তায়কোয়ান্দো : ভাঙা ঘরে চাঁদের আলো

মামুন হোসেন

খেলা

‘তায়কোয়ান্দো’ মার্শাল আর্ট বাংলাদেশে খুব বেশি পরিচিতি না পেলেও দক্ষিণ কোরিয়ার এটি জাতীয় খেলা। যুদ্ধ কৌশল, আত্মরক্ষা, ব্যায়াম, ধ্যান এবং

2026-08-09T04:21:56+00:00
2026-08-09T04:21:56+00:00
 
  রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬,
২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬
খেলা
তায়কোয়ান্দো : ভাঙা ঘরে চাঁদের আলো
মামুন হোসেন
প্রকাশ: রোববার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৪:২১ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
‘তায়কোয়ান্দো’ মার্শাল আর্ট বাংলাদেশে খুব বেশি পরিচিতি না পেলেও দক্ষিণ কোরিয়ার এটি জাতীয় খেলা। যুদ্ধ কৌশল, আত্মরক্ষা, ব্যায়াম, ধ্যান এবং দর্শনের সম্মিলন- এই খেলার মূলমন্ত্র। ১৯৯৭ সালে ফেডারেশন গঠনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে তায়কোয়ান্দোর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু। দেখতে দেখতে প্রায় ৩০ বছর হতে চলল দেশের তায়কোয়ান্দোর। 

খেলাটি সর্বজনে পরিচিতি না পেলেও এর সাফল্য কিন্তু আকাশচুম্বী। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পুরোনো বিল্ডিংয়ে দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট ছোট্ট ঘর, অপ্রতুল অনুশীলন গ্রাউন্ড- এমন অবকাঠামোয় হাজারো তায়কোয়ান্দোকারা বছরের পর বছর খেলে যাচ্ছেন। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে বয়ে আনছেন উল্লেখযোগ্য সাফল্য।

ফেডারেশন গঠনের দ্বিতীয় বছর অর্থাৎ ১৯৯৯ সালে নেপালে অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়ান গেমসে ৪টি ব্রোঞ্জ পদক জয়ের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের তায়কোয়ান্দোর সাফল্যের গল্প শুরু। সবশেষ ২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আসর থেকে গত ২৫ বছরে ২২৭টি স্বর্ণ, ১৮১ রৌপ্য এবং ১৯০টি ব্রোঞ্জ জয়ের অনন্য কীর্তি রয়েছে এই ফেডারেশনের। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সাফল্য হলো ২০০৬ সালে শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় অনুষ্ঠিত ১০ম সাউথ এশিয়ান গেমসে মিজানুর রহমানের স্বর্ণ জয়, ২০১০ সালে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়ান গেমসে শাম্মী আক্তার ও ফারজানা শারমীন রুমির স্বর্ণ পদক প্রাপ্তি এবং সবশেষ ২০১৯ সালে নেপালে অনুষ্ঠিত ১৩তম সাউথ এশিয়ান গেমসে দিপু চাকমার স্বর্ণ জেতার ইতিহাস।

এরপর ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে গত ১৮-১৯ মাসে তখনকার অ্যাডহক কমিটির অধীনে তায়কোয়ান্দো তার দিক হারালেও পুনরায় ফেডারেশন এবং খেলোয়াড়দের চাঙ্গা করতে নতুন অ্যাডহক কমিটির সভাপতি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম রানার উদ্যোগে নতুন করে কাজ শুরু হয়েছে। গত ১৮ জুলাই ২০২৬ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন ২০১৮-এর ১৪ (৩) ধারা অনুযায়ী গঠিত হয় তায়কোয়ান্দোর বর্তমান অ্যাডহক কমিটি। মেধাবী কিছু মানুষের সম্মিলন ঘটিয়ে এই কমিটি গঠন করা হয়। যেখানে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের বাইরে চারজন সহ-সভাপতি রয়েছেন। তারা হলেন আব্দুস সাকুর চৌধুরী, ড. রশিদ আহমেদ হোসাইনী, জোসেফ বি ইউলিসিস ও আহাদুজ্জামান।

এ ছাড়া যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান ও মরিয়ম বেগম ইতি এবং কোষাধ্যক্ষ মেহেদী হাসান। কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন বিএনপির মিডিয়া সেল সদস্য, সাংস্কৃতিককর্মী এবং দৈনিক সময়ের আলো পত্রিকার উপদেষ্টা সম্পাদক শায়রুল কবির খান, মোসলেম মিয়া, সাইদুর রহমান স্বপন, রুজিনা সুলতানা, আবদুল্লাহ ফেরদৌস মান্নান (রিপন), মো. হাফিজ, গুলজার হোসেন, তৌফিক আহমেদ, নুসরাত জাকিয়া রহিম, জিনাত রেহানা রুবি, মো. বাবুল হোসেন, মো. পলাশ মিয়া, সৈয়দ করিম, মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন, ফারজানা রওশন, মাসুদ রানা, হাফিজা জহির, মো. মাসুম কবির, বিপুল হাসান হ্যাজী এবং শামিম আল মামুন।

