ইসলামে জীবিকা অর্জন একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হিসেবে বিবেচিত হলেও সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব রাষ্ট্র ও সমাজের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে বিধবা, ইয়াতিম, মিসকিন ও অভাবগ্রস্ত মানুষের প্রয়োজন পূরণে রাষ্ট্রকে বিশেষ তহবিল গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শিশুরা জাতির ভবিষ্যৎ সম্পদ। তাদের সুশিক্ষা, নৈতিকতা ও সার্বিক বিকাশ নিশ্চিত করা অভিভাবকদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। তবে কোনো শিশুর মধ্যে বিশেষ কোনো পেশাগত দক্ষতা বা কাজের প্রতি আগ্রহ থাকলে, অথবা সে পড়াশোনার প্রতি অনাগ্রহী হলে, ইসলাম তাকে উপযুক্ত পরিবেশে কাজ শেখার সুযোগ দিয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে শরিয়ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত আরোপ করেছে।
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, শিশুকে এমন বয়সে কাজ শেখাতে হবে, যখন সে শারীরিক ও মানসিকভাবে তা গ্রহণের উপযুক্ত হয়। ছেলে ও মেয়ের স্বভাব, সামর্থ্য ও প্রয়োজন বিবেচনায় কাজ নির্বাচন করতে হবে। কর্মস্থলে শিশুর জীবন, স্বাস্থ্য, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আবশ্যক।
শিশুর শ্রমের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ তার প্রয়োজন পূরণে ব্যয় করতে হবে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত অর্থ তার জন্য আমানত হিসেবে সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি কাজের কারণে শিশুর শিক্ষা ব্যাহত হওয়া যাবে না এবং এমন কোনো কাজে তাকে নিয়োজিত করা যাবে না, যা তার শারীরিক, মানসিক বা নৈতিক বিকাশের জন্য ক্ষতিকর।
এ ছাড়া শিশুকে কাজে যুক্ত করার আগে তার অভিভাবক বা দায়িত্বশীল ব্যক্তির অনুমতি গ্রহণ করতে হবে। ইসলামি আইনবিদদের (ফকিহ) মতে, জ্ঞান-বুদ্ধিসম্পন্ন কিন্তু পড়াশোনায় অনাগ্রহী শিশুকে অভিভাবকের অনুমতিতে কোনো পেশা বা কাজ শেখানো বৈধ। তবে যে শিশু পড়াশোনায় আগ্রহী এবং যার শিক্ষার ব্যয়ভার পরিবার বহন করতে সক্ষম, তাকে শ্রমে নিয়োজিত করা শরিয়তের দৃষ্টিতে সমর্থনযোগ্য নয়।
এ কারণে ইসলামে শিশুদের শ্রমশক্তি হিসেবে ব্যবহার নয়; বরং তাদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষতা ও কাজ শেখানোর সুযোগের কথা বলা হয়েছে।
সূত্র : রাদ্দুল মুহতার: খ. ২, পৃ. ৩৩৮, ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: খ. ১, পৃ. ৫৬২, বাদায়িউস সানায়ি: খ. ৪, পৃ. ১৭৬
/এসএকে