানির দর বেড়েছে এবং ৭২টির কমেছে। মিউচুয়াল ফান্ড খাতের ১০টির দাম বাড়লেও ১২টির দাম কমেছে।
অধিকাংশ কোম্পানির দরপতনের কারণে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৪০ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৭৭৩ পয়েন্টে নেমে এসেছে। টানা পাঁচ দিনের এই মন্দায় মূল সূচকটি মোট ১৩০ পয়েন্ট হারাল। পাশাপাশি অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক ১১ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৬৪ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৭ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৫০ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
সূচকের বড় পতন হলেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ আগের দিনের তুলনায় সামান্য বেড়েছে। দিনশেষে ৯৯৮ কোটি ১০ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের ৯৯৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকার চেয়ে ৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা বেশি। লেনদেনের শীর্ষে ছিল ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, যার ৫২ কোটি ৭৫ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়।
এ ছাড়া দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে থাকা আইপিডিসি ফাইন্যান্স ও এনভয় টেক্সটাইলের যথাক্রমে ৫১ কোটি ৬৬ লাখ এবং ২৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। শীর্ষ লেনদেনের তালিকায় থাকা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শমরিতা হাসপাতাল, মালেক স্পিনিং, বেক্সিমকো, রানার অটোমোবাইল, সামিট এলায়েন্স পোর্ট, সায়হাম টেক্সটাইল এবং শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ উল্লেখযোগ্য।
অন্যদিকে দেশের অপর শেয়ারবাজার সিএসএতেও দরপতনের একই চিত্র দেখা গেছে। বাজারটির সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১১০ পয়েন্ট কমেছে। লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৩৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭১টির দাম বাড়লেও কমেছে ১৩৪টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩০টির দর। সিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে; আগের দিনের ১০৫ কোটি ২৬ লাখ টাকার বিপরীতে এদিন লেনদেন হয়েছে ৭৩ কোটি ২২ লাখ টাকা।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি