দীর্ঘ ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরেছে লাতিন আমেরিকার অন্যতম শক্তিশালী দল প্যারাগুয়ে। প্রত্যাবর্তনের প্রথম ম্যাচেই তাদের প্রতিপক্ষ উত্তর আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে স্বাগতিকও তারা। লস অ্যাঞ্জেলেসে নিজেদের মাঠে সমর্থকদের প্রত্যাশা নিয়ে নামবে যুক্তরাষ্ট্র আর প্যারাগুয়ে চাইবে বিশ্বকাপে ফেরার ম্যাচটি স্মরণীয় করে রাখতে।
সর্বশেষ ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে খেলেছিল তারা। সেই আসরে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছে ইতিহাস গড়েছিল। এরপর টানা তিনটি বিশ্বকাপ মিস করার পর আবারও বিশ্বসেরাদের আসরে ফিরেছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। বাছাইপর্বে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস নিয়েই যুক্তরাষ্ট্রে এসেছে তারা।
অন্যদিকে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের ওপর প্রত্যাশার চাপও কম নয়। নিজেদের মাঠে খেলছে, সমর্থকদের সমর্থনও থাকবে পূর্ণমাত্রায়। কোচ মাউরিসিও পোচেত্তিনোর দলকে অনেকেই গ্রুপের ফেবারিট মনে করছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রক্ষণভাগের দুর্বলতা এবং ধারাবাহিক ক্লিনশিটের অভাব কিছুটা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তারকাদের লড়াইয়েও ম্যাচটি জমজমাট হওয়ার আভাস দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণের মূল ভরসা ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ, ওয়েস্টন ম্যাকেনি ও ফোলারিন বালোগুন। অন্যদিকে প্যারাগুয়ের আশা অধিনায়ক গুস্তাভো গোমেজ, মিডফিল্ডার দিয়াগো গোমেজ এবং অভিজ্ঞ মিগেল আলমিরোনকে ঘিরে। হেড টু হেডের লড়াইয়ে দুই দল এখন পর্যন্ত মুখোমুখি হয়েছে ৯ বার। যার মধ্যে ৫ বার জিতেছে প্যারাগুয়ে জিতেছে, ২টি ম্যাচ আর ড্র হয়েছে ২টি।
দুই দলের সাম্প্রতিক বাস্তবতা অবশ্য ভিন্ন গল্প বলছে। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে নিয়মিত অংশগ্রহণকারী হলেও প্যারাগুয়ের জন্য এটি হারানো গৌরব ফিরে পাওয়ার মিশন। তাই ম্যাচটিকে অনেকেই অভিজ্ঞতা বনাম ক্ষুধার লড়াই হিসেবে দেখছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ সতীর্থদের উদ্দেশে এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ঘরোয়া দর্শকদের সামনে বিশ্বকাপ খেলা জীবনে একবারই আসে। এমন সুযোগের সঙ্গে অনেক প্রত্যাশা আর চাপও থাকবে, তবে আমাদের এই চাপ উপভোগ করতে হবে এবং নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে হবে। ম্যাচের আগে সাবেক মার্কিন তারকা কোবি জোন্স বলেছেন, উদ্বোধনী ম্যাচে জয় পাওয়া গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে প্যারাগুয়ে শিবিরের বিশ্বাস, তাদের সংগঠিত রক্ষণ এবং পাল্টা আক্রমণ স্বাগতিকদের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।
অন্যদিকে ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে প্যারাগুয়ের আর্জেন্টাইন কোচ গুস্তাভো আলফারো নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। দীর্ঘ ১৬ বছর পর লাল-সাদাদের বিশ্বকাপে ফিরিয়ে এনে তিনি বলেন, আমি জানি ১৬ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা এবং হৃদয় ভাঙার কষ্ট কেমন। আমি কোনো প্যারাগুইয়ানকে যৌক্তিক আচরণ করতে বলব না। আমরা মাঠে আমাদের জীবন দিয়ে লড়তে প্রস্তুত, চামড়া বিলিয়ে দিতে প্রস্তুত।
সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে ফেরা প্যারাগুয়ের রূপকথার নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে। আর স্বাগতিকদের জন্য এটি নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের প্রথম মঞ্চ। তাই লস অ্যাঞ্জেলেসে দুদলের এই লড়াই ঘিরে উত্তেজনার কমতি নেই। গ্রুপ ‘ডি’তে যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ে ছাড়াও আরও রয়েছে অস্ট্রেলিয়া এবং তুরস্ক।