ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন দিগন্তের শুরু

ক্রীড়া প্রতিবেদক

খেলা

বছরের পর বছর নির্দিষ্ট সূচির অভাবে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটকে অনেকটাই জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের ওপর নির্ভর করে চলতে হয়েছে। কখন জাতীয়

2026-09-30T04:09:50+00:00
2026-09-30T04:09:50+00:00
 
  বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৫ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
খেলা
ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন দিগন্তের শুরু
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৯ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
বছরের পর বছর নির্দিষ্ট সূচির অভাবে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটকে অনেকটাই জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের ওপর নির্ভর করে চলতে হয়েছে। কখন জাতীয় দলের খেলা আছে, কখন নেই, তার ওপর নির্ভর করেই বদলেছে ঘরোয়া ক্রিকেটের ব্যস্ততা। এতে যেমন ক্রিকেটারদের নিজেদের পরিকল্পনা করা কঠিন হয়েছে, তেমনি নিয়মিত ক্রিকেটের অভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে পেশাদারিত্বও। এবার সেই চিত্র বদলের সম্ভাবনা দেখছেন ক্রিকেটাররা। নতুন ডোমেস্টিক থ্রি (ডি থ্রি) ট্রফির নির্দিষ্ট সূচি ও দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোকে ঘরোয়া ক্রিকেটের জন্য বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন এইস ব্লুস্টারের আইকন ক্রিকেটার নুরুল হাসান সোহান।

ডি থ্রির সূচি আগে থেকেই নির্ধারিত থাকায় ঘরোয়া ক্রিকেটারদের নিজেদের ক্যারিয়ার ও প্রস্তুতি নিয়ে পরিকল্পনা করার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন সোহান। তিন ফরম্যাটের এই প্রতিযোগিতা চলবে প্রায় সাত-আট মাস ধরে। ফলে জাতীয় দলের বাইরে থাকা ক্রিকেটারদের নিয়মিত ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি নিজেদের পারফরম্যান্স ও ভবিষ্যৎ নিয়েও পরিকল্পনা করার সুযোগ তৈরি হবে।

সোহানের ভাষ্যে, ‘আমাদের ডোমেস্টিকের যে শিডিউল থাকে, সবসময় আমরা জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের ওপর নির্ভর করি। গত অনেক বছর এই জায়গায় আমরা স্ট্রাগল করেছি, কারণ ডোমেস্টিকের কোনো শিডিউল ঠিকভাবে ছিল না। ফলে যারা ঘরোয়া ক্রিকেট খেলছে, তাদের নিজেদের পরিকল্পনা করাও কঠিন হতো।’

বিসিবির উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সোহান বলেন, ‘এটা অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। আমরা অনেক আগে থেকেই জেনছি, আমাদের কাঠামো অনুযায়ী কখন এবং কোথায় খেলা হবে। আমার মনে হয়, এর কারণে আমাদের খেলোয়াড়দের মধ্যেও পেশাদারিত্ব আরও বাড়বে।’ ডি থ্রির প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজিতে ২৩ জন ক্রিকেটার নেওয়ার সুযোগ থাকছে। দীর্ঘ সময় ধরে তিন ফরম্যাটের ক্রিকেট চলায় দলগুলোও নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী স্কোয়াড সাজানোর পরিকল্পনা করছে। সোহানের মতে, বিশেষ করে উঠতি ক্রিকেটারদের জন্য এই কাঠামো বড় সুযোগ তৈরি করবে।

‘টুর্নামেন্টটা যেহেতু প্রায় সাত-আট মাস ধরে হবে এবং ২৩ জনের একটা সøট আছে, তাই দলগুলো ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি এবং চার দিনের তিন ফরম্যাটের খেলোয়াড়দের কথা চিন্তা করেই পরিকল্পনা করছে। আমার কাছে মনে হয়, আপকামিং খেলোয়াড়দের জন্য এটা অনেক বড় সুযোগ, কারণ আট মাস ধরে খেলা থাকবে এবং তারাও নিয়মিত অংশ নিতে পারবে,’ বলেন সোহান।

এদিকে ডি থ্রির নতুন কাঠামো নিয়ে আশাবাদী ওয়ালটনের আইকন ক্রিকেটার মেহেদী হাসান মিরাজও। তার মতে, এমন কাঠামো তৈরি করার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কৃতিত্ব পাওয়ার যোগ্য। ড্রাফটের আগেই নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী কোচিং স্টাফ নিয়েও পরিকল্পনা করে রেখেছিল ওয়ালটন।


‘আপনারাও জানেন, এই প্রথম আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেট এই ফরম্যাটে হচ্ছে। আমি যেহেতু ওয়ালটনের পক্ষ থেকে এসেছি এবং ওয়ালটনের হয়ে খেলছি, এই ফরম্যাট যেভাবে সাজানো হয়েছে, এর জন্য অবশ্যই ক্রিকেট বোর্ডকে কৃতিত্ব দিতে হবে। তারা যেভাবে ফরম্যাটটা সাজিয়েছে, সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে যেন দলটা ভালো করতে পারে,’ মিরাজ বলেন।

ড্রাফটের আগে কোচদের একটি তালিকা ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে দেওয়া হয়েছিল। সেই তালিকা থেকেই নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী কোচিং স্টাফ বাছাই করেছে দলগুলো।

‘কোচদের যে তালিকা আগে থেকেই দেওয়া হয়েছিল, সেখান থেকে কাকে নেওয়া হবে, সেটা টিম ম্যানেজমেন্ট ঠিক করেছে। কোন পজিশনে কোন কোচকে নেওয়া হবে, তারা সেটাই সিদ্ধান্ত নিয়েছে,’ বলেন মিরাজ।

ড্রাফটের পরপরই কাজ শুরু করতে চায় ওয়ালটন। মিরাজ জানান, নির্বাচনের পরদিনই টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে কোচিং সেটআপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে সামনে খেলোয়াড় ড্রাফট থাকায় আরও বিস্তারিত পরিকল্পনার সুযোগ রয়েছে।

‘গতকালই কথা হয়েছে, যখন পিক হয়েছি। গতকালই আমরা প্ল্যানিং করেছি। হয়তো বেশি সময় পাইনি, কিন্তু আমাদের কোচিং সেটআপটা কেমন হবে, সেটা নিয়ে কথা বলেছি। সামনে আমাদের যে প্লেয়ার ড্রাফট আছে, তখন আরও সুন্দরভাবে প্ল্যানিং করা যাবে,’ বলেন মিরাজ। ডি থ্রির প্লেয়ার্স ড্রাফট হবে আগামী ২৬ অক্টোবর। তিন ফরম্যাটের এই প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার কথা টি-টোয়েন্টি দিয়ে, ১৫ ডিসেম্বর বরিশালের জীবনানন্দ দাশ স্টেডিয়ামে।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি 
  বিষয়:   ঘরোয়া ক্রিকেট  নতুন দিগন্ত  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
খেলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: