ব্যর্থ সামরিক আইন জারির অজুহাত তৈরির উদ্দেশ্যে উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে সামরিক ড্রোন পাঠানোর অভিযোগে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়োলকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপের বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে।
সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট ইউন সুক ইয়োলকে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং শত্রুপক্ষকে সহায়তার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে এই রায় ঘোষণা করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সাবেক এই রক্ষণশীল প্রেসিডেন্ট পূর্বপরিকল্পিতভাবে ড্রোনের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়াকে উসকানি দেওয়ার ষড়যন্ত্রে শুরু থেকেই সরাসরি জড়িত ছিলেন।
আদালতে নিজের বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউন সুক ইয়োল। তার আইনজীবীদের দাবি, পিয়ংইয়ংয়ে ড্রোন পাঠানোর এই অভিযানের বিষয়ে ইউন কোনো নির্দেশ দেননি এবং পরবর্তীতে কোনো অনুমোদনও করেননি।
আইনজীবীদের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ড্রোন পাঠানোর এই ঘটনাটির সাথে সামরিক আইন জারির কোনো সম্পর্ক ছিল না। বরং উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে মাসের পর মাস ধরে দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তে আবর্জনাভর্তি বেলুন পাঠানোর যে উসকানি দেওয়া হচ্ছিল, এটি ছিল তারই একটি পাল্টা জবাব। তবে আদালত এই যুক্তি গ্রহণ করেননি। এর আগে গত এপ্রিল মাসে প্রসিকিউটররা সাবেক এই প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ৩০ বছরের কারাদণ্ডের আর্জি জানিয়েছিলেন।
সাবেক শীর্ষ সরকারি প্রসিকিউটর থেকে দেশের প্রেসিডেন্ট হওয়া ইউন সুক ইয়োলের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের কফিনে এই রায় আরেকটি বড় পেরেক ঠুকে দিল। তার আকস্মিক সামরিক আইন জারির ঘোষণা এশিয়ার চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি দক্ষিণ কোরিয়াকে দশকের মধ্যে সবচেয়ে গভীর রাজনৈতিক সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছিল।
বর্তমানে কারাগারে বন্দি থাকা ইউন সুক ইয়োল নিম্ন আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন বলে জানা গেছে।
/কহু