যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান তিন মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ অবসানে চলতি সপ্তাহান্তেই একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি সই হতে পারে বলে জোরালো আশা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, এই চুক্তি সই হওয়ার পরপরই আন্তর্জাতিক পণ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হবে। তবে ওয়াশিংটনের এই অতি-আশাবাদের বিপরীতে ভিন্ন সুর শোনা গেছে তেহরানের কণ্ঠে। ইরান সাফ জানিয়েছে, চুক্তির বিষয়ে তারা এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই বিধ্বংসী যুদ্ধ অবসানের ক্ষেত্রে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় অগ্রগতি। এই যুদ্ধে ইতিমধ্যে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, আমরা ইরানের সাথে যুদ্ধের একটি বড় ধরনের সমাধান করে ফেলেছি। তিনি ইঙ্গিত দেন, ইউরোপে এই সপ্তাহান্তেই চুক্তিটি সই হতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে এতে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্বাক্ষর করতে পারেন।
সাংবাদিকরা যখন ট্রাম্পের কাছে জানতে চান, ইরানের শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনেই এই চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছেন কি না, তখন ট্রাম্প উত্তর দেন, আমার জানা মতে উত্তরটি হ্যাঁ। আলোচনার এই ইতিবাচক অগ্রগতির খবর ছড়িয়ে পড়তেই মার্কিন শেয়ারবাজারে সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয় এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম কিছুটা হ্রাস পায়। অবশ্য ট্রাম্প এও স্বীকার করেছেন যে চুক্তিটি বর্তমানে একটি শক্তিশালী সমঝোতা স্মারক বা খসড়া আকারে রয়েছে, যা কিছুটা ধারণাগত।
ট্রাম্পের এই স্বস্তির বার্তার বিপরীতে বরাবরের মতোই সাবধানী ও অনমনীয় অবস্থান প্রকাশ করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানান, আলোচনার অধীনে থাকা চুক্তির পাঠ্যের একটি বড় অংশ চূড়ান্ত করা হলেও ইরান তার নীতিগত বা ‘লাল রেখা’র বিষয়ে কোনো আপস করবে না।
মুখপাত্র স্পষ্ট করে বলেন, এই বিষয়ে আমরা এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাইনি। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় এবং বর্তমানে সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থাগুলো এটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করছে। ইরানের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে তাদের ওপর আরোপিত সমস্ত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ করে রাখা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের তহবিল মুক্তি এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর তেহরানের একক নিয়ন্ত্রণের স্বীকৃতি।
/কহু