দানশীল ব্যক্তির মর্যাদা ও পুরস্কার

মুহাম্মদ রেজাউল করিম

ইসলাম

ইসলামে দান-সদকার গুরুত্ব অপরিসীম। যেসব ইবাদতের অসংখ্য পুরস্কারের কথা কুরআন-হাদিসে ঘোষণা করা হয়েছে দান-সদকা তার অন্যতম। শুধু বিপুল সওয়াব প্রাপ্তিই

2026-06-12T14:30:54+00:00
2026-06-12T14:30:54+00:00
 
  শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬,
২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
ইসলাম
দানশীল ব্যক্তির মর্যাদা ও পুরস্কার
মুহাম্মদ রেজাউল করিম
প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ২:৩০ পিএম   (ভিজিট : ৬)
ছবি : সংগৃহীত
ইসলামে দান-সদকার গুরুত্ব অপরিসীম। যেসব ইবাদতের অসংখ্য পুরস্কারের কথা কুরআন-হাদিসে ঘোষণা করা হয়েছে দান-সদকা তার অন্যতম। শুধু বিপুল সওয়াব প্রাপ্তিই নয় বরং দানের উপকারিতা নানামুখী। পবিত্র কুরআনের বহু আয়াত এবং অসংখ্য হাদিসে মানব সম্প্রদায়কে দানের প্রতি বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) দানের বহু উপকারিতার কথা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় উম্মতকে বলে গেছেন।

দান-সদকার কারণে সম্পদ হ্রাস পায় না। বরং দানের মাধ্যমে সম্পদের অতুলনীয় প্রবৃদ্ধি ঘটে। হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, এমন কোনো দিন যায় না যেদিন দুজন ফেরেশতা পৃথিবীতে আগমন করেন না, তাদের একজন দানশীল ব্যক্তির জন্য দোয়া করতে থাকেন এবং বলেন, হে আল্লাহ! দানকারীর মালে বিনিময় দান করুন (বিনিময় সম্পদ বৃদ্ধি করুন), দ্বিতীয় ফেরেশতা কৃপণের বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে বদদোয়া করে বলতে থাকেন, হে আল্লাহ! কৃপণকে ধ্বংস করুন’ (বুখারি : ১৪৪২; মুসলিম : ১০১০)। অপর হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘দান-সদকা সম্পদ বৃদ্ধি বৈ কমায় না।’ (মুসলিম : ২৫৮৮)

দান-সদকার মাধ্যমে বিপদাপদ দূর হয়। দান দানকারীর জন্য বিপদের সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। যার ফলে বিপদাপদ দানকারীকে স্পর্শ করতে পারে না। হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা অতিসত্বর দানের দিকে ধাবিত হও, কেননা বিপদাপদ দানকে অতিক্রম করতে পারে না’ (শুয়াবুল ঈমান : ৩০৮২; আত তারগিব : ১২৯৯)। 

ইমাম ইবনুল কাইয়িম (রহ.) বলেন, দানের বহুবিধ উপকারিতা রয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো, বিপদ দূরীভূত করা। বিপদাপদ দূরীকরণে দানের প্রভাব অতুলনীয়। এমনকি পাপাচার এবং কাফেরের দানেরও প্রভাব রয়েছে। দানের মাধ্যমে বিপদাপদ দূর হওয়ার বিষয়টি সর্বজনবিদিত ও বাস্তব অভিজ্ঞতায় স্বীকৃত। (আল ওয়াবিলুস সায়্যিব মিনাল কালিমিত তয়্যিব, পৃ : ৩১২)

দান-সদকা দানকারী ব্যক্তিকে অপমৃত্যু থেকে রক্ষা করে। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই সদকা অপমৃত্যু রোধ করে’ (তিরমিজি : ৬৬৪; ইবনে হিব্বান : ৩৩০৯)। অপমৃত্যু বলতে ওই সব মৃত্যুকে বোঝানো হয়েছে যা থেকে স্বয়ং নবীজি (সা.) পানাহ চেয়েছেন। তা হলো- পানিতে পড়ে, আগুনে পুড়ে, ওপর থেকে পতিত হয়ে, যুদ্ধ থেকে পলায়নরত অবস্থায় বা এ ধরনের কোনো কারণে মৃত্যুবরণ করা। 

হঠাৎ মৃত্যুকেও কেউ কেউ অপমৃত্যু বলেছেন’ (মিরকাত : ৪/১৩৪১)। হাশরের ময়দানে সূর্যের প্রখর উত্তাপের সময় আল্লাহর আদেশে দান-সদকা দানকারীকে ছায়া দেবে। হজরত উকবা ইবনে আমের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, হাশরের ময়দানে মানুষের মাঝে চূড়ান্ত ফয়সালা হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রত্যেক দানকারী ব্যক্তি তার সদকার ছায়ার আশ্রয়ে থাকবে। (মুসনাদে আহমদ : ১৭৩৩৩; ইবনে হিব্বান : ৩৩১০)।

দানশীল ব্যক্তি রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্তি লাভ করে। হজরত আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা তোমাদের মধ্যকার অসুস্থ ব্যক্তিদের দানের মাধ্যমে চিকিৎসা করো (বায়হাকি : ৬৫৯৩)। দান করলে আল্লাহ তায়ালা দানকারীর হায়াত বাড়িয়ে দেন। হজরত আমর ইবনে আওফ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মুসলমান ব্যক্তির সদকা তার হায়াত বৃদ্ধি করে (তাবারানি, হাদিস : ৩১)। 

ইমাম নববী (রহ.) ‘হায়াত বৃদ্ধি’র উদ্দেশ্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, আল্লাহ হায়াতের মধ্যে বরকত দান করবেন, ফলে অল্প সময়েও অধিক ইবাদত-বন্দেগি করার তওফিক লাভ হবে। এ ছাড়া পবিত্র হাদিস শরিফে দানের আরও বহু উপকারিতা ও ফজিলতের কথা বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের বেশি বেশি দান করার এবং দানের মাধ্যমে ইহজাগতিক ও পারলৌকিক প্রভূত কল্যাণ লাভের তওফিক দান করুন।

সময়ের আলো/আআ



  বিষয়:   দানশীল  ব্যক্তি  মর্যাদা  পুরস্কার 


Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: