বাংলাদেশের বোলারদের উইকেটের জন্য হাহাকার। ছবি : সংগৃহীতএক প্রান্তে ব্যাটারদের অবাধ রান উৎসব, অন্য প্রান্তে বাংলাদেশের বোলারদের উইকেটের জন্য হাহাকার। টানা ৩৭ ওভারেও একটি মেডেন আদায় করতে পারেনি স্বাগতিকরা। বোলারদের এমন অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে সিলেট টেস্টের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কাভেম হজের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি, কেভিন উইকহ্যাম ও ব্র্যান্ডন কিংয়ের ফিফটিতে চতুর্থ দিন শেষে বড় লিডের পথে সফরকারীরা। শেষ দিনে বাংলাদেশের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন চ্যালেঞ্জ।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোববার চতুর্থ দিনের খেলা শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৮৩ ওভারে ৩ উইকেটে ৩৪৫ রান। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের চেয়ে ৩০ রানে পিছিয়ে থেকে ব্যাটিং শুরু করেছিল ক্যারিবীয়রা। সব মিলিয়ে তাদের লিড এখন ৩১৫ রান। দিন শেষে কাভেম হজ ১৪০ এবং আমির জাঙ্গু ২০ রানে অপরাজিত আছেন। চতুর্থ উইকেটে দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে এসেছে ৬১ রান।
দিনের প্রথম সেশনের ৩২তম ওভারে শুরু হয় বাংলাদেশের বোলিংয়ের ছন্দপতন। এরপর টানা ৩৭ ওভার কোনো মেডেন আদায় করতে পারেননি স্বাগতিক বোলাররা। এ সময়ে উইকেটও পেয়েছেন মাত্র তিনটি। আগের তিন দিনের তুলনায় চতুর্থ দিনে ব্যাটিংয়ের জন্য উইকেট ছিল আরও সহজ। পেসারদের জন্য মুভমেন্ট ছিল না বললেই চলে, স্পিনাররাও পাননি প্রত্যাশিত সহায়তা।
দিনের শুরুতে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন ব্র্যান্ডন কিং ও জশুয়া ডা সিলভা। ওয়ানডে ঘরানার ব্যাটিংয়ে মাত্র ১৩ ওভারে উদ্বোধনী জুটিতে পঞ্চাশ পূর্ণ করেন তারা। শেষ পর্যন্ত তাইজুল ইসলামের বলে ভুল লাইনে ডিফেন্ড করতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হন ৩৬ রান করা ডা সিলভা।
এরপর ফিফটি তুলে নেন কিং। তবে তাইজুলের বলে কাভারে তার সহজ ক্যাচ ছাড়েন তাওহীদ হৃদয়। জীবন পেয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি ক্যারিবীয় ওপেনার। লাঞ্চের কিছুক্ষণ আগে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে সিøপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।
এরপর বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হন কেভিন উইকহ্যাম ও কাভেম হজ। তৃতীয় উইকেটে টানা ৩৭ ওভারে কোনো মেডেন না দিয়ে এই জুটিতে রান আসে ১৬৫। ৭৮ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন হজ, আর উইকহ্যাম পঞ্চাশ ছুঁতে খেলেন ৬৮ বল।
অভিষেক টেস্টের দুই ইনিংসেই পঞ্চাশের দেখা পান উইকহ্যাম। প্রায় ৪৮ বছর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোনো ক্রিকেটার এই কীর্তি গড়লেন। এর আগে সর্বশেষ ১৯৭৮ সালে অভিষেক টেস্টের দুই ইনিংসেই পঞ্চাশ পেরিয়েছিলেন সিউ শিবনারাইন।
চা বিরতির পর উইকহ্যামের ইনিংস থামান তাইজুল। লেগ স্টাম্পে করা ডেলিভারি আলতো করে খেলতে গিয়ে ফিরতি ক্যাচ দেন ২৩ বছর বয়সি ব্যাটার। ৭৮ রানে শেষ হয় তার ৭ চার ও ২ ছক্কায় সাজানো ইনিংস।
জুটি ভাঙার পর অবশেষে মেডেনের দেখা পায় বাংলাদেশ। তবে এরপর আর কোনো উইকেট নিতে পারেনি স্বাগতিকরা। দিনের বাকি সময় অনায়াসে কাটিয়ে দেন হজ ও জাঙ্গু। এর মধ্যে মিরাজের বলে হজের বিপক্ষে এলবিডব্লিউর আবেদন আম্পায়ার গ্রহণ করলেও রিভিউ নিয়ে সিদ্ধান্ত বদলে নেন তিনি।
দাপুটে ব্যাটিংয়ে ১৪২ বলে ১১ চার ও ১ ছক্কায় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন হজ। টেস্ট ক্যারিয়ারের এটি তার তৃতীয় শতক। একই সঙ্গে হাজার টেস্ট রানও পূর্ণ করেন এই মিডল অর্ডার ব্যাটার। সেঞ্চুরির পরও থামেনি তার ব্যাট। নিজের আগের সর্বোচ্চ ১২৩ রান ছাড়িয়ে দিন শেষ করেন ১৪০ রানে অপরাজিত থেকে। শতকের পর মাত্র ৪৭ বলে আরও ৪০ রান যোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে বাংলাদেশের জন্য এই ম্যাচে জয় পাওয়ার সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার আশা জোরালো করতে দুই টেস্টের সিরিজেই জয় প্রয়োজন ছিল স্বাগতিকদের। প্রথম ম্যাচ হারের পর দ্বিতীয় টেস্টেও এখন কঠিন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ।
প্রথম দিন থেকেই একাদশে তৃতীয় পেসার না থাকা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছিলেন তাসকিন আহমেদ। চতুর্থ দিনে বাংলাদেশের বোলিংয়ের দুর্বলতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। বাড়তি একজন পেসার থাকলে হয়তো ভিন্ন কিছু করার সুযোগ তৈরি হতো। তবে এখন শেষ দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস কত দ্রুত থামানো যায়, সেটিই বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে