একা লড়াই চালিয়ে গেলেন তাওহীদ হৃদয়। ছবি : সংগৃহীতএকপ্রান্তে একের পর এক উইকেটের পতন, অন্যপ্রান্তে অবিচল এক যোদ্ধা। সতীর্থরা যখন আসা-যাওয়ার মিছিলে ব্যস্ত, তখন একা লড়াই চালিয়ে গেলেন তাওহীদ হৃদয়। ব্যাট হাতে লিখলেন নতুন এক ইতিহাস। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের সব পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়ে খেললেন ২৪২ রানের অপরাজিত ইনিংস। তার ব্যাটে ভর করেই বড় বিপর্যয় সামলে সিলেট টেস্টে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে পেয়েছে ৩০ রানের লিড।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ১১১.৫ ওভারে ৩৮৬ রান তোলার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ ওভারে বিনা উইকেটে করেছে ৭ রান। প্রথম ইনিংসে ক্যারিবীয়দের সংগ্রহ ছিল ৩৫৬ রান।
গতকাল দিনের শুরুতে বাংলাদেশের অবস্থাটা ছিল বেশ নড়বড়ে। আগের দিনের ৩ উইকেটে ৮৮ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনেই বড় ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিকানের ঘূর্ণিতে ১৮৪ রানেই হারায় ৭ উইকেট। চোটের কারণে ওপেনার সাদমান ইসলাম আর ব্যাটিংয়ে নামতে না পারায় পরিস্থিতি ছিল আরও কঠিন।
সেই বিপর্যয়ের মধ্যে একাই প্রতিরোধ গড়েন হৃদয়। মিরপুরে আগের টেস্টের দুই ইনিংসেই উইকেট ছুড়ে দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি। সিলেটে সেই হতাশা পেছনে ফেলে ব্যাট হাতে নিজের সামর্থ্যরে প্রমাণ দিয়েছেন এই ডানহাতি। ৩৫৯ বলের ইনিংসে ২২টি চার ও ১১টি ছক্কায় ২৪২ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিকেই ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দেন হৃদয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের মালিক হয়ে যান।
হৃদয়ের ইনিংসের সবচেয়ে বড় দিক ছিল লেজের ব্যাটারদের নিয়ে তার লড়াই। অষ্টম উইকেটে তাইজুল ইসলামের সঙ্গে ১৬৭ বলে ১১৭ রানের জুটি গড়েন তিনি। এরপর নবম উইকেটে তাসকিন আহমেদের সঙ্গে যোগ করেন আরও ৮৫ রান। এই রান আসে ১২১ বলে। ফলে যে বাংলাদেশ একসময় বড় লিডের চাপে পড়তে যাচ্ছিল, সেই দলই উল্টো এগিয়ে যায়।
দিনের শুরুতে ৩ উইকেটে ৮৮ রান নিয়ে ব্যাট করতে নেমে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ যোগ করে আরও ২৯৮ রান। এর মধ্যে ২১৩ রানই এসেছে হৃদয়ের ব্যাট থেকে। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের মোট রানের ৬২ দশমিক ৬৯ শতাংশ একাই করেছেন তিনি।
অন্যদের মধ্যে চোট কাটিয়ে ফেরা মুশফিকুর রহিম ৭৬ বলে ৩৪ রান করেন। এরপর তাওহীদ হৃদয়কে দারুণ সঙ্গ দেওয়া তাইজুল ইসলামের ব্যাট থেকে আসে ৫৬ বলে ২২ রান। বাকি সাত ব্যাটারের কেউই ১৮ রানের বেশি করতে পারেননি।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে জোমেল ওয়ারিকান একাই বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে বড় ধস নামান। তবে হৃদয়ের অবিচল ব্যাটিংয়ে শেষ পর্যন্ত সেই চাপ ধরে রাখতে পারেনি ক্যারিবীয়রা।
দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যারিবীয়রা ব্যাট করতে নামলে শুরুতেই বাংলাদেশের রিভিউ ব্যবহারে ধাক্কা লাগে। পেসার তাসকিন আহমেদের করা প্রথম ওভারেই দুটি রিভিউ হারায় স্বাগতিকরা। ফলে হাতে বাকি থাকে আর মাত্র একটি। দিনের খেলা শেষ হওয়ার সময় ব্র্যান্ডন কিং ১৩ বলে একটি চারে ৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। জশুয়া ডি সিলভা ১১ বলে ২ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন।
তৃতীয় দিনের শেষ বিকালে ম্যাচের চিত্র বদলে দিয়েছেন হৃদয়। এখন বাংলাদেশের লক্ষ্য, এই লিডকে কাজে লাগিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওপর চাপ আরও বাড়ানো। সিলেটে একাই লড়াই করে ইতিহাস গড়া হৃদয়ের ব্যাটেই আপাতত স্বস্তি ফিরেছে বাংলাদেশ শিবিরে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে