বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান আসরে পয়েন্ট টেবিলের চিত্র এবং ফাইনালে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সমীকরণ বেশ নাটকীয় মোড় নিয়েছে। ২৭ সিরিজের এই দীর্ঘ লড়াইয়ের চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে ২০২৭ সালের ৯ থেকে ১৩ জুন ইংল্যান্ডের ঐতিহাসিক দ্য ওভালে অনুষ্ঠিত হবে মেগা ফাইনাল।
বিগত দুটি চক্রের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ফাইনালে টিকিট নিশ্চিত করতে দলগুলোকে সাধারণত ৬৫ শতাংশের বেশি পয়েন্ট অর্জন করতে হয়। তবে মোট পয়েন্টের হিসাব এখানে মুখ্য নয়, বরং দলগুলোর ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যক ম্যাচ খেলার কারণে পয়েন্টের শতকরা হার বা পার্সেন্টেজই চূড়ান্ত নির্ধারণী ভূমিকা পালন করে।
চলতি চক্রে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। আটটি টেস্টের সাতটিতে জয় পেয়ে প্যাট কামিন্সের দল ৮৭.৫০ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে। তাদের সামনে এখনও ১৪টি টেস্ট বাকি রয়েছে যার মধ্যে ঘরের মাঠে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের পাশাপাশি ভারত সফর রয়েছে।
তালিকায় এর পরেই রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। চার টেস্টের তিনটিতে জিতে ৭৫ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে তারা বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে আছে এবং তাদের বাকি ১০টি টেস্টের আটটিই ঘরের মাঠে হওয়ায় তাদের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা যথেষ্ট উজ্জ্বল। ছন্দে থাকা নিউজিল্যান্ড ছয় টেস্টে চার জয় ও ৭২.২২ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে, তবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে চার ম্যাচের সিরিজটি তাদের জন্য বড় পরীক্ষা হতে চলেছে।
তালিকার ঠিক মাঝামাঝি অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ দল বেশ ভালোভাবেই ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে টিকে রয়েছে। চার টেস্টে দুটি জয়, এক হার ও এক ড্র নিয়ে বাংলাদেশের ঝুলিতে রয়েছে ৫৮.৩৩ শতাংশ পয়েন্ট। বাংলাদেশের সামনে এখনো আটটি টেস্ট ম্যাচ বাকি রয়েছে, যার মধ্যে চারটি দেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এবং বাকি চারটি বাইরে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশকে ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে ঘরের মাঠে চার ম্যাচের সবকটিতে জয় পাওয়ার পাশাপাশি অন্তত একটি অ্যাওয়ে বা বিদেশের মাটিতে টেস্ট ম্যাচ জিততে হবে। বিকল্প হিসেবে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে যদি অন্তত তিনটি ম্যাচ ড্র করা যায়, তবেই কেবল ৬০ শতাংশ পয়েন্টের কোটায় পৌঁছানো সম্ভব। তবে বিগত চক্রগুলোর ফল বলছে, কেবল ৬০ শতাংশ পয়েন্ট অনেক সময় ফাইনাল নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে।
অন্যদিকে, ঐতিহ্যগতভাবে শক্তিশালী দলগুলোর মধ্যে ভারত কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। নয় টেস্টে চার জয় ও চার হারে তাদের পয়েন্ট ৪৮.১৫ শতাংশ। সামনে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো কঠিন প্রতিপক্ষ থাকায় ভারতকে বেশ কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে। শ্রীলঙ্কা চার টেস্টে এক জয় নিয়ে ৪১.৬৭ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে অবস্থান করছে।
এ ছাড়া তলানির দিকে থাকা দলগুলোর মধ্যে ইংল্যান্ড ১৩ টেস্টে মাত্র চার জয়ে ২৪.৩৬ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে বেশ ধুঁকছে এবং স্লো ওভার রেটের কারণে তাদের পয়েন্টও কাটা গেছে। পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের অবস্থাও বেশ শোচনীয়। পাকিস্তানের পয়েন্ট ২২.২২ শতাংশ এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ মাত্র দুটি টেস্ট বাকি থাকায় ইতোমধ্যে ফাইনালের দৌড় থেকে কার্যত ছিটকে গেছে।
সময়ের আলো/জেডি