মহারাষ্ট্রের পালঘর জেলায় এক নাবালিকা ফুটবলারকে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে এক বেসরকারি ফুটবল কোচকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গন ও এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত ৩৬ বছর বয়সী ওই কোচের নাম অভিজিৎ মন্ডল। তার বিরুদ্ধে যৌন অপরাধ থেকে শিশুদের সুরক্ষা আইন বা পকসো আইনের কঠোর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে ভেসাই এলাকার একটি বেসরকারি ফুটবল প্রশিক্ষণ একাডেমিতে যোগ দিয়েছিল ১৭ বছর বয়সী ওই নাবালিকা খেলোয়াড়। অভিযোগ উঠেছে, বড় টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এবং প্রথমে বিশ্বাস অর্জন করে গত তিন বছর ধরে ওই কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন কোচ অভিজিৎ।
ধর্ষণের পাশাপাশি অভিযুক্ত কোচ ওই নাবালিকার বেশ কিছু আপত্তিকর ভিডিও এবং ছবি ধারণ করে রেখেছিলেন বলে জানা গেছে। ক্রমাগত এই পাশবিক নির্যাতন ও শোষণ সহ্য করতে না পেরে নির্যাতিতা কিশোরী একপর্যায়ে কোচের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করার চেষ্টা করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত কোচ তার কাছে থাকা ভিডিও এবং ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা শুরু করেন এবং আবারও শারীরিক সম্পর্কের জন্য চাপ দেন।
এই ধারাবাহিক মানসিক ও শারীরিক হেনস্তায় বিপর্যস্ত হয়ে অবশেষে মেয়েটি তার পরিবারের কাছে পুরো ঘটনাটি খুলে বলে। এরপরই ভুক্তভোগীর পরিবার পুলিশের দ্বারস্থ হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে ভেসাইয়ের মানিকপুর থানার পুলিশ একটি প্রাথমিক তদন্ত শেষে অভিযুক্ত কোচ অভিজিৎ মন্ডলকে গ্রেফতার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, অপরাধমূলক হুমকি এবং পকসো আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করে তাকে আদালতের মাধ্যমে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার পেছনে অন্য কোনো চক্র বা আরও কেউ ভুক্তভোগী রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে জোর তদন্ত চালানো হচ্ছে।
/কহু