স্বাগতিক হওয়ার চাপ আর বিশ্বকাপের মঞ্চ- এই দুইয়ের ভার নিয়েই মাঠে নামছে কানাডা। বিপরীতে ইউরোপীয় বাছাইপর্বের কঠিন পথ পেরিয়ে আসা বসনিয়া-হার্জেগোভিনা খুঁজছে নতুন ইতিহাসের হাতছানি। ‘বি’ গ্রুপের এই লড়াইয়ে একদিকে ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগানোর চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের মঞ্চ।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে কানাডার অবস্থান ৩০ নম্বরে। অন্যদিকে বসনিয়া-হার্জেগোভিনা রয়েছে ৬৫ নম্বরে। র্যাঙ্কিংয়ের হিসাবে কানাডা এগিয়ে থাকলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে পরিসংখ্যানের চেয়ে পারফরম্যান্সই শেষ কথা। ইউরোপীয় বাছাইপর্বে ওয়েলস এবং প্লে-অফে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালিকে হারিয়ে মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে বসনিয়া, যা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।
মজার বিষয় হলো, দুদলের মধ্যে এটিই প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এর আগে কখনো মুখোমুখি হয়নি কানাডা ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনা। ফলে হেড-টু-হেড পরিসংখ্যানে কেউই এগিয়ে নয়। বিশ্বকাপের মঞ্চেই প্রথমবারের মতো একে অপরকে যাচাই করার সুযোগ পাচ্ছে দুদল।
কানাডার সবচেয়ে বড় দুঃসংবাদ আলফান্সো ডেভিসকে নিয়ে। অধিনায়ক ও দলের অন্যতম সেরা তারকা চোটের কারণে বিশ্বকাপে খেলতে পারছেন না। ডেভিসের অনুপস্থিতি কানাডার জন্য নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা। তবে কোচ জেসি মার্শ বিশ্বাস করেন তার দল শুধু একজন খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভরশীল নয়।
ডেভিস না থাকলেও কানাডার আক্রমণভাগে রয়েছেন জোনাথন ডেভিড, কাইল লারিন, তাজন বুকানান এবং লিয়াম মিলারের মতো ফুটবলার। বিশেষ করে জোনাথন ডেভিডকে ঘিরেই কানাডার গোলের আশা। ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে তিনি বর্তমানে দলের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
মাঝমাঠে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পালন করবেন স্টিফেন ইউস্তাকিও। তার নেতৃত্বে বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণ গঠনের কাজ করবে কানাডা। দ্রুতগতির আক্রমণ, উইং ব্যবহার এবং উচ্চ প্রেসিং ফুটবল শক্তি নিয়ে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ জয়ের স্বপ্ন কানাডার। তবে রক্ষণভাগে মাঝেমধ্যে মনোযোগ হারানোর প্রবণতা তাদের জন্য উদ্বেগের কারণ।
অন্যদিকে বসনিয়া-হার্জেগোভিনা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ খেলছে। ২০১৪ সালে অভিষেকের পর দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে আবারও বিশ্বমঞ্চে ফিরেছে। ইউরোপীয় দলটির সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের সংগঠিত রক্ষণ ও শারীরিক সক্ষমতা।
দলের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের মধ্যে রয়েছেন অধিনায়ক এডিন জেকো। ক্যারিয়ারের শেষপ্রান্তে থাকা এই স্ট্রাইকার এখনও গোল করার ক্ষমতা হারাননি। পাশাপাশি আমির হাজরাদিনোভিচ, এরমেদিন ডেমিরোভিচ ও ডেনিস হুসেইনবাসিচের মতো খেলোয়াড়রা আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা এবং সুযোগ পেলেই দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে ওঠা বসনিয়ার প্রধান কৌশল।
ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে কানাডার কোচ জেসি মার্শ বলেছেন, ‘বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ।’ কোচ জেসি মার্শ বিশ্বাস করেন, তার দল শুধু একজন খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভরশীল নয়। এই কোচ আরও বলেন, ‘আমরা জানি বসনিয়া কঠিন প্রতিপক্ষ, তবে নিজেদের সামর্থ্যরে ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে।’
অন্যদিকে বসনিয়া শিবির থেকেও আত্মবিশ্বাসী বার্তা এসেছে। দলটির কোচ বলেছেন, ‘কানাডা ভালো দল, তবে আমরা এখানে শুধু অংশ নিতে আসিনি। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এবং ইতিবাচক ফল পেতে এসেছি।’
অধিনায়ক জেকোও জানিয়েছেন, ‘বড় মঞ্চে অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দলকে এগিয়ে নিতে চান।’
বিশ্লেষকদের মতে, বলের দখল ও আক্রমণ তৈরিতে কানাডা এগিয়ে থাকতে পারে। তবে বসনিয়ার রক্ষণভাগ ভাঙা সহজ হবে না। ইউরোপীয় দলটি ম্যাচকে ধীরগতির করে কানাডার আক্রমণের ধার কমানোর চেষ্টা করবে। অন্যদিকে স্বাগতিকরা শুরু থেকেই গতি বাড়িয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে চাইবে।
সব মিলিয়ে ‘বি’ গ্রুপের এই ম্যাচে ঘরের মাঠের সুবিধার কারণে কানাডা কিছুটা এগিয়ে। তবে বসনিয়া-হার্জেগোভিনার অভিজ্ঞতা, শৃঙ্খলিত ফুটবল এবং লড়াকু মানসিকতা ম্যাচটিকে সমানে সমান লড়াইয়ে পরিণত করতে পারে। বিশ্বকাপের শুরুতেই তাই জমজমাট এক দ্বৈরথের অপেক্ষায় ফুটবল ভক্তরা।