ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসের এক উজ্জ্বল অধ্যায়ের নাম ছিল ব্রিতো। দেশের তৃতীয় বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম কারিগর এই কিংবদন্তি ডিফেন্ডার আর নেই। ৮৬ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল দলের সদস্য এরসিলিও লুজ দে ব্রিতো, যিনি ফুটবল বিশ্বে ‘ব্রিতো’ নামেই অধিক পরিচিত ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন এক বিবৃতিতে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। তবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তার প্রয়াণের খবরে ব্রাজিলের ফুটবল অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের আবহ।
ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের সভাপতি সামির শাওদ শোকবার্তায় বলেন, ব্রিতো শুধু একজন ফুটবলার ছিলেন না, তিনি ছিলেন ব্রাজিলিয়ান রক্ষণভাগের শক্তি, সাহস ও দৃঢ়তার প্রতীক। দেশের বিশ্বকাপজয়ী ইতিহাসে তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
আরও পড়ুন
জাতীয় দলের জার্সিতে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করা ব্রিতো ব্রাজিলের হয়ে মোট ৬১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। বিশেষ করে ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপে তার পারফরম্যান্স আজও ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে অমলিন। সেই আসরে ব্রাজিলের রক্ষণভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি।
বিশ্বকাপজয়ী সেই দলে ব্রিতোর সঙ্গে ডিফেন্সে ছিলেন পিয়াজ্জা। যেখানে পিয়াজ্জা কৌশলগত দক্ষতা ও বল নিয়ন্ত্রণের জন্য পরিচিত ছিলেন, সেখানে ব্রিতো নিজের শারীরিক শক্তি, আক্রমণ ঠেকানোর সক্ষমতা এবং দৃঢ় মানসিকতার জন্য আলাদা মর্যাদা অর্জন করেছিলেন। প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভেঙে দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন ব্রাজিলের অন্যতম ভরসার নাম।
ব্রিতোর ফুটবল ক্যারিয়ার এমন এক সময়ে গড়ে উঠেছিল, যখন ব্রাজিল বিশ্ব ফুটবলে আধিপত্য বিস্তার করছিল। সেই সোনালি প্রজন্মের অংশ হয়ে দেশের ফুটবল ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছিলেন তিনি। তার অবদান শুধু একটি বিশ্বকাপ জয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তিনি ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের লড়াকু চরিত্রেরও প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছিলেন।
এদিকে কিংবদন্তি এই ফুটবলারের বিদায়ের মধ্যেই নতুন বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে ব্রাজিল। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
এএডি/