প্রায় তিন বছর পর আবার প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে ফিরেছে ফিলিস্তিন। পশ্চিম তীরের বেথলেহেমের আল-খাদের স্টেডিয়ামে ‘থাউজ্যান্ড মার্টার্স কাপ’-এর ম্যাচ দিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে ফিলিস্তিনি ক্লাব ফুটবলের যাত্রা। পশ্চিম তীর, গাজা ও লেবাননের ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে দুই শতাধিক ক্লাব এখন এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে।
আল-খাদের স্টেডিয়ামে আরব অর্থোডক্স বেইত জালা ও দেহেশেহ ইয়ুথের ম্যাচে গ্যালারি ছিল দর্শকে পূর্ণ। গান গেয়ে, চিৎকার করে প্রিয় দলকে সমর্থন করেছেন দর্শকেরা। কয়েক ঘণ্টার জন্য যুদ্ধ ও সংঘাতের বাস্তবতার বাইরে স্বাভাবিক জীবনের অনুভূতি পেয়েছেন তারা।
পূর্ণ গ্যালারির সামনে ফুটবল আয়োজন ছিল বিশেষ এক অনুভূতি। ফিলিস্তিনি কিশোর জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা মনে করেন, এমন আয়োজন তাদের জীবনে কিছুটা স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনে।
তবে মাঠে ফেরাটাও সহজ হয়নি। ম্যাচ চলাকালে স্টেডিয়ামের বাইরে হঠাৎ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে দর্শকেরা আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে যান। মাঠের খেলোয়াড় প্রথমে আশঙ্কা করেছিলেন, হয়তো সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে। পরে জানা যায়, সেটি ছিল সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ। কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি শান্ত হলে ম্যাচ আবার শুরু হয়।
‘থাউজ্যান্ড মার্টার্স কাপ’-এর নামকরণ করা হয়েছে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে নিহত ১ হাজার ১৪ জন ক্রীড়াবিদের স্মরণে। ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (পিএফএ) মহাসচিব ফিরাস আবু হিলাল বলেছেন, চেকপয়েন্ট, চলাচলে বিধিনিষেধ, ক্রীড়া স্থাপনায় হামলা এবং খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের গ্রেফতারের কারণে ফিলিস্তিনি ফুটবল দীর্ঘ সময় থমকে ছিল। তার দাবি, গাজায় প্রায় ৯০ শতাংশ স্টেডিয়াম ধ্বংস হয়েছে।
যুদ্ধের কারণে অনেক ফুটবলারের ক্যারিয়ারও থেমে গেছে। ক্লাবগুলোর আর্থিক সংকটে অনেক পেশাদার খেলোয়াড়কে আবার অপেশাদার পর্যায়ে ফিরতে হয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর অনেকে নিজেদের পুরোনো অবস্থায় ফিরতেও পারছেন না।
ফুটবল ফেরানোর পথে পশ্চিম তীরেও রয়েছে নানা বাধা। দূরপাল্লার যাতায়াত কমাতে পিএফএ দলগুলোকে ভৌগোলিকভাবে কাছাকাছি গ্রুপে ভাগ করেছে। এরপরও সামরিক চেকপয়েন্ট ও প্রবেশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে ম্যাচের সূচি বদলাতে হচ্ছে। পিএফএর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ম্যাচ স্থগিত হতে পারে, তবে বাতিল করা হবে না।
গাজাতেও ক্রীড়া অবকাঠামোর বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পিএফএর হিসাবে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে সেখানে ২৬৫টি ক্রীড়া স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। কিছু মাঠ এখন বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়স্থল হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।
বেথলেহেমের আইদা শরণার্থী শিবিরেও ফুটবল চালিয়ে যাচ্ছে এওডি স্পোর্টস একাডেমি। ইসরায়েলের পৃথকীকরণ দেয়ালের ছায়ায় থাকা এই মাঠে কিশোর-কিশোরীরা নিয়মিত অনুশীলন করছে। মাঠটি নিয়ে ২০২৫ সালে ধ্বংসের আদেশ জারি হলেও আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার পর সেটি স্থগিত করা হয়েছে।
সব বাধার মধ্যেও পিএফএ জানিয়েছে, ‘থাউজ্যান্ড মার্টার্স কাপ’ চালিয়ে যাওয়া হবে এবং এটি প্রতিবছর আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রায় তিন বছর পর মাঠে ফেরা ফিলিস্তিনি ফুটবলের কাছে তাই এই টুর্নামেন্ট শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, দীর্ঘ বিরতির পর খেলায় ফেরারও একটি প্রতীক।
সূত্র : আল-জাজিরা
সময়ের আলো/টিকে