প্রকাশ: রোববার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:২৩ পিএম
প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিজেদের সামর্থ্যরে প্রমাণ দিয়েছে দেশের প্যারা অ্যাথলেটরা। ছবি : সংগৃহীতএশিয়ান প্যারা গেমসে এবার পদকের স্বাদ পায়নি বাংলাদেশ। তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিজেদের সামর্থ্যরে প্রমাণ দিয়েছে দেশের প্যারা অ্যাথলেটরা। জাপানের আইচি-নাগোয়ায় অনুষ্ঠিত ৫ম এশিয়ান প্যারা গেমসে ছয়টি ডিসিপ্লিনে ১২ জন অ্যাথলেট অংশগ্রহণ করে। অক্টোবরে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ কোনো পদক অর্জন করতে না পারলেও কয়েকটি ইভেন্টে পদকের কাছাকাছি লড়াই, ব্যক্তিগত সেরা পারফরম্যান্স এবং পরবর্তী রাউন্ডে ওঠার সাফল্য আশার আলো দেখিয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও ভালো করতে দেশের প্যারা স্পোর্টসের প্রস্তুতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়টিও সামনে এসেছে।
ন্যাশনাল প্যারালিম্পিক কমিটি অব বাংলাদেশের (এনপিসি বাংলাদেশ) উদ্যোগে প্যারা আরচারি, প্যারা অ্যাথলেটিকস, প্যারা সুইমিং, প্যারা ব্যাডমিন্টন, প্যারা টেবিল টেনিস ও বোচিয়া— এই ছয় ডিসিপ্লিনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত পারফরম্যান্স এসেছে প্যারা অ্যাথলেটিকসের মো. সেলিম রেজার কাছ থেকে। টি-৪৪ হাই জাম্পে ১.৮৩ মিটার উচ্চতা অতিক্রম করে সম্মিলিতভাবে চতুর্থ স্থান অর্জন করেন তিনি। ব্রোঞ্জ পদকজয়ীর ফল ছিল ১.৮৬ মিটার। অর্থাৎ মাত্র তিন সেন্টিমিটারের ব্যবধানে পদক হাতছাড়া হয় সেলিমের।
প্যারা আরচারিতেও নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রতিযোগীরা। নারী কম্পাউন্ড বিভাগে জুমা আক্তার বাছাইপর্বে ৬৭৬ স্কোর করে চতুর্থ স্থান অর্জন করেন। এরপর জায়গা করে নেন এলিমিনেশন রাউন্ডে। পুরুষ রিকার্ভ বিভাগে আল আমিন হোসেন ৬১৮ স্কোর নিয়ে ষষ্ঠ হন। তিনিও বাছাইপর্ব পেরিয়ে পরবর্তী রাউন্ডে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন। প্যারা ব্যাডমিন্টনে আলী ইমামের পারফরম্যান্সও ছিল উল্লেখ করার মতো। একক ইভেন্টে হংকংয়ের প্রতিপক্ষকে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠেন তিনি। এর আগে জাপান প্যারা ব্যাডমিন্টন ইন্টারন্যাশনালের দ্বৈত বিভাগে ব্রোঞ্জ জয়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। একই ডিসিপ্লিনে আন্তর্জাতিক প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াই করেছেন জয়তু ধরও।
প্যারা টেবিল টেনিসে সৌমিক মণ্ডল গ্রুপ পর্বে একটি ম্যাচে জয় পেয়েছেন। অন্যদিকে প্যারা সুইমিংয়ে ৫০ মিটার ফ্রিস্টাইল ও ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোক ইভেন্টে অংশ নেন পল্লব কর্মকার।
ব্যক্তিগত সেরা পারফরম্যান্সের তালিকায়ও রয়েছে কয়েকটি ইতিবাচক অর্জন। প্যারা অ্যাথলেটিকসে পারভেজ মিয়া লং জাম্পে ৫.৮২ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করেন। চৈতী রানী দেব শটপুটে ৪.২০ মিটার এবং ডিসকাস থ্রোতে ১১.৬৫ মিটার নিক্ষেপ করে দুটি ইভেন্টেই ষষ্ঠ স্থান অর্জন করেন। অ্যাথলেটদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাতেও কিছু ইতিবাচক অভিজ্ঞতা হয়েছে। প্যারা আরচারির একজন প্রতিযোগী আকস্মিক অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত চিকিৎসা ও হাসপাতালের সহায়তা নিশ্চিত করা হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি আবার প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে সক্ষম হন। পুরো আসরে উল্লেখযোগ্য কোনো গুরুতর ক্রীড়াজনিত আঘাতের ঘটনাও ঘটেনি।
এশিয়ান প্যারা গেমস সামনে রেখে তিন মাস বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে নিবিড় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করে ন্যাশনাল প্যারালিম্পিক কমিটি অব বাংলাদেশ (এনপিসি, বাংলাদেশ)। কারিগরি দক্ষতা, শারীরিক সক্ষমতা, ফিটনেস, প্রতিযোগিতার কৌশল ও মানসিক প্রস্তুতিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ধারাবাহিক সাফল্যের জন্য শুধু প্রতিযোগিতার আগে প্রস্তুতি নিলেই চলে না। এই প্রতিযোগিতায় সেটা স্পষ্টভাবে বোঝা গেছে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে