বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা ঘিরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়লেও আপাতত ফিফা সভাপতির পদ ছাড়ছেন না জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। মরক্কোর রাবাতে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকের পর ফিফার শীর্ষ নেতৃত্ব তার প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে সংস্থাটির ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ প্রকল্প পরিচালনায় ভুল স্বীকার করে ২১১টি সদস্য দেশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছে।
বুধবার রাবাতে ফিফার আফ্রিকান কার্যালয়ে প্রায় সাত ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে অংশ নেন ইনফান্তিনো, ফিফার মহাসচিব ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রম এবং ম্যানেজমেন্ট বোর্ডের সদস্যরা। বৈঠক শেষে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, ২১১ সদস্য দেশের ভোটে নির্বাচিত একমাত্র কর্মকর্তা হিসেবে ইনফান্তিনোর প্রতি তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। একই সঙ্গে ইনফান্তিনোও মহাসচিব ও ফিফা প্রশাসনের প্রতি নিজের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। ফিফা জানায়, ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও যোগাযোগের প্রক্রিয়া আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করা হবে।
বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা (ফফই) প্রকল্পের আওতায় বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের প্রায় ২১ শতাংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা ছিল। এ থেকে প্রায় ৪২০ কোটি মার্কিন ডলার সংগ্রহ করে বিশ্বজুড়ে ফুটবল উন্নয়নে ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছিল ফিফা। তবে সদস্য দেশ ও ফিফা কাউন্সিলের সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা ছাড়াই পরিকল্পনাটি এগিয়ে নেওয়া হয়। পরে বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে সংস্থাটির এবং শেষ পর্যন্ত প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়।
ফিফা জানিয়েছে, ইনফান্তিনো ও গ্রাফস্ট্রম সদস্য দেশগুলোর কাছে পাঠানো পৃথক চিঠিতে ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। পাশাপাশি পুরো বিষয়টি পর্যালোচনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী ফিফা কাউন্সিল সভায় এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে। তবে সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়েছে, প্রকল্পটি বাতিল হলেও ভবিষ্যতে ফিফার সুশাসন, সততা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে ‘ভিত্তিহীন আক্রমণ’ সহ্য করা হবে না। একই সঙ্গে দাবি করা হয়েছে, কিছু ভুল হলেও পুরো প্রক্রিয়া ফিফার বিদ্যমান নিয়মের মধ্যেই পরিচালিত হয়েছিল।
এদিকে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা এখনও ইনফান্তিনোর নেতৃত্বে আস্থা ফেরায়নি। আগামী মার্চে মরক্কোয় অনুষ্ঠিতব্য ফিফা সভাপতি নির্বাচনে তার বিরুদ্ধে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তবে আফ্রিকার অনেক ফুটবল নেতা এখনও ইনফান্তিনোর পাশে রয়েছেন। ক্যাফ সভাপতি প্যাট্রিস মোৎসেপে তাকে ‘আফ্রিকার ভালো বন্ধু’ আখ্যা দিয়ে সমর্থন জানিয়েছেন। যদিও সিয়েরা লিওনের সাবেক ফুটবল কর্মকর্তা ইশা জোহানসেনের মতো কয়েকজন আফ্রিকান প্রশাসক পরিকল্পনাটির বিরোধিতা করে এটিকে ফুটবলের অতিরিক্ত বাণিজ্যিকীকরণের ঝুঁকি বলে মন্তব্য করেছেন।
সাবেক উয়েফা প্রধান নির্বাহী লার্স-ক্রিস্টার ওলসনের মতে, ইনফান্তিনো সহজে সরে দাঁড়াবেন না। তার ভাষায়, সামনে কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে এবং এখন দেখার বিষয়, উয়েফা তার বিরুদ্ধে কতটা সমর্থন গড়ে তুলতে পারে। অন্যদিকে পর্তুগালের কিংবদন্তি লুইস ফিগো ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি করেছেন।
একই সুরে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও বলেছেন, সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই এমন গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া ছিল ‘মারাত্মক ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতা’। সব সমালোচনা সত্ত্বেও ফিফার শীর্ষ নেতৃত্ব আপাতত ইনফান্তিনোর পাশেই রয়েছে। ৫৬ বছর বয়সি এই সুইস ফুটবল প্রশাসক আগামী মার্চে মরক্কোয় অনুষ্ঠিত ফিফা কংগ্রেসে চতুর্থ মেয়াদের জন্য আবারও সভাপতি নির্বাচনে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সময়ের আলো/আআ