রবিউল আউয়াল মাসের ফজিলত

মাওলানা আবুল হাসান

ইসলাম

পবিত্র রবিউল আউয়াল মাস উপস্থিত, যে মাসে জন্ম ও মৃত্যু হয় প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের। পৃথিবী যখন

2026-08-14T22:45:42+00:00
2026-08-14T22:45:42+00:00
 
  শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬,
৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬
ইসলাম
রবিউল আউয়াল মাসের ফজিলত
মাওলানা আবুল হাসান
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
পবিত্র রবিউল আউয়াল মাস উপস্থিত, যে মাসে জন্ম ও মৃত্যু হয় প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের। পৃথিবী যখন পাপের অন্ধকারে ভরে গিয়েছিল, মানবতা বিদূরিত হয়ে পশুত্বের বিজয় পতাকা উড্ডীন হয়েছিল, মানবজাতি পঙ্গপালের ন্যায় জাহান্নামে ঝাঁপিয়ে পড়ছিল, পুরো বিশ্ব যেন জাহেলিয়াতের ছোঁয়ায় আচ্ছন্ন ছিল; ঠিক সে সময়ের এক রবিউল আউয়াল মাসে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁর সৃষ্টির ওপর দয়া করে নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে ধরার বুকে রহমত হিসেবে প্রেরণ করেন। তার আগমন বিশ্ববাসীর জন্য রহমত। 

 মুমিন, কাফের, জিন-ইনসান সবার জন্য তিনি রহমত। তাই ইসলামের ইতিহাসে রবিউল আউয়াল হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ মাস। জন্ম তাঁর যেমন এ মাসে, আবার এ মাসেই তাঁর ওপর অর্পিত রিসালাতের দায়িত্ব পালন শেষে নিজ প্রভুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে এই নশ্বর পৃথিবী থেকে বিদায় গ্রহণ এবং মহান আল্লাহ তায়ালার সান্নিধ্যে গমন করেন। এ মাসেই তিনি মাতৃভূমি মক্কা ছেড়ে মদিনায় হিজরত করেন। সুতরাং একদিকে এ মাসে রাসুল (সা.)-এর শুভাগমন বিশ্ববাসীকে পুলকিত করে, অন্যদিকে এ মাসে তাঁর প্রস্থান মুসলিম বিশ্বকে শোকাভিভূত করে। তাই এ মাসটি একই সঙ্গে শোক ও আনন্দের। সে কারণেই এ মাসের আলাদা একটি মাহাত্ম্য ও শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে অন্যান্য মাসের ওপর।


মহান আল্লাহ সময়কে মানুষের প্রয়োজনে ব্যবহারোপযোগী করে প্রাকৃতিকভাবে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করেছেন। যেমন রাত, দিন, মাস, বছর ইত্যাদি। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তিনিই সে মহান সত্তা, যিনি বানিয়েছেন সূর্যকে উজ্জ্বল আলোকময়, আর চন্দ্রকে স্নিগ্ধ আলো বিতরণকারীরূপে এবং অতঃপর নির্ধারিত করেছেন এর জন্য গতিপথগুলো, যাতে করে তোমরা চিনতে পারো বছরগুলোর সংখ্যা ও হিসাব। আল্লাহ এর সবকিছু এমনিতেই সৃষ্টি করেননি, কিন্তু যেসব লোকের জ্ঞান আছে, তাদের জন্য তিনি নিদর্শনগুলো প্রকাশ করেন’ (সুরা ইউনুস : ৫)। আরবি মাসগুলোর মধ্যে রবিউল আউয়াল মাস বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। 

