লোকসভা নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই চরম নাটকীয়তার সাক্ষী হলো পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি। শুক্রবার (১২ জুন) গভীর রাতে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কলকাতার কালীঘাটের বাসভবনে অতর্কিত হানা দেয় রাজ্য পুলিশ। প্রায় ৪ ঘণ্টা ধরে চলা এই তল্লাশি অভিযানকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, শনিবার সকালেই তৃণমূলের আরেক দাপুটে নেতা ও বিধায়ক মদন মিত্রের দক্ষিণেশ্বরের বাড়িতে হানা দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।
সূত্র মারফত জানা গেছে, শনিবার ভোর রাত ৩টার দিকে পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনী থানার পুলিশ ও কলকাতা পুলিশের একটি যৌথ দল কেন্দ্রীয় বাহিনীর সহায়তায় কালীঘাটের পটুয়াপাড়া এলাকায় অভিষেকের বাড়ি ঘেরাও করে। মূলত অভিষেকের দীর্ঘদিনের আপ্তসহায়ক (পিএ) সুমিত রায়ের খোঁজে এই হানা দেওয়া হয়। সুমিতের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার আর্থিক জালিয়াতি ও জমি সংক্রান্ত প্রতারণার মামলা রয়েছে।
পুলিশের দাবি, সুমিত রায়ের মোবাইল টাওয়ার লোকেশন অভিষেকের বাড়ির ভেতরে দেখাচ্ছিল। পুলিশ দরজা খোলার জন্য বারবার কড়া নাড়লেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। দীর্ঘ ৪ ঘণ্টা অপেক্ষার পর সকাল সাড়ে ৬টার দিকে দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর কর্মীদের ডেকে দরজা ও তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকে পুলিশ।
অভিযানের খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে যান তৃণমূল সুপ্রিমো তথা পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি নিজে সেখানে উপস্থিত হয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেন। সকাল ৮টার দিকে পুলিশ ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উভয় পক্ষই ওই বাড়ি থেকে চলে যান। তবে তল্লাশিতে সুমিত রায়কে সেখানে পাওয়া যায়নি।
বাড়ি থেকে বের হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের বলেন, তল্লাশির বিষয়ে তদন্তকারী সংস্থাকে গিয়ে জিজ্ঞাসা করুন। আমি কি তাকে ভেতরে লুকিয়ে রেখেছি? অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার নোংরা উদাহরণ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো অভিষেকের ওপর আইনি চাপ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। রাজ্য বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ রেজোলিউশনে কয়েকজন তৃণমূল বিধায়কের ভুয়া স্বাক্ষরের মামলায় গত বৃহস্পতিবার রাজ্য গোয়েন্দা বিভাগ সিআইডি তাকে সদর দপ্তরে প্রায় ৬ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে। সন্তোষজনক উত্তর না পাওয়ায় আগামী ১৪ জুন তাকে আবারও তলব করা হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনী প্রচারণায় উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে একটি সাইবার ক্রাইম মামলায় ১৬ জুন ভবানী ভবনে হাজির হতে সিআইডি নোটিশ পাঠিয়েছে। একই সাথে আগামী সোমবার প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে তার।
অন্যদিকে অভিষেকের বাড়ির ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শনিবার সকালে কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক ও সাবেক মন্ত্রী মদন মিত্রের দক্ষিণেশ্বরের বাসভবনসহ মোট ৭টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি শুরু করেছে ইডি। কামারহাটিসহ বিভিন্ন পৌরসভায় বেআইনি নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে এই হানা দেওয়া হয়েছে।
ইডির অভিযোগ, দালালদের মাধ্যমে নগদ টাকা ও সোনার বিনিময়ে অন্তত ১২৫টি অযোগ্য প্রার্থীকে পৌরসভায় চাকরি পাইয়ে দিয়েছেন মদন মিত্র। বিপুল পরিমাণ এই অবৈধ অর্থ লেনদেনের তথ্য ও নথির সন্ধানেই এই কেন্দ্রীয় অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।
/কহু