ছবি : সংগৃহীত আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বিদায়ের ঘোষণার পর সতীর্থ, সাবেক প্রতিপক্ষ ও ফুটবল তারকাদের শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধার বার্তায় ভরে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। কিন্তু এই প্রতিক্রিয়ায় এখনো দেখা যায়নি তার দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসিকে। বিষয়টি নিয়েই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে শুরু হয়েছে আলোচনা। কারণ, আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির শেষ ম্যাচের পর তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে এগিয়ে এসেছিলেন রোনালদো নিজেই।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর ঘোষণা দেন পর্তুগিজ মহাতারকা। তার এই সিদ্ধান্তের পর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শুভেচ্ছা ও সম্মান জানানো শুরু হয়। তবে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে মেসির অনুপস্থিতি। প্রায় দুই দশক ধরে ফুটবল বিশ্বে যাঁদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে এত আলোচনা, তাদের একজনের বিদায়ে অন্যজনের নীরবতা অনেকের নজর এড়ায়নি।
গত ৭ অক্টোবর বেনিনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার হয়ে শেষ ম্যাচ খেলেন মেসি। ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা পর ইনস্টাগ্রামে আলবিসেলেস্তেদের সমর্থকদের উদ্দেশে বিদায়ী বার্তা দেন ইন্টার মায়ামির এই ফরোয়ার্ড। সেই পোস্টে মন্তব্য করে মেসির দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রশংসা করেছিলেন রোনালদো।
তিনি লিখেছিলেন, ‘লিও, দীর্ঘ সময় ধরে নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছ। তোমার এই যাত্রা চিরকাল থেকে যাবে। আর্জেন্টিনার হয়ে যা অর্জন করেছ, তার জন্য আমার পূর্ণ শ্রদ্ধা।’
শুধু মেসির বিদায়েই নয়, ব্যক্তিগত শোকের সময়ও তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন রোনালদো। গত ১২ আগস্ট বাবা হারানোর পর মেসি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকের কথা জানান। সে সময় সমবেদনা জানিয়ে পর্তুগিজ তারকা লিখেছিলেন, ‘এই কঠিন সময়ে তোমার ও তোমার পরিবারের জন্য অনেক বড় একটি আলিঙ্গন, লিও। শক্ত থেকো।’
রোনালদোর পক্ষ থেকে এমন সৌজন্য ও সহমর্মিতা প্রকাশের নজির থাকলেও এবার তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তিতে মেসির কাছ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া আসেনি।
ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছিল এই দুই তারকাকে ঘিরে। ব্যক্তিগত অর্জনের হিসাবেও দুজনের অবস্থান অনন্য। ব্যালন ডি’অর জিতেছেন রোনালদো পাঁচবার, অন্যদিকে মেসির অর্জন আটটি। বিশেষ করে ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তাঁদের দ্বৈরথ ছিল ফুটবল বিশ্বের আলোচনার বড় অংশ। সে সময় স্প্যানিশ ফুটবলের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার হয়ে মাঠে নামতেন তাঁরা।
রোনালদোর বিদায় ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনেক তারকা ফুটবলার। তাদের মধ্যে শুরুতেই ছিলেন নেইমার ও হামেস রদ্রিগেজ। দুজনই রোনালদোকে অভিহিত করেছেন ‘কিংবদন্তি’ হিসেবে।
ভিনিসিয়ুস জুনিয়র লিখেছেন, ‘চিরকাল এক নম্বর।’ সাবেক সতীর্থ সার্জিও রামোস মজার ছলে রোনালদোর জীবনের নতুন অধ্যায়ের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন। আরেক সাবেক সতীর্থ রিও ফার্দিনান্দ তাদের একসঙ্গে কাটানো সময়ের স্মৃতি তুলে ধরে লিখেছেন, ‘ভাই, এটা যেন একটা সিনেমা ছিল।’
রোনালদোর ফুটবলে অবদান শুধু মাঠের পারফরম্যান্সে সীমাবদ্ধ নয় বলে মন্তব্য করেছেন তার সাবেক সতীর্থ পেপে। পর্তুগাল জাতীয় দল ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে তার সঙ্গে খেলা নানিও আবেগঘন বার্তায় শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
এ ছাড়া ব্রুনো ফার্নান্দেস, দিয়োগো দালোত, মার্সেলো ও থিবো কোর্তোয়াও রোনালদোর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর ঘোষণায় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
তবে এতসব অভিনন্দন ও শ্রদ্ধার বার্তার মধ্যে মেসির নীরবতাই এখন বাড়তি আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সময়ের আলো/জেডি