২০২০ সালের নভেম্বরে ভয়াবহ এক দুর্ঘটনার পর রাউল হিমেনেজের ফুটবল ক্যারিয়ার তো বটেই, তার জীবন নিয়েও তৈরি হয়েছিল শঙ্কা। মাথার খুলি ভেঙে যাওয়ার মতো গুরুতর চোট থেকে ফিরে এসে ছয় বছর পর বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দেশের হয়ে গোল করে নতুন এক অনুপ্রেরণার গল্প লিখলেন মেক্সিকান এই ফরোয়ার্ড।
বৃহস্পতিবার (১২ জুন) ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারায় স্বাগতিক মেক্সিকো। ম্যাচের ৬৭তম মিনিটে রবার্তো আলভারাদোর ক্রসে হেড করে দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন ৩৫ বছর বয়সী হিমেনেজ।
গোল করার পরই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। আকাশের দিকে আঙুল তুলে বাবাকে স্মরণ করেন মেক্সিকোর এই তারকা। চলতি বছরের মার্চ মাসে মারা গেছেন তার বাবা রাউল হিমেনেজ ভেগা। পরে কান্নায় ভেঙে পড়লে সতীর্থরা ছুটে এসে তাকে জড়িয়ে ধরেন।
তবে এই মঞ্চে হিমেনেজের ফিরে আসার গল্পও কম নাটকীয় নয়। ২০২০ সালে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে আর্সেনালের বিপক্ষে ম্যাচে ডিফেন্ডার ডেভিড লুইজের সঙ্গে ভয়াবহ মাথায়-মাথায় সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন তিনি। মাঠেই তাকে অক্সিজেন দেওয়া হয়। মাথার খুলি ভেঙে যাওয়ায় তার জীবন নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয় হিমেনেজকে। চোটের পর ছয় মাস তিনি দলের সঙ্গে অনুশীলন করতে পারেননি। প্রায় আট মাস পর মাঠে ফিরে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে সাউদাম্পটনের বিপক্ষে নিজের প্রত্যাবর্তনের প্রথম গোল করেন। এখনো নিরাপত্তার জন্য বিশেষ হেডব্যান্ড পরে খেলেন তিনি।
সেই ভয়াবহ ঘটনার প্রায় ছয় বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে গোল করে ইতিহাসের অংশ হয়ে গেলেন হিমেনেজ। নিজের দেশ, প্রায় ৮০ হাজার দর্শকপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী আজতেকা স্টেডিয়ামে পাওয়া এই গোল তার ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে।
এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে করা গোলের মাধ্যমে মেক্সিকোর সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন হিমেনেজ। জাতীয় দলের হয়ে ১২৫ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা এখন ৪৬। তার সামনে আছেন শুধুমাত্র হাভিয়ের হার্নান্দেজ, যার গোল ৫২টি।
আরবিএন