আগামী ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় নবগঠিত কার্যনির্বাহী অ্যাডহক কমিটির প্রথম সভা বিজিবির সদর দফতর পিলখানায় অনুষ্ঠিত হবে। পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা সেই সভার আলোচ্য সূচিতে থাকলেও গতকাল প্রথমবারের মতো ফেডারেশন অফিস এবং অনুশীলন গ্রাউন্ড পরিদর্শন করেন সভাপতি বিজিবির মহাপরিচালক মেজর আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। ফেডারেশনের পলেস্তারাখসা দেয়াল, ছোট দুটি কক্ষ, ভাঙা টিনের চালা বেয়ে গড়িয়ে পড়া বৃষ্টিধারা আর ময়লা-আবর্জনায় ছড়িয়ে থাকা অনুশীলন গ্রাউন্ড সবই পরিদর্শন করেন সভাপতি। এরপর কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কিছু সময় অতিবাহিত করেন।

ফেডারেশনের সার্বিক অবস্থা এবং অতীতের সাফল্য নিয়ে সময়ের আলোর পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা হলে সভাপতি আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী বলেন, ‘তায়কোয়ান্দো ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আজই (গতকাল) এই অফিসে আমার প্রথম আগমন। আজ (গতকাল) আমরা ভেন্যুটি ঘুরে দেখেছি। সত্যি বলতে ভেন্যুর পর্যাপ্ততা ও বর্তমান সুযোগ-সুবিধার বিবেচনায় আমাদের অবকাঠামো সার্বিকভাবে অপ্রতুল। তবে একেবারেই যে খারাপ তা নয়। আমাদের দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এখন সব ফেডারেশনের উন্নয়নের বিষয়টিই বিবেচনায় নিতে হবে। 

তবে তায়কোয়ান্দো ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবে স্বাভাবিকভাবেই তায়কোয়ান্দোর উন্নয়নকে আমি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেব। আজকের (গতকাল) আলোচনায় আমরা প্রাথমিকভাবে এ বিষয়টিই গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করেছি, বর্তমানে যে ভেন্যুটি আমাদের রয়েছে সেটিকে কীভাবে আরও সুন্দরভাবে সাজিয়ে-গুছিয়ে এবং সর্বোত্তমভাবে ব্যবহার করে আমাদের অনুশীলনের সুযোগ বাড়ানো যায়।’

এ বিষয়ে তায়কোয়ান্দো ফেডারেশনের সভাপতি আরও যোগ করেন, ‘ভবিষ্যতে আমরা আরও বড় পরিসরে, অর্থাৎ আরও উপযুক্ত ও পর্যাপ্ত জায়গার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানাব, যাতে আমাদের খেলোয়াড়রা আরও উন্নত পরিবেশে প্রশিক্ষণ ও অনুশীলনের সুযোগ পায়। তবে এর পাশাপাশি আমাদেরও দায়িত্ব রয়েছে। আমাদের ধারাবাহিকভাবে সাফল্য অর্জন করতে হবে। আমরা যতবেশি আন্তর্জাতিক সাফল্য অর্জন করতে পারব, ততই আমাদের আরও বড় পরিসরের অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধার প্রয়োজনীয়তা এবং দাবির যৌক্তিকতা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হবে।’

দেশের ক্রীড়াঙ্গন এবং ক্রীড়াকে এগিয়ে নিতে বর্তমান সরকার যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে সেই বিষয়েও আলোকপাত করেন আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, ‘বর্তমান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী যেভাবে আমাদের দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন এবং বর্তমান সরকার যেভাবে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন কুঁড়ির সংযোজন করে ছোটরাসহ বড়দেরও যেভাবে উৎসাহিত করে পুরো ক্রীড়াঙ্গনকে নতুনভাবে সংগঠিত ও এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তা নিঃসন্দেহে একটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও মহৎ উদ্যোগ। 

আমরা বিশ্বাস করি তায়কোয়ান্দো ফেডারেশনও দেশের অন্যান্য ফেডারেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে সরকারের এই উদ্যোগকে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তায়কোয়ান্দোতে বাংলাদেশের যে সাফল্য রয়েছে, ভবিষ্যতে সেটিকে আরও বৃদ্ধি করাই আমাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য অর্জনে আমরা সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করব।’

সময়ের আলো/এসএকে


  বিষয়:   তায়কোয়ান্দো  ভাঙা ঘর  চাঁদের আলো  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
খেলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: