এশিয়ান গেমসে সোনা জয়ের স্বপ্ন নিয়েই জাপানে পা রেখেছে বাংলাদেশ, তবে সেই স্বপ্নের পথে এখনই শেষ ধাপের হিসাব কষতে রাজি নন অধিনায়ক লিটন দাস। কারণ সোনার লড়াইয়ে বাংলাদেশের সামনে শুধু একটি দল নয়, রয়েছে এশিয়ার শক্তিশালী ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা। তাই বড় লক্ষ্যের দিকে এক ধাপ করে এগোতে চান লিটন। আপাতত তার চোখ শুধু ফাইনালে ওঠার দিকে।
জাপানের আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে আজ নিশিনে কোরোগি স্পোর্টস পার্কে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলবে বাংলাদেশ। তার আগে সোমবার সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের লক্ষ্য ও প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা শক্তিশালী দল নিয়ে এশিয়ান গেমসে এসেছে। এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে বাংলাদেশের লক্ষ্য কী, লিটনের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। দেশ ছাড়ার আগে যে লক্ষ্য ঠিক করে দিয়েছিলেন, জাপানে এসেও সেটিই ধরে রেখেছেন তিনি, ‘দেশ ছাড়ার আগে বলেছিলাম যে আমাদের প্রথম লক্ষ্য ফাইনালে যাওয়া। সোনা পাব কি না, ওটা পরের বিষয়, কিন্তু তার জন্য আগামীকালের (আজ) ম্যাচটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আপাতত ওটার দিকেই মনোযোগ দিচ্ছি।’
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দল ভালো করতে পারেনি। ব্রোঞ্জের ম্যাচেও পাকিস্তানের কাছে হেরে পদকশূন্য ফিরেছে তারা। সব ইভেন্ট মিলিয়ে বাংলাদেশের অর্জন এখন পর্যন্ত শুধু উশুতে একটি ব্রোঞ্জ। ফলে পুরুষ ক্রিকেট দলের কাছে স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
তবে সেই প্রত্যাশাকে চাপ হিসেবে দেখছেন না লিটন, ‘আপাতত না। প্রথম ম্যাচটা খেলি, জিতলে তারপর চিন্তাভাবনা করব।’
মালয়েশিয়ার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে বাংলাদেশের প্রস্তুতিতে অবশ্য বৃষ্টির বড় বাধা এসেছে। ম্যাচ ভেন্যুর অনুশীলন সেশনগুলো বৃষ্টিতে ভেসে গেছে। এমনকি ম্যাচের আগের দিনও ক্রিকেট মাঠে নয়, ফুটবল মাঠে অনুশীলন করতে হয়েছে বাংলাদেশকে।
এ নিয়ে অবশ্য কোনো অভিযোগ নেই লিটনের। বরং দেশে থাকতেই এমন পরিস্থিতির জন্য সতীর্থদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করেছিলেন তিনি, ‘দেশে আমরা অনেক অনুশীলন করেছি এবং আমি খেলোয়াড়দের একটা কথাই বলেছি যে, ওখানে (জাপান) গিয়ে (অনুশীলনের) সুযোগ নাও থাকতে পারে...যদি বৃষ্টি থাকে। তাই মানসিকভাবে ওভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। আর এই দেশে ক্রিকেট খুব একটা পরিচিতও না। তারা সুযোগ-সুবিধা সেভাবে দিতে পারবে কি না এ নিয়েও সন্দেহে ছিলাম। খেলোয়াড়রা ওখান থেকেই (ঢাকা) প্রস্তুতি নিয়েছে এবং মনে হয় তারা খেলার জন্য প্রস্তুত।’
বলা যায় আবহাওয়ার সঙ্গে এবারও লড়াই করতে হবে বাংলাদেশকে। নিশিনে গতকাল প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে হংকং-পাকিস্তান এবং দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে আফগানিস্তান-ভারত ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়েছে। টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে তুলনামূলক এগিয়ে থাকার সুবাদে সেমিফাইনালে উঠেছে পাকিস্তান ও ভারত।
আজ বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া ম্যাচও যদি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়, তা হলে র্যাঙ্কিংয়ের সমীকরণে বাংলাদেশ উঠে যাবে সেমিফাইনালে, যেখানে প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। তবে বৃষ্টির ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই বলেই বাস্তবতাকে মেনে নিচ্ছেন লিটন, ‘(খেলা) না হলে কিছু করার থাকবে না। আগেও বললাম যে বৃষ্টির ওপর কারও নিয়ন্ত্রণ নেই।’
মালয়েশিয়ার বিপক্ষে স্পিন বিভাগ নিয়েও আলাদা কোনো পরিকল্পনা আছে কি না, জানতে চাওয়া হয়েছিল বাংলাদেশ অধিনায়কের কাছে। উইকেট বোলারদের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে ধরে নিয়ে দলের সেরা বোলারদের নিয়েই মাঠে নামতে চান তিনি, ‘আমার মনে হয় উইকেটটা বোলারদের জন্য সুবিধাজনক হবে। চেষ্টা করব আমাদের দলের যে সেরা বোলাররা আছে তাদের খেলাতে।’
এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে বাংলাদেশের রয়েছে সোনালি ইতিহাস। ২০১০ সালে গুয়াংজুতে অনুষ্ঠিত প্রথম আসরেই পুরুষ ক্রিকেটে স্বর্ণপদক জিতেছিল বাংলাদেশ। তবে পরের দুই আসরে সেই সাফল্য ধরে রাখতে পারেনি লাল-সবুজের দল। ২০১৪ ও ২০২৩ সালে জিতেছে ব্রোঞ্জ।
এবার তাই ১৬ বছর পর আবার সোনার মঞ্চে ফেরার স্বপ্ন বাংলাদেশের। কিন্তু লিটনের কাছে সেই পথের প্রথম ধাপই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আজ মালয়েশিয়াকে হারিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করতে পারলেই সামনে খুলবে ফাইনালের দরজা। আর সোনার হিসাব? সেটি আপাতত থাকছে পরের জন্য।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/টিকে