এটি ইসলামি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আরবি তৃতীয় মাস। রবি শব্দটি ‘ইরতিবাউন’ শব্দ থেকে নির্গত। অর্থ হলো, ঘরে থাকা। যেহেতু এ মাসে লোকেরা ঘরে বসে থাকত, এ জন্য একে রবি নাম দেওয়া হয়েছে। আবার রবি অর্থ বসন্তকালও। এ মাসে আরবের প্রকৃতিতে বসন্ত লাগত, তাই এর নাম রবিউল আউয়াল বা প্রথম বসন্ত দেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ নামকরণের কারণ বলতে গিয়ে বলেছেন, আরবে বসন্তকাল দুই মাসজুড়ে হয়ে থাকে; রবিউল আউয়াল এবং রবিউল আখের। অর্থাৎ বসন্তের প্রথম ও শেষ বসন্ত। যে জিনিসের গণনায় তিন আছে সে ক্ষেত্রে ‘সানি’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়। এ দুই মাসের পর যেহেতু এ নামে আর কোনো মাস নেই তাই রবিউস সানি না বলে রবিউল আখির বলাই ভালো। অনেকের মতে তো ‘সানি’ শব্দ ব্যবহারের অবকাশই নেই।

সংগত কারণেই এ মাসের দাবি হলো, নবীজি (সা.)-এর মহব্বত-ভালোবাসা ও তাঁর স্মরণে বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগিতে মনোযোগী হওয়া, নেক ও কল্যাণমূলক কাজ দিয়ে জীবনটাকে সজ্জিত করা। আল্লাহ প্রদত্ত নেয়ামতগুলোর শুকরিয়া আদায় করা। আর কিছু না হোক অন্তত এ মাসে সুন্নতবিরোধী কোনো কাজ না করা, বেদাত ও অপছন্দনীয় বিষয় হতে বিরত থাকা। নবীজি (সা.)-এর কষ্টের কারণ হয় এমন সব কাজকর্ম হতে দূরে থাকা। তার আনীত শরিয়তের সাংঘর্ষিক ছোট ছোট কাজগুলোকেও অপছন্দের দৃষ্টিতে দেখা। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, এসব ব্যাপারে অনেক নামধারী নবী-প্রেমিককে ধর্মের ব্যাপারে দুঃসাহস প্রদর্শন করতে দেখা যায়। তারা মূলত ধর্মের নামে অধর্ম ছড়ায়।

ধর্মবিরোধী কর্মকাণ্ডগুলোকে ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে প্রচার চালায়। মহানবী (সা.)-এর আগমনে একজন মুসলমান সবসময় কৃতজ্ঞতাস্বরূপ আনন্দিত থাকবে, আনন্দ প্রকাশ করবে; এটা তার কর্তব্য। তবে যুগে যুগে প্রতি বছর যখনই আল্লাহর নবী (সা.)-এর আগমনের এ মাস আসে তখন আল্লাহর নবী-প্রেমিকদের মাঝে আনন্দ প্রকাশ, নতুন উদ্দীপনা শুরু হয় এবং আনন্দ প্রকাশের ধরনও কাল-পাত্রভেদে বিভিন্নরূপে রূপান্তরিত হয়। 


আনন্দ প্রকাশের বাহ্যিক রূপ হলো নবীজি (সা.)-এর জীবন-আদর্শ নিয়ে বিভিন্ন সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, সভা-সমাবেশ করা। আর তাঁর আধ্যাত্মিক রূপ হলো নবীজি (সা.)-এর নির্দেশনা, পয়গামকে ধারণ করা। নিজের জীবনকে নবী (সা.)-এর সুন্নত অনুযায়ী গড়ে তোলা। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে, প্রতিটি অবস্থায়, লেনদেন, বিয়েশাদি, কেনাবেচা, খাওয়া-দাওয়া, বিশ্রাম, হাসি-কান্নাসহ সর্বাবস্থায় প্রিয়নবী (সা.)-এর সুন্নত অনুযায়ী জীবনযাপন করাই তাঁর প্রতি ভালোবাসা। শুধু মুখে মুখে নবী (সা.)-এর ভালোবাসার দাবি করলে ভালোবাসা হয় না, বরং তাঁর সুন্নত মোতাবেক জীবনযাপন করলে প্রকৃত ভালোবাসা প্রকাশ পায়। আল্লাহ তায়ালা বোঝার ও আমলের তওফিক দান করুন।

সময়ের আলো/এসএকে


  বিষয়:   রবিউল আউয়াল  মাস  ফজিলত  ইসলাম  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
ইসলাম- